📄 ইন্টারনেট ব্যবহারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
বর্তমানের গুনাহের সবচেয়ে বড় উপকরণের নাম- ইন্টারনেট। এই ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যায় বা গুনাহের অনেকগুলো পথ খুলে গিয়েছে। এটি প্রয়োজনের কথা বলে আসে, তারপর শুরু হয় গুনাহের উদ্দাম চর্চা। যদি আপনার আসলেই ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে, তাহলে যখন ব্যবহার করবেন তখন বিসমিল্লাহ বলে শুরু করুন। দেখবেন, অশ্লীল কোনো কিছু সামনে চলে আসলে আপনার বিসমিল্লাহ আপনাকে রিমাইন্ডার দিবে যে, আল্লাহর নামে শুরু করে তুমি এখন কী করছো! এভাবে আপনার ঈমানী-বিবেক আপনাকে গুনাহ থেকে বাঁধা দিবে।
📄 কাজের শুরুতে কেন বিসমিল্লাহ?
রাত-দিন মোট ২৪ ঘণ্টা। পাঁচ ঘণ্টার জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামায আর অবশিষ্ট ১৯ ঘণ্টার জন্য ১৯টি হরফ দান করা হয়েছে। যেন ১৯ ঘণ্টার প্রতিটি মুহূর্ত; কাজ ও ব্যস্ততা ১৯টি হরফের বরকতে ইবাদতের মধ্যে গণ্য হয়। অর্থাৎ “بسم الله الرحمن الرحيم” এর বরকতে ১৯ ঘণ্টাও ইবাদতরূপে বিবেচিত হয়।
টিকাঃ
১৬৮ তাফসিরে আজীজী: ০১/১৬
📄 বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করার তিন ফায়দা
কোনো কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করলে কমপক্ষে তিনটি ফায়দা পাওয়া যায়।
প্রথমত, বহু গুনাহ থেকে বাঁচা যায়। যেমন একটু আগে বলেছিলাম যে, আল্লাহর নামে কাজ শুরুর অভ্যাস তাকে এ কথা ভাবতে বাধ্য করবে যে, আসলেই কি এই কাজ শুরুর পূর্বে আল্লাহর নাম নেওয়া সমীচীন?
দ্বিতীয়ত, জায়েয ও নেক কাজ শুরুর পূর্বে আল্লাহর নাম নিলে মানুষের মস্তিষ্ক যথার্থ সিদ্ধান্তে উপনীত হবে এবং সবসময় সঠিকরূপে নিজের কর্মপদ্ধতি নির্ধারণ করতে পারবে।
তৃতীয়ত, সবচেয়ে বড় ফায়দা হলো, যখন সে আল্লাহর নামে নিজের কাজ শুরু করবে তখন আল্লাহর সাহায্য ও সন্তুষ্টি তার সাথে থাকবে। তার কর্মতৎপরতায় বরকত নাযিল হবে। তাকে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও চক্রান্ত থেকে রক্ষা করা হবে। আল্লাহর স্বভাব হলো, বান্দা যখন তাঁর প্রতি মনোনিবেশ করে তখন তিনিও তাঁর প্রতি কুদরতিভাবে মনোনিবেশ করেন।
📄 বিশর হাফী রহ.
বিশর হাফী রহ. প্রথম জীবনে ছিলেন একজন শরাবখোর, সারাদিন শরাবখানায় মাতাল হয়ে থাকতেন, আজেবাজে কাজ করতেন। একদিন তিনি কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিসমিল্লাহ লিখিত একটি কাগজ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখলেন। তিনি সেটি উঠিয়ে নিলেন।
এ সময় তার কাছে দুই দিরহাম ছাড়া আর কিছু ছিল না। তিনি তা দিয়ে সুগন্ধি কিনে ঐ কাগজকে সুগন্ধিময় করলেন। এর ফলশ্রুতিতে স্বপ্নে আল্লাহ তাআলার দিদার নসীব হয়। আল্লাহ তাআলা তাকে লক্ষ্য করে বললেন—
“হে বিশর! তুমি আমার নাম সুগন্ধিময় করেছ, আমি তোমার নাম দুনিয়া ও আখেরাতে সুগন্ধিময় করবো।”
টিকাঃ
১৬৯ তাফসিরে কাবীর: ১/১৭৩