📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 সর্বোত্তম নিয়ত

📄 সর্বোত্তম নিয়ত


আমাদের মাশায়েখ বলেন, নিয়ত তিন ধরণের হয়।
১. নেক আমল করার নিয়ত। যেমন এই নিয়ত করা যে, প্রতি সোম বারে সুন্নাহ-রোজা রাখবো, প্রতিদিন ইশরাকের নামায আদায় করবো, তাবলীগের চিল্লায় যাব, এত টাকা সাদকা করবো ইত্যাদি।
যেহেতু এ ধরণের নিয়ত সকল মুমিন জীবনের কোনো না কোনো সময় সাধারণত করে থাকে, সুতরাং এটিকে আমরা বলতে পারি সাধারণ নিয়ত।
২. গুনাহ না করার নিয়ত। যেহেতু উত্তম আমল হল, গুনাহ ছেড়ে দেওয়া, সুতরাং এটিকে আমরা বলতে পারি উত্তম নিয়ত।
৩. গুনাহ করার সুযোগ পেলেও গুনাহ না করার নিয়ত। নিঃসন্দেহে এটি সর্বোত্তম নিয়ত।

📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 নিয়ত-গুণে আমলের গুণ পাল্টে যায়

📄 নিয়ত-গুণে আমলের গুণ পাল্টে যায়


আব্দুল্লাহ ইবনু মুবারক রহ. বলেছেন
رُبَّ عَمَلٍ صَغِيرٍ تُكَثَّرُهُ النَّيَّةُ، وَرُبَّ عَمَلٍ كَثِيرٍ تُصَخِّرُهُ النَّيَّةُ নিয়ত-গুণে অনেক ছোট আমলও অধিক আমলে পরিণত হয়; আবার অনেক বড় আমলও ছোট আমলে পরিণত হয়। ৩৪

টিকাঃ
৩৩ মুসলিম: ১৩۱
৩৪ সিয়ার, জীবনী নং ১১২

📘 গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ৭০ টি আমল ও কৌশল > 📄 এক তালিবুল-ইলমের শিক্ষণীয় ঘটনা

