📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 বিপদগ্রস্তকে সর্বাগ্রে সাহায্য করা

📄 বিপদগ্রস্তকে সর্বাগ্রে সাহায্য করা


একটি ছেলে নদীতে মনের আনন্দে গোসল করছিল। হঠাৎ সে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হ'ল। তীরে একটি লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে লাগল। তীরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে না গিয়ে উল্টো এই বলে ধমকাতে লাগলো যে, সাঁতার না জেনে একা একা নদীতে কেন নামতে গেলে? এভাবে কেউ নামে? উযবুক কোথাকার! ছেলেটি বলল, আগে আমাকে উদ্ধার কর। তারপর উপদেশ দিও।

শিক্ষা: বিপদগ্রস্তকে আগে সাহায্য করতে হবে। তারপর প্রয়োজনে উপদেশ দিতে হবে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 সময়ের কাজ সময়ে করা

📄 সময়ের কাজ সময়ে করা


এক দেশে ছিল এক গরীব কৃষক। তার অল্প কিছু জমি ছিল। সে জমিতে কিছু পেয়ারা গাছ লাগাল। তার নিবিড় পরিচর্যায় গাছগুলি অনেক বড় ও সুন্দর হয়ে উঠল। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ধরল প্রচুর পেয়ারা। সে নিজে খাওয়ার পরেও একদিন কিছু পেয়ারা গাছ থেকে নামিয়ে বাড়ির কাছে ছোট্ট বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। পেয়ারা কেনার জন্য অনেক ক্রেতা আসল। ক্রেতাদের মধ্যে একজনের পেয়ারা কেনার টাকা ছিল না। কিন্তু তরতাজা পেয়ারা খাওয়ার জন্য তার খুব লোভ হ'ল। কি করে পেয়ারা খাওয়া যায়, সেজন্য সে ঐ কৃষকের সাথে আলাপ শুরু করল। সে বলল, বাহ! বেশ সুন্দর তরতাজা পেয়ারা যে! এর পিছনে আপনার অনেক শ্রম আছে নিশ্চয়ই। অন্যথা এত সুন্দর নিখুঁত ফল হ'তে পারে না। দেখতে যত সুন্দর খেতে তদ্রূপ মিষ্টি ও সুস্বাদু হবে নিশ্চয়ই! এসব শুনে কৃষক লোকটিকে পেয়ারা খাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু ক্রেতা পেয়ারা খেল না। অবশেষে কৃষক ঐ ব্যক্তিকে এক কেজি পেয়ারা বাকিতে দিতে চাইল। ক্রেতা প্রথমে নিতে রাযী না হ'লেও কৃষকের কথায় পরে রাযী হ'ল। ক্রেতা পুনরায় বলল, পেয়ারা খেতে ভাল হবে তো? কৃষক তখন ঝুড়ি থেকে আরো একটা পেয়ারা ক্রেতার হাতে দিয়ে বলল, খেয়ে দেখুন, এটার পয়সা লাগবে না। ভাল হ'লে নিবেন, আর ভাল না হ'লে নিতে হবে না। তখন ক্রেতা বলল, এখন খাওয়া যাবে না, আমি ছিয়াম আছি। কৃষক বলল, রামাযানের তো মাত্র দু'দিন বাকী, এই অসময়ে কিসের ছিয়াম? ক্রেতা বলল, গত রামাযান মাসের কাযা ছিয়াম আদায় করছি। কৃষক রেগে পেয়ারার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে বলল, যে আল্লাহ্র ঋণ পরিশোধ করতে এত দেরী করে, সে মানুষের ঋণ সময় মত পরিশোধ করবে কি করে?

