📄 ৬৭. তিনটি বড় গুনাহ থেকে বাঁচুন
কোনো কোনো মাশায়েখ বলেন, তিনটি বড় গুনাহ এমন রয়েছে, যদি আল্লাহর কোনো বান্দা সতর্ক হয়ে সেগুলো থেকে বেঁচে থাকতে পারে তাহলে তার জন্য অন্য সকল গুনাহ হতে বেঁচে থাকা সহজ হবে। গুনাহ তিনটি এই-
এক. বদজবানী অর্থাৎ কুকথা। প্রখ্যাত তাবিয়ী ইউনুস ইবনু উবাইদ রহ. বলেন— “মানুষের দুটি বিষয় ঠিক হয়ে গেলে বাকি সব ঠিক হয়ে যায়। ১. নামায ২. জবান।”
দুই. বদনেগাহী অর্থাৎ কুদৃষ্টি। এক ব্যক্তি যখন হাসান বসরী রহ.-কে বলল, অনারব নারীরা তাদের বক্ষ ও মাথাকে খোলা রাখে, তখন তিনি বললেন— “তোমার চোখ ফিরিয়ে রেখো।”
ইয়াহইয়া ইবনু যাকারিয়া আলাইহিসসালামকে জিজ্ঞেস করা হল, ব্যভিচারের শুরুটা কিভাবে হয়? তিনি বললেন— “চোখ ও কামনা থেকে।”
তিন. বদগুমানী অর্থাৎ কুধারণা। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— “তোমরা ধারণা থেকে বেঁচে থাক। কারণ ধারণা ভিত্তিক কথাই হল সবচেয়ে বড় মিথ্যা কথা।”
টিকাঃ
২৩৪ হিলয়াতুল আউলিয়া: ৩/১৫
২৩৫ সহীহ বুখারী, পরিচ্ছেদ ৭৯/২
২৩৬ ইতহাফুস সাদাহ: ৭/৪৩৩
২৩৭ বুখারী: ৪৮৪৯, ৫১৪৩
📄 ৭০. নিম্নোক্ত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়ুন
এক. “হে আমাদের রব! আপনি হেদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহাদাতা।”
দুই. আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে দোয়া করতেন— “হে আল্লাহ! আপনার কাছে সুস্থতা, গুনাহমুক্ত জীবন, আমানতদারিতা, উত্তম চরিত্র ও তাকদিরের উপর সন্তুষ্টি প্রার্থনা করছি।”
তিন. “হে আল্লাহ! আপনার প্রতি এমন ভীতি আমাদেরকে দান করুন, যা আমাদের মাঝে এবং আমাদের গুনাহের মাঝে প্রতিবন্ধক হবে এবং এমন আনুগত্য দান করুন, যা আমাদেরকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছাবে।”
চার. শাকল ইবন হুমায়দ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী এর কাছে এসে বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি আমাকে পানাহ চাওয়ার একটি দোয়া শিখিয়ে দিন যদ্বারা আমি পানাহ চাইব। তিনি তখন আমার হাত ধরে বললেন, বলো— “হে আল্লাহ! আমি পানাহ চাই আপনার কাছে আমার কানের অনিষ্ট থেকে, চোখের অনিষ্ট থেকে, জিহ্বার অনিষ্ট থেকে, আমার হৃদয়ের অনিষ্ট থেকে এবং বীর্যের অনিষ্ট থেকে।”
পাঁচ. আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রাযি. বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ এর অন্যতম দোয়া ছিল— “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নেয়ামতের বিলুপ্তি, আপনার অনুকম্পার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সমস্ত ক্রোধ থেকে।”
ছয়. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ দোয়া করতেন— “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়াত, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা ও প্রাচুর্য্যতার প্রার্থনা করছি।”
সাত. “হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন। আমার অন্তর পরিষ্কার করুন এবং আমার চরিত্র রক্ষা করুন।”
আট. “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে গর্হিত চরিত্র, গর্হিত কাজ ও কুপ্রবৃত্তি হতে আশ্রয় চাই।”
নয়. শাহর ইবন হাওশাব রহ. থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামা রাযি.-কে বললাম, হে উম্মুল মুমিনীন! রাসূলুল্লাহ যখন আপনার কাছে অবস্থান করতেন তখন অধিকাংশ সময় তিনি কী দোয়া করতেন? তিনি বললেন, তাঁর অধিকাংশ দোয়া ছিল— “হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তর আপনি আপনার দীনের ওপর সুদৃঢ় রাখুন।”
দশ. “কলবসমূহ পরিচালনাকারী হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কলবকে আপনার আনুগত্যের ওপর স্থির রাখুন।”
আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে আমল করার তাওফীক দান করুন আমীন।
টিকাঃ
২৪৪ সূরা আলি ইমরান: ০৮
২৪৫ বাহরুল ফাওয়াইদ: ১৫
২৪৬ তিরমিযী: ৩৫০২
২৪৭ তিরমিযী: ৩৪৯২
২৪৮ মুসলিম: ২৭৩৯
২৪৯ মুসলিম: ২৭৩৯
২৫০ আহমদ: ২২২১১
২৫১ তিরমিযী: ৩৫৯১
২৫২ তিরমিযী: ৩৫২২
২৫৩ মুসলিম: ৬৫০৯