📄 অলসতা দূর করে ফযর নামাযে যোগদানের কিছু টিপস
১. যখন আপনার মাঝে রোগটি দেখা দিবে, ঠিক ওই মুহূর্তে ভাবুন, এটা তো মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়; বরং এটা তো মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। হ্যাঁ, আল্লাহ তাআলা কুরআন মজিদে এমনটাই বলেছেন যে
وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَى তারা নামাযে আসে অলসতার সাথে ব্যয় করে সঙ্কুচিত মনে। ১১০ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
لَيْسَ صَلاةُ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنْ صَلاةِ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوا মুনাফিকদের উপর ফযর ও এশার নামায অপেক্ষা অধিক ভারী নামায আর নেই। যদি তারা এর ফজিলত ও গুরুত্ব জানত, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে বা পাছার ভরে অবশ্যই মসজিদে উপস্থিত হত। ১১১
২. জীবনে যারা নেককার, উদ্যমী, আমলকারী ও আল্লাহওয়ালা ছিলেন এমন ব্যক্তিবর্গের লেখা ও জীবনী পড়ুন। যাতে আল্লাহর রাস্তায় চলার ক্ষেত্রে আপনার সামনে কিছু উত্তম আদর্শ থাকে।
৩. ফযরে উঠতে দৃঢ় ইচ্ছা যদি আপনি করেন, তবে কখনোই রাত জাগবেন না। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ুন, যাতে একদিকে আপনার ঘুমও পূর্ণ হয়, অন্যদিকে যথাসময়ে ফযরের জন্য উঠতেও পারেন।
৪. বিছানায় যাওয়ার আগে অযু করে নিন। যদি আপনি পবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে যান, তবে ফেরেশতারা আপনার ঘুম থেকে জাগার আগ পর্যন্ত আপনার জন্য দোয়া করতে থাকবে।
৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ ঘুমানোর সময় ডান কাত হয়ে, ডান হাতকে ডান গালের নিচে রেখে ঘুমাতেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর অনুকরণে ঘুমের জন্য শোয়ার এই অবস্থা একদিকে যেমন ঘুমের জন্য সহায়ক, অন্যদিকে ফযরে যথাসময়ে ঘুম থেকে ওঠার জন্যও কার্যকর।
৬. বিছানায় যাওয়ার সময় কিছু কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে নিন। বিশেষ করে সূরা সাজদাহ, সূরা মুলক, সূরা ইসরা, সূরা যুমার, সূরা কাহফের শেষ চার আয়াত, সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত ইত্যাদি এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৭. একাধিক অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন। আওয়াজ যত বেশি হবে, ততই ভালো! অ্যালার্ম ঘড়ি হাতের কাছে বা বিছানার পাশে না রেখে দূরে রাখুন যাতে করে আপনাকে বিছানা থেকে উঠে গিয়ে ঘড়ি বন্ধ করতে হয়। এতে ঘুম থেকে ওঠার পাশাপাশি আপনার নিদ্রার ভাব কাটার জন্যও সহায়ক হবে।
৮. পরিবারের সদস্যদের বলুন, যদি তারা উঠতে পারে তবে ডেকে দেওয়ার জন্য। তেমনিভাবে আপনিও উঠতে পারলে তাদের ফযরের নামায আদায়ের জন্য ডেকে দিন।
৯. যে দিন ফযরে উঠতে পারবেন না, সে দিন অন্তরে লাগে পরিমাণ সাদকা করে নিজেকে শাস্তি দিন।
১০. বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের ঘুম দেড় ঘণ্টার একটি চক্র অনুসরণ করে। সুতরাং আপনি যদি দেড় ঘণ্টা বা এর গুনিতক সময় যথা তিন ঘণ্টা, সাড়ে চার ঘণ্টা বা ছয় ঘণ্টা ঘুমান, তবে আপনি ক্লান্তিহীনভাবে ঘুম থেকে উঠতে পারবেন। তা না হলে আপনি যত সময়ই ঘুমান না কেন, আপনার ক্লান্তি দূর হবে না। সুতরাং আপনি যদি রাত বারোটায় ঘুমাতে যান এবং ফযরের সময় যদি পাঁচটার দিকে হয়, তবে সাড়ে চারটার দিকে অ্যালার্ম দিন। ঘুমের চক্র পরিপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে ক্লান্তিহীন-ভাবে আপনি ঘুম থেকে উঠতে পারবেন।
১১. দোয়া করুন, যেন ফযরে উঠতে পারেন। কেননা যে ব্যক্তি সঠিকভাবে নেক আমল করতে পারার জন্য তাঁর রবের আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করে সে বিফল হয় না। যেমনটি রাসূলুল্লাহ ﷺ করতেন।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ
অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। ১১২
টিকাঃ
১১০ সূরা তাওবা ৫৪
১১১ বুখারী: ৬৫৭, ৬৪৪, ৬৫৭, ২৪২০, ৭২২৪
১১২ বুখারী: ২৮৯৩