শিক্ষা: সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়, না হ'লে ঠকতে হয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 কুরআন-হাদীছের বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়

📄 কুরআন-হাদীছের বিধান পরিবর্তনযোগ্য নয়


জনৈক ব্যক্তির চোখের সমস্যা ছিল। সে একদিন ডাক্তারের কাছে গেল। ডাক্তার একটা টেস্ট করার জন্য লিখে দিয়ে বললেন, টেস্টটি করে রিপোর্ট নিয়ে আগামীকাল দেখা করবেন। পরের দিন রিপোর্ট দেখে ডাক্তার একটা চশমা ও কিছু ঔষধ লিখে দিলেন। লোকটি চশমার দোকানে গিয়ে চশমার দাম ঠিক করল। দোকানদার বলল, চশমার ফ্রেমের দাম ২৫০ টাকা ও পাওয়ার গ্লাসের দাম ২৫০ টাকা মোট ৫০০ টাকা লাগবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ৫০০ পাওয়ারের গ্লাসের দাম কত? দোকানদার বলল, ২৫০ টাকা। লোকটি বলল, ২৫০ পাওয়ার ও ৫০০ পাওয়ারের কাঁচের একই দাম? দোকানদার বলল, হ্যাঁ। তখন লোকটি ৫০০ পাওয়ারের চশমাটি নিলো। পরের দিন বাজারে গিয়ে সে বড় বড় কৈ মাছ দেখে তা কিনে নিয়ে বাড়ি আসল। স্ত্রীকে বলল, কৈ মাছ সুন্দর করে রান্না করবে। কৈ মাছ রান্না করে স্ত্রী তার প্লেটে দিল। লোকটি বলল, কৈ মাছের মাথা কোথায় গেল? স্ত্রী বলল, মাছতো খুব ছোট ছোট, তার মাথা রাখা গেল না। তখন লোকটি স্ত্রীকে মারধর করল।

এরপর সে মাছওয়ালার কাছে এসে বলল, তোমার জন্য আমি আমার স্ত্রীকে মেরেছি। মাছওয়ালা বলল, কেন? লোকটি বলল, আমি বড় বড় দেখে কৈ মাছ কিনে নিয়ে গেলাম, অথচ বাড়ি গিয়ে দেখি তা খুবই ছোট। মাছওয়ালা বলল, আপনার চোখে সমস্যা আছে। আমি তো ছোট কৈ মাছই বিক্রি করছি। লোকটি বলল, চোখে সমস্যার কারণেই তো চশমা নিয়েছি। তখন মাছওয়ালা বলল, তাহ'লে আপনার চশমায় সমস্যা। লোকটি বলল, চশমায় সমস্যা নেই, কারণ আমি ৫০০ পাওয়ারের চশমা নিয়েছি। তুমিই আমাকে ঠকিয়েছ।

এরপর সে বাড়ি এসে স্ত্রীকে বলল, তোমার বাপের বাড়ীতে যাবে? স্ত্রী বলল, চল যাই। পথে এক বন্ধুর সাথে দেখা। স্ত্রীকে বলল, তুমি হাঁটতে থাক, আমি আসছি। কথা বলতে বলতে দেরী হয়ে গেল। স্ত্রী হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি পৌঁছে গেল। এদিকে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে। পথে ছিল একটা খাল। চশমাতে দেখা যাচ্ছে খুব ছোট। সে লাফ দিয়ে পার হ'তে গিয়ে খালের মধ্যে পড়ে গেল। খরস্রোতা খালে পড়ে তার অবস্থা কাহিল। কারণ সে সাঁতার জানে না। পানি খেয়ে খেয়ে পেট ফুলে গেছে। কোনমতে ভেসে ভেসে কূলে আসল। বাড়ীতে পৌছুলে স্ত্রী বলল, তোমার এমন দশা হ'ল কি করে? তোমার সারা শরীর ভেজা কেন? লোকটি বলল, খালে পড়ে গিয়েছিলাম। স্ত্রী বলল, তুমি কি চোখে দেখতে পাওনি? লোকটি বলল, চশমাতে দেখলাম, ছোট খাল। তাই লাফিয়ে পার হ'তে গিয়ে খালেই পড়ে গেলাম। স্ত্রী বলল, ডাক্তারের কাছে গিয়ে চশমার পাওয়ার ঠিক করে আন। লোকটি পরের দিন ডাক্তারের কাছে গিয়ে দু'টি ঘটনাই বলল। ডাক্তার চশমা পরীক্ষা করে পাওয়ার দেখে বললেন, আমিতো আপনাকে ২৫০ পাওয়ারের চশমা দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি ৫০০ পাওয়ারের চশমা কেন কিনেছেন? ডাক্তারের পরামর্শ মত চশমা না নেওয়ায় এই পরিণতি। যান চশমার পাওয়ার ঠিক করে নিন।

