📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 ৩১.প্রতিদিন সকালে ‘মুশারাতা’ তথা মনের সঙ্গে অঙ্গীকার করুন

📄 ৩১.প্রতিদিন সকালে ‘মুশারাতা’ তথা মনের সঙ্গে অঙ্গীকার করুন


সকালে ঘুম থেকে জেগে নফসের কাছে এ মর্মে অঙ্গীকার নেবে- 'আজ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো গুনাহ করবো না। আমার দায়িত্বে যত ফরয, ওয়াজিব এবং সুন্নাত আছে সব ঠিকমত আদায় করবো। আমার ওপর আল্লাহর যত হক আছে, বান্দার হক আছে সব পুরোপুরি আদায় করবো। হে নফস! মনে রেখ, ভুলক্রমে অঙ্গীকারের বিপরীত কোনো কাজ করলে তোমাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।' এই হলো প্রথম কাজ। ইমাম গাযালী রহ. এর নাম দিয়েছেন 'মুশারাতা' বা 'আত্ম-অঙ্গীকার'। শাইখুল ইসলাম মুফতী তাকী উসমানী বলেন, ইমাম গাযালী রহ.-এর কথার সাথে একটু সংযোগ করে বলা যায়, এই 'আত্ম-অঙ্গীকারের' পর আল্লাহর কাছে দোয়া করা- 'হে আল্লাহ! আজ আমি গুনাহ করবো না বলে অঙ্গীকার করেছি। আমি সব ফরজ, ওয়াজিব আদায় করবো। শরীয়ত অনুযায়ী চলবো। হুকুল্লাহ এবং হুকুকুল ইবাদ সঠিকভাবে আদায় করবো। কিন্তু ইয়া মাবুদ! আপনার তাওফীক ছাড়া এই প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। যেহেতু আমি পণ করেছি, তাই আপনি আমাকে তাওফীক দিন। আমাকে প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা থেকে রক্ষা করুন। পুরোপুরিভাবে এ প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন।'

📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 ৩২. পুরো দিন নিজের আমলের ‘মুরাকাবা’ করুন

📄 ৩২. পুরো দিন নিজের আমলের ‘মুরাকাবা’ করুন


'মুশারাতা' তথা মনের সঙ্গে অঙ্গীকার করার পর নিজের কাজে বেরিয়ে যান। চাকরি করলে চাকরিতে, ব্যবসা করলে ব্যবসায়, দোকান করলে দোকানে চলে যান। সেখানে গিয়ে একটি কাজ করুন যে, প্রতিটি কাজ শুরু করার আগে একটু ভেবে দেখুন, এই কাজটি প্রতিজ্ঞার খেলাফ কি-না। এই শব্দ যা উচ্চারণ করছি তা প্রতিজ্ঞা পরিপন্থী কি-না। যদি প্রতিজ্ঞা পরিপন্থী মনে হয় তাহলে তা থেকে বাঁচার চেষ্টা করুন। এটাকে ইমাম গাযালী রহ. বলেছেন 'মুরাকাবা'।

📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 ৩৩. শোয়ার আগে ‘মুহাসাবা’ করুন

📄 ৩৩. শোয়ার আগে ‘মুহাসাবা’ করুন


মুশারাতা ও মুরাকাবা করার পর আরেকটি কাজ করতে হবে শোয়ার আগে, আর তা হলো 'মুহাসাবা' অর্থাৎ নফসকে বলবেন-
তুমি সারাদিন গুনাহ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে। প্রতিটি কাজ শরিয়তমত করবে। হুকুকুল্লাহ তথা আল্লাহর হক ও হুকুকুল ইবাদ তথা বান্দার হক ঠিক মত আদায় করবে বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলে। এখন বলো, কোন কাজ তুমি প্রতিজ্ঞামত করেছ, আর কোন কাজ প্রতিজ্ঞামত করনি? সকালে যখন বাড়ি ত্যাগ করলে তখন অমুক লোককে কী বলেছ? চাকরির ক্ষেত্রে গিয়ে নিজ দায়িত্ব কতটুকু পালন করেছ? ব্যবসা কীভাবে পরিচালনা করেছ? হালালভাবে না হারাম পদ্ধতিতে? যত লোকের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে তাদের হক কীভাবে আদায় করেছ? বিবি-বাচ্চার হক কীভাবে আদায় করেছ? ইমাম গাযালী রহ. বলেন, এভাবে যাবতীয় কাজের হিসাব নেয়াকে 'মুহাসাবা' বলা হয়।
'মুহাসাবা'র ফলাফল যদি এই হয় যে, 'সকালের প্রতিজ্ঞায় আপনি সফল' তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন। শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ তাআলা তা বৃদ্ধি করে দেন।
কিন্তু 'মুহাসাবা'র ফলাফল যদি এই দাঁড়ায় যে, অমুক স্থানে প্রতিজ্ঞার পরিপন্থী কাজ করেছেন, অমুক সময় প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেছেন, পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছেন এবং স্বীয় কৃত প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকতে পারেননি, তাহলে তৎক্ষণাৎ তাওবা করুন, বলুন, হে আল্লাহ! আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, কিন্তু শয়তানের প্ররাচনায়, প্রবৃত্তির তাড়নায় প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকতে পারিনি। হে মাবুদ! আমি আপনার কাছে তাওবা করছি এবং ক্ষমা চাচ্ছি। আপনি আমার তাওবা কবুল করে আমার পাপ মাফ করে দিন। ভবিষ্যতে আমাকে প্রতিজ্ঞার ওপর অটল থাকার তাওফীক দান করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00