📄 ৩. আল্লাহর রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়
মানুষ গুনাহ করলে আল্লাহর রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়ে যায়। যদিও তার অনেক ধনসম্পদ থাকে, কিন্তু সে এগুলো উপভোগ করতে পারে না। লক্ষ ও কোটি টাকার মালিক, কিন্তু সে নিজে কিছুই খেতে পারে না। এমন অনেক মানুষ আছে, ধনসম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে, কিন্তু ডাক্তার বলে দিয়েছে দুই রুটির বেশি খাওয়া যাবে না। এটা খাওয়া যাবে না, ওটা খাওয়া যাবে না। এমন অনেকেই আছেন, শুধু ঘুষ ও হারাম উপায়ে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছে। মানুষকে ঠকিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে। গরিব অসহায়দের হক মেরে খেয়েছে। জনগণের সম্পদ লুটপাট করেছে, সরকারি সম্পদ অবৈধভাবে নিজের নামে করে নিয়েছে। আরও কতো কী করেছে। কিন্তু শেষ জীবনে গিয়ে সে কিছুই উপভোগ করতে পারে না। নবীজী বলেন
إِنَّ الرَّجُلَ لَيُحْرَمُ الرِّزْقَ بِالذَّنْبِ يُصِيبُهُ নিশ্চয়ই ব্যক্তি গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণে রিযিক থেকে বঞ্চিত হয়। ১২ আলী রাযি. বলেন
إِذَا كُنْتَ فِي نِعْمَةٍ فَارْعَهَا. فَإِنَّ الذُّنُوبَ تُزِيلُ النِّعَمْ যদি তুমি আল্লাহর অনুগ্রহের মধ্যে থাকো তাহলে তার যত্ন নাও। কারণ গুনাহ নেয়ামত দূর করে দেয়। ১৩
টিকাঃ
১২ মুসনাদ আহমাদ: ৫/২৭৭ ইবনু মাজাহ: ৯০
১৩ ইবনুল কায়্যিম, আদ-দা ওয়াদদাওয়া: ১/৭৫ ২২
📄 ৪. কাজের মধ্যে বরকত শেষ হয়ে যায়
গুনাহের কারণে কাজের মধ্যে বরকত শেষ হয়ে যায়। ছোট ছোট কাজে বড় বড় সমস্যা ছুটে আসে। যাপিত-জীবনের কষ্ট ও চেষ্টা সফলতার মুখ দেখে না। আপাত-দৃষ্টিতে কাজ সম্পন্ন মনে হলেও যথা সময়ে কাজ অসম্পন্ন দেখা যায়। পেরেশানি ও টেনশনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মানুষ মনে করে, কেউ কিছু একটা করেছে। অথচ সে নিজের আত্মিক-কলুষতার কারণে বিপদাপদের মধ্যে পড়ে থাকে। নিজেই স্বীকার করে যে, একটা সময় ছিল যখন সে মাটিতে হাত রাখলেও সোনা হয়ে যেত। আর এখন সোনায় হাত রাখলেও মাটিতে পরিণত হয়। এসবই গুনাহের কারণে হয়।
جب میں کہتا ہوں کہ یا اللہ میرا حال دیکھ حکم ہوتا ہے کہ اپنا نامۂ اعمال دیکھ
যখন বলি, ইয়া আল্লাহ! আমার অবস্থা দেখুন। নির্দেশ আসে, তুমি নিজের আমলনামাটা দেখো।
আল্লাহ তাআলা বলেন وَمَا أَصَابَكُمْ مِنْ مُصِيبَةٍ فَبِمَا كَسَبَتْ أَيْدِيكُمْ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ তোমাদের উপর যে মুসিবত আসে, তা তোমাদেরই কর্মের ফলে। আর তিনি তোমাদের অনেক কিছুই ক্ষমা করে দেন। ১৪
টিকাঃ
১৪ সূরা শূরা: ৩০
📄 ৫. প্রিয়জনরা দূরে সরে যায়
কখনও এমন চিত্রও দেখা যায় যে, এই সম্পদের কারণেই তার জীবন দিতে হয়। সন্তানও যেই প্রিয়জনদের কারণে এত কিছু করেছে, তারা তার চেয়ে তার সম্পদকেই বেশি ভালোবাসে। সে হয়ে যায় অবহেলিত ও বঞ্চিত। আয়শা রাযি. বলেন إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا عَمِلَ بِمَعْصِيَةِ اللهِ عَدَّ حَامِدَهُ مِنَ النَّاسِ ذَامًا বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করে তখন আল্লাহ তাআলা ওই বান্দার প্রশংসাকারীকে নিন্দাকারী বানিয়ে দেন। ১৫ ফুযাইল বিন ই'য়ায রহ. বলেন إني لأعصي الله؛ فأعرف ذلك في خُلُق دابتي وجاريتي আমি যখন আল্লাহর নাফরমানি করি, তখন আমি এর কুপ্রভাব আমার গৃহপালিত পশু ও আমার পরিচারিকার আচরণ-প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে বুঝতে পারি। ১৬
টিকাঃ
১৫ সহীহ ইবনু হিব্বান: ২৭৭
১৬ ইবনুল জাওযী, সায়দুল খাত্বির: ৩১
📄 ৬. মুমিনদের অন্তরে তার ব্যাপারে ঘৃণা তৈরি হয়
অনবরত গুনাহে নিমজ্জিত ব্যক্তির ব্যাপারে মুমিনদের অন্তরে ঘৃণা তৈরি হয়। আবুদ্দারদা রাযি. বলেন
إِنَّ الْعَبْدَ يَحْلُو بِمَعَاصِي اللهِ فَيُلْقِي اللهُ بُغْضَهُ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ حَيْثُ لَا يَشْعُرُ বান্দা গোপনে আল্লাহ তাআলার নাফরমানি করে। ফলে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্তরে তার ব্যাপারে এমনভাবে ঘৃণা তৈরি করে দেন যে, সে টেরও পায় না। ১৭