শিক্ষা : মুমিনকেও কেবল কুরআন ও হাদীছ অনুযায়ী আমল করতে হবে। কুরআন ও হাদীছের বিধান কস্মিনকালেও পরিবর্তনযোগ্য নয়। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) যেভাবে দেখিয়ে গেছেন ঠিক সেভাবে আমল করতে হবে। ইচ্ছামত দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করার কোন সুযোগ নাই। অন্যথা সামাজিকভাবে যেমন বিপর্যস্ত হতে হবে, তেমনি পরকালে অবস্থা হবে বেগতিক। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন- আমীন!

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 ঈমান হরণ

📄 ঈমান হরণ


অজপাড়াগাঁয়ের ছেলে লাবীব। বছর পনের হ'ল গ্রামের মায়া-মমতা ত্যাগ করে দ্বীনী জ্ঞান অর্জনের জন্য তার বাইরে যাওয়া। গ্রামে কোন ভাল আলেম ছিল না, যার কাছ থেকে গ্রামবাসী দ্বীনী ইলম শিক্ষা করবে। এতদিন পরে লাবীব যোগ্য আলেম হয়ে নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। গ্রামের লোকেরা এতে দারুণ খুশি।

আগামীকাল ২১শে ফেব্রুয়ারী, শহীদ দিবস। এটা এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভ করেছে। বিদ্যালয়সমূহে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হবে। তাই বিদ্যালয়ের ছেলে-মেয়েরা ফুল সংগ্রহে মেতে উঠেছে। বিভিন্ন প্রকার ফুল সংগ্রহ করে তারা পুষ্পাঞ্জলি তৈরী করছে। লাবীব এ দৃশ্য দেখে থমকে দাঁড়াল এবং মনে মনে ভাবল, আমিও এক সময় এমনটিই করতাম। এটা ভেবেই সে খুব মানসিক কষ্ট অনুভব করল। অতঃপর দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, হায়! এভাবেই রাষ্ট্রের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের ঈমান হরণ করছেন। এরপর সে ঐ ছেলে-মেয়েদের নিকটে আসল এবং তাদেরকে ২১শে ফেব্রুয়ারীর করণীয় ও বর্জনীয় সম্পর্কে বুঝাল। হাসান নামের একটি ছেলে ব্যতীত সবাই তার কথাকে উপেক্ষা করে চলে গেল।

পরদিন সকাল বেলা হাসান সিদ্ধান্ত নিল যে, সে ২১শে ফেব্রুয়ারী উদযাপন অনুষ্ঠানে যাবে না। কিন্তু বন্ধুদের চাপের মুখে অবশেষে তাকে যেতেই হ'ল। ছাত্র-ছাত্রীরা নগ্নপায়ে শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করল। তাদের পিছু পিছু হাসান জুতা পরে খালি হাতে নীরবে শহীদ মিনারে গেল। একজন শিক্ষক তাকে জুতা পরে শহীদ মিনারে আসতে দেখে দ্রুত তার কাছে এলেন। হাসানের ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে শহীদ মিনার থেকে নামালেন এবং একজন ছাত্রকে একটি লাঠি আনার হুকুম দিলেন। এরপর তাকে কোন জিজ্ঞাসাবাদ না করেই বেদম প্রহার করলেন। আর বেয়াদব, অসভ্য, মূর্খ ইত্যাদি বলে গালি-গালাজ করলেন। শিক্ষকের বেধড়ক লাঠির আঘাতে হাসান অসুস্থ হয়ে পড়ল।

