📄 যে আয়াত শুনে এক রোমান ব্যবসায়ী ইসলাম গ্রহণ করেন
একদিন ওমর রাযি. মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে আছেন। এমন সময় হঠাৎ এক রোমান ব্যবসায়ী এসে ঠিক তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে বলে ওঠলো
অনা আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। তাঁর কোনো শরীক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই হযরত মুহাম্মদ সা. আল্লাহর রাসূল। ওমর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন? কী হলো তোমার? আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইসলাম গ্রহণ করেছি। -লোকটি উত্তর দিল। ওমর রাযি. বললেন তোমার ইসলাম গ্রহণের বিশেষ কোনো কারণ আছে কি? সে তখন বলল
হ্যাঁ! আমি তাওরাত জাবুর ইঞ্জিলসহ অতীত নবীদের অনেক কিতাব পড়েছি। কিন্তু সম্প্রতি, একজন মুসলিম বন্দী কুরআনের একটি আয়াত তেলাওয়াত করছিল, যেটিতে পূর্বের সব কিতাবের সব বিষয় চলে এসেছে। তখন আমি বুঝে গিয়েছি যে, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। তাই আমি ইসলাম গ্রহণ করেছি।
ওমর রাযি. জিজ্ঞেস করলেন, কোন আয়াত সেটি? তখন রোমান ব্যবসায়ী আয়াতটি তেলাওয়াত করে
যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, আল্লাহকে ভয় করে ও তাঁর অবাধ্যতা পরিহার করে চলে, তারাই সফল হয়।
ওমর রাযি. বললেন, আয়াতটিতে তুমি কী দেখলে? সে উত্তর দিল
যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করে-এটা আল্লাহ তাআলার ফরজ বিধানাবলির সঙ্গে সম্পর্কিত।
যে ব্যক্তি রাসুলের অনুসরণ করে- এটা নবীর সুন্নতের সঙ্গে সম্পর্কিত। যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে- এটি অতীত জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ অতীত জীবনে যত অপরাধ হয়েছে, তার জন্য আল্লাহকে ভয় করে। যে অবাধ্যতা পথ পরিহার করে তাকওয়ার পথে চলে- এটি ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কিত।
তারাই সফল হয়- আর সফল তো সে-ই যে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করে। ওমর রাযি. রোমান ব্যবসায়ীর এ কথা শুনে বলেন যে নবীজীর কথায় এর সত্যতা আছে। কারণ তিনি বলেছেন
আমাকে সংক্ষিপ্ত শব্দ অথচ তার অর্থ ব্যাপক এমন কথা বলার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
টিকাঃ
২০১ সুরা আননূর: ৫২
২০২ তাফসিরে কুরতুবি: ১২/২৫৬
📄 এক ইউরোপিয়ান তরুণীর কান্না
একবার তাবলীগ জামাতের একটি দল এডমবরা গিয়েছিল। মসজিদে সবেমাত্র মাগরিবের নামায শেষ হয়েছে। এক তরুণী এসে জামাতের একজনকে জিজ্ঞেস করলো, ইংরেজি জানো? লোকটি বলল, হ্যাঁ, জানি। মেয়েটি জিজ্ঞেস করলো, তোমরা এখানে কী করলে? লোকটি উত্তর দিল, আমরা ইবাদত করেছি। মেয়েটি বলল, আজ আবার কিসের ইবাদত, আজ তো রোববার নয়? জামাতের লোকটি উত্তর দিল, আমরা আল্লাহর ইবাদত প্রতি দিন পাঁচ বার করি। এরপর লোকটি মেয়েটিকে ইসলাম সম্পর্কে আরও কিছু ধারণা দিল। লোকটি ছিল যুবক। তার কথাবার্তা শোনার পর মেয়েটি হ্যান্ডশেক করার জন্য তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল। জামাতের যুবকটি তখন বিনয়ের সঙ্গে বলল, দুঃখিত, আমি তোমার সঙ্গে হাত মেলাতে পারব না। মেয়েটি হয়ে আশ্চর্য জিজ্ঞেস করলো, কেন? যুবক উত্তর দিল, এই হাত দিয়ে আমি কেবল আমার স্ত্রীকে স্পর্শ করি। এছাড়া অন্য কোনো নারীকে স্পর্শ করি না। এটা আমার স্ত্রীর আমানত।
এ কথা শোনার পর মেয়েটি ডুকরে ডুকরে করে কাঁদতে থাকে এবং কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়ে। সে বিলাপ করে বলতে থাকে, তুমি যে মেয়ের স্বামী সে খুব ভাগ্যবান। আহা! আমাদের ইউরোপের পুরুষরা যদি এমন হত!