📄 ইবাদতের ব্যাপারে অনুভূতিহীন হওয়া
এক ছাত্র তার শায়খকে বলল, শায়খ, আমরা আল্লাহর কত অবাধ্য হই, অথচ তিনি আমাদেরকে শাস্তি দেন না। শায়খ জবাব দেন, আল্লাহ তাআলা তোমাকে কত যে শাস্তি দেন অথচ তুমি টের পাও না! এরপর শায়খ কথাটির ব্যাখ্যা করতে থাকেন। তিনি বলেন, আল্লাহ কি তোমার কাছ থেকে তাঁর কাছে মুনাজাতের স্বাদ তুলে নেন নি! আর একজন ব্যক্তির জন্য তার অন্তর কঠিন হয়ে যাওয়ার চেয়ে বড় শাস্তি আর নেই। তোমার কি ইবাদতকে ভারি মনে হয় না? তুমি কি আল্লাহর যিকির থেকে তোমার জিহ্বাকে গাফেল দেখো না? পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ছাড়া তোমার কি দিন অতিবাহিত হয় নি?
তোমার কি এমন অসংখ্য রাত অতিবাহিত হয় নি, যে রাতগুলোতে তুমি রাতের ইবাদত থেকে মাহরুম ছিলে?
তোমার সামনে কি কল্যাণের মওসুমগুলো: রমজান, শাওয়ালের ছয় রোজা, জিলহজের প্রথম দশদিন, শাহরুল্লাহিল মুহাররাম অতিবাহিত হয় নি? অথচ তুমি এসবের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারো নি! এর চেয়ে বেশি শাস্তি আর কী হতে পারে?
তুমি কি প্রবৃত্তির সামনে দুর্বলতা অনুভব করো না? তুমি কি তোমার অন্তরকে সম্পদ, সম্মান এবং খ্যাতির ভালোবাসায় পূর্ণ পাও না?
উত্তম আদর্শের ব্যক্তিত্ব-যাদের অনুসরণ তোমার নেকি বৃদ্ধি করে- তাদেরকে বাদ দিয়ে নষ্ট মডেল আর সেলিব্রেটিদের সংবাদ ফলো করতে গিয়ে কি তুমি সময় কাটাও না? এর চেয়ে বেশি শাস্তি আর কী হতে পারে?!
গীবত, চোগলখোরি আর মিথ্যাকে কি তোমার জিহ্বায় যিকিরের চেয়ে বেশি সহজ মনে হয় নি?
আখেরাতে কোনো কাজে আসবে না এরকম অনর্থক বিষয়ে কি তুমি নিজেকে ব্যস্ত রাখো নি?
আখেরাতকে ভুলে দুনিয়াকে কি তুমি তোমার সমস্ত চিন্তার কেন্দ্রে পরিণত করো নি?
এসব অবনতি আল্লাহর শাস্তির বিভিন্ন রূপ বৈ আর কিছু নয়।
বৎস! তুমি সতর্ক হও। মনে রাখবে, আল্লাহর সবচেয়ে হালকা শাস্তি হচ্ছে, সম্পদ, সন্তান কিংবা স্বাস্থ্যের ব্যাপারে অধিক 'বাস্তববাদী' বা 'অনুভূতিশীল' হওয়া।
আর সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো, কলবের ব্যাপারে 'অনুভূতিহীন' হওয়া। ৭ হুযায়ফা ইবনু ক্বাতাদা রহ. বলেন
টিকাঃ
৭ ড. আলী আসসাল্লাবীর পেইজ থেকে অনূদিত