📄 ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে একবারও ঝগড়া-বিবাদ হয়নি
ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহ. যখন বিয়ে করতে মনস্থির করেন তখন তার চাচীকে বলেন, অমুক শায়খের বাড়িতে দু'জন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে, আপনি তাদের দেখে আসুন এবং তাদের সম্পর্কে আমাকে জানান। চাচী মেয়ে দুটিকে দেখে আসার পর ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বলের কাছে তাদের বর্ণনা দিতে শুরু করলেন। তিনি বাড়ির ছোট মেয়ের ব্যাপারে অনেক প্রশংসা করলেন। ফর্সা চেহারা, তার চোখ ও চুলের সৌন্দর্য, দীর্ঘতা বর্ণনায় পঞ্চমুখ হলেন। ইমাম আহমদ তখন তাকে বড় মেয়েটির ব্যাপারে বলতে বললেন। বড় মেয়েটির ব্যাপারে তিনি অনেকটা তাচ্ছিল্যের সঙ্গে বললেন, অবিন্যস্ত চুল, খর্বকায় উচ্চতা, শ্যাম বর্ণ এবং একটি চোখে ত্রুটি থাকার কথা। এরপর ইমাম আহমদ তাকে দু'জনের দীনদারির ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে চাচী বললেন, বড় মেয়েটি দীনদারির দিক থেকে ছোট মেয়ের তুলনার বেশ এগিয়ে।
এ কথা শুনে ইমাম আহমদ বললেন, তাহলে আমি বড় মেয়েটিকেই বিয়ে করব।
বিয়ের ত্রিশ বছর কেটে যাওয়ার পর ইমাম আহমদের স্ত্রী মৃত্যুবরণ করলেন। দাফনের সময় ইমাম আহমদ বললেন, ইয়া উম্মা আবদিল্লাহ! মহান আল্লাহ তোমার কবর শান্তিময় রাখুন। দীর্ঘ ত্রিশ বছরের বৈবাহিক জীবনে আমাদের মধ্যে একবারও ঝগড়া-বিবাদ হয়নি।
একথা শুনে তাঁর এক ছাত্র অবাক হয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া শায়খ! এটা কীভাবে সম্ভব?
জবাবে ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহ. বললেন, যখনই আমি তার প্রতি রেগে যেতাম তখন তিনি চুপ থাকতেন, আর যখন তিনি আমার প্রতি রেগে যেতেন তখন আমি চুপ থাকতাম। তাই আমাদের মধ্যে কখনোই ঝগড়া-বিবাদ হয়নি।
টিকাঃ
১৬৫ আল ইলমু ওয়াল উলামা: ৩৩৬
📄 স্ত্রীর সামনে পরিপাটি হয়ে থাকা
স্ত্রীর সামনে নিজেকে সুন্দর পরিপাটি করে রাখাও স্ত্রীকে অন্য পুরুষের আকর্ষণ থেকে বিরত রাখতে পারে।
ইবনু আব্বাস রাযি. বলেন—
“আমি আমার স্ত্রীর জন্য সুসজ্জিত হতে ঐরূপ পছন্দ করি যেভাবে আমার জন্য তার সুসজ্জিত হওয়া পছন্দ করি।”
টিকাঃ
১৬৬ তাফসীরে কুরতুবী: ৫/৯৭
📄 নেককার স্ত্রী
আবূ সুলাইমান আদ-দারানী রহ. বলেন—
“নেককার স্ত্রী শুধু দুনিয়াতে নয়; বরং তোমাকে আখেরাতের দিকেও পুরোপুরি নিয়োজিত করে তোলে।”
টিকাঃ
১৬৭ ইহয়াউ উলূমিদ্দীন: ২/৩১