📄 এক তালিবুল-ইলমের শিক্ষণীয় ঘটনা


শাহ আব্দুল আযীয দেহলভী রহ.-এর শাগরিদের ঘটনা। যে ছিল যুবক ও সুদর্শন। উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিল। মাদরাসার ছাত্র ছিল। প্রতিদিন যে রাস্তা দিয়ে সে মাদরাসায় আসা-যাওয়া করত, একটি মেয়ে তা লক্ষ্য করত। মেয়েটির মনে শয়তান কুচিন্তা ঢেলে দিল, সে ছেলেটির সঙ্গে খারাপ কাজ করার সুযোগ খুঁজতে লাগল। তার এই গোপন চিন্তা চরিতার্থ করার জন্য সে নিজের চাকরানীকে কাজে লাগাল।
একদিনের ঘটনা। ছেলেটি যথারীতি ওই রাস্তা দিয়ে মাদরাসায় যাচ্ছিল। এমন সময় চাকরানী তার কাছে গিয়ে বলল, এই ঘরে একজন রোগী আছে, তুমি তাকে একটু ফুঁ দিয়ে দাও।
এটা যে একটা কুটচাল ছিল, ছেলেটি তা কল্পনাও করেনি। তাই সে সরল বিশ্বাসে চাকরানীর সঙ্গে মেয়েটির বাড়িতে এল। ঘরে ঢুকতেই চাকরানী বাহির থেকে দরজা লাগিয়ে দিল। তারপর মেয়েটি সাজগোজ অবস্থায় ছেলেটির সামনে এসে বলল, অনেক দিন থেকেই আমি তোমাকে দেখছি। তোমার যাতায়াতের পথে প্রতিদিন আমি দাঁড়িয়ে থাকি, শুধু তোমাকে দেখার জন্য। আমি তোমাকে একান্তভাবে পেতে চাই। আমার কামনার জ্বালা পূরণ করতে চাই।
এভাবে যখন মেয়েটি খোলামেলাভাবে সব কিছু বলছিল এবং ছেলেটিকে ব্যভিচারের দিকে আহ্বান করছিল, তখন ছেলেটি ভয় পেয়ে গেল। এই ভয় ছিল আল্লাহর ভয়। আর আল্লাহ তাআলা ওয়াদা করেছেন وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا
যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার জন্য সংকট থেকে উত্তরণের কোনো পথ তৈরি করে দেবেন। ৩৫
তাই আল্লাহ তাআলা তার অন্তরে একটা বুদ্ধি দিয়ে দিলেন। ছেলেটি মেয়েটিকে বলল, তোমার সঙ্গে আমি এই কাজ করবো, ঠিক আছে, তবে এখন আমি একটু বাথরুমে যাবো। এই বলে সে বাথরুমে ঢুকল।
ওই যুগের বাথরুম পাকা ছিল না। যার কারণে সহজেই পায়খানা হাতে নেয়া যেত। ছেলেটি সেখান থেকে কিছু পায়খানা নিল এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাখাল। তারপর সে বের হয়ে মেয়েটির সামনে এসে দাঁড়াল।
এই অবস্থা দেখে মেয়েটি নাকে হাত দিয়ে ওয়াক থু করতে লাগল এবং বলল, আমার জানা ছিল না যে, তুমি এত নোংরা। দূর হও এখান থেকে। এই বলে মেয়েটি ছেলেটিকে ওখান থেকে ভাগিয়ে দিল।
ওখান থেকে বের হয়ে ছেলেটি দ্রুত মাদরাসায় চলে আসল এবং ভালো করে গোসল করে ও কাপড়ে লেগে থাকা ময়লা পরিষ্কার করে ভেজা কাপড় নিয়েই ক্লাসে গিয়ে বসল। আজ সে সকলের পিছনে বসল যেন অন্যরা কিছু বুঝতে না পারে। একটু পরে ক্লাসে উপস্থিত হলেন শাহ আব্দুল আযীয রহ.। ক্লাসে বসেই তিনি সুগন্ধির সৌরভ অনুভব করলেন। বললেন, ভাই!
মৌ মৌ সুগন্ধে আজ ক্লাসরুম ভরে গিয়েছে। এত সুন্দর সুগন্ধি আজ কে মেখে এসেছ?
উস্তাদের মুখে এই প্রশ্ন শুনে ছাত্ররা একজন আরেকজনের দিকে চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল। তখন ছেলেটির কাছে বসা এক ছাত্র বলে ওঠল, উস্তাদজী! এর কাছ থেকেই খুশবুটা আসছে।
এমনিতে ছেলেটি আগ থেকেই ভয়ে ভয়ে ছিল। এরই মধ্যে উস্তাদ তাকে ডেকে বললেন, এদিকে এসো, তোমার কাপড়চোপড় ভেজা কেন? ব্যাপারটা আমাকে খুলে বলো তো!
শাহ সাহেবের কথায় ছাত্রটি কাঁদতে লাগল। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে পুরো ঘটনা খুলে বলল। শেষে বলল, হযরত! অবাক-করা বিষয় হল, আমি শরীর ও কাপড়ের বিভিন্ন জায়গায় লাগিয়েছি পায়খানা, তারপর তা ধুয়েই ক্লাসে এসেছি। আমি তো কোনো সুগন্ধি দেই-নি। কিন্তু আপনারা পাচ্ছেন সুগন্ধ। আপনি যখন সুগন্ধির বিষয়টা বলেছেন, তখন আমি যে যে জায়গায় পায়খানা লাগিয়েছিলাম, শুঁকে দেখলাম, ওই জায়গাগুলো থেকেই সুগন্ধি ছড়াচ্ছে!
আল্লাহু আকবার! এ ঘটনা প্রমাণ করে যে ব্যক্তি গুনাহের সুযোগ পাওয়ার পরেও আল্লাহর ভয়ে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে আল্লাহ তার মর্যাদা এভাবে বাড়িয়ে দেন。
هر که عاشق شد جمال ذات را اوست سید جمله موجودات را
যে লোকটি প্রেমিক হয় আল্লাহর সৌন্দর্য্যের সে লোকটি সরদার হয় সকল সৃষ্টিজীবের।

টিকাঃ
৩৫ সূরা তালাক: ৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00