বন্ধুরা ধরে তাকে বাড়িতে নিয়ে এল। বাবা-মা ছেলের এ অবস্থা দেখে অশ্রু ধরে রাখতে পারলেন না। হাসানকে বুকে জড়িয়ে ধরে তার মা ডুকরে কেঁদে উঠলেন। আদ্যোপান্ত ঘটনা শুনে হাসানের বাবা তাকে নিয়ে লাবীবের নিকটে আসলেন এবং তাকে সবকিছু খুলে বললেন। গ্রামের কতিপয় গণ্যমান্য লোককে সাথে নিয়ে লাবীব ও হাসানের বাবা পরদিন স্কুলে গেলেন। যে শিক্ষক হাসানকে মেরেছিল লাবীব ঐ শিক্ষককে মারার কারণ জিজ্ঞেস করল। শিক্ষক বললেন, হাসান জুতা পরে শহীদ মিনারে গিয়ে শহীদদের অপমান করেছে, এটিই তার অপরাধ। লাবীব বলল, বলুনতো পৃথিবীতে উত্তম জায়গা কোনটি, মসজিদ নাকি শহীদ মিনার? তিনি বললেন, মসজিদ। লাবীব বলল, মসজিদ উত্তম জায়গা হওয়া সত্ত্বেও পরিষ্কার জুতা পরে সেখানে ঢোকার ও ছালাত আদায়ের অনুমতি রয়েছে। আল্লাহ্ ঘর মসজিদে জুতা পরে প্রবেশ করলে অপমান করা হয় না, আর শহীদ মিনারে জুতা পরে উঠলে অপমান করা হয়? এই শিক্ষা আপনারা কোথা থেকে পেলেন? আপনারা ভাষা শহীদের জন্য ভক্তি গদগদ চিত্তে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে এসব করছেন, কিসে শহীদদের প্রকৃত মঙ্গল ও কল্যাণ হবে তা কি কখনও ভেবে দেখেছেন? ভাষা শহীদদের জন্য আপনারা কয়দিন দো'আ করেছেন? কয়দিন তাদের জন্য মাগফিরাত কামনা করেছেন? কয়দিন তাদের নাজাতের জন্য আল্লাহ্র কাছে কেঁদেছেন। তাদের জন্য কয় টাকা নিজে ছাদাক্বা করেছেন? এসব না করে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে, নীরবতা পালন করে নিজে যেমন শিরক করছেন, তেমনি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে শিরক করাচ্ছেন। এভাবে আপনারা প্রতিনিয়ত ছাত্র-ছাত্রীদের ঈমান বিনষ্ট করে চলেছেন। এজন্য অবশ্যই আপনাদেরকে আল্লাহ্র কাছে জবাবদিহি করতে হবে। লাবীবের কথায় একজন অভিভাবক বললেন, বাবা তুমি হাছা কইতাছো? তাইলে আমি আর আমার পোলারে এইহানে পড়ামু না। ওরে মাদ্রাসায় দিমু। তার কথায় সবাই সমস্বরে বলল, হ আমরাও আমাদের পোলা-মাইয়ারে মাদ্রাসায় দিমু। হাসানের বাবা বললেন, আপনে ওর শিক্ষক না অইলে আইজ আমিও বুঝাইতাম আমারে কতখানি কষ্ট দিছেন।

লাবীব সবাইকে থামিয়ে বলল, পিতারাও সন্তানদেরকে ছোটবেলা থেকে শিরক শিক্ষা দিয়ে থাকেন। একজন জিজ্ঞেস করলেন, কেমনে বাবা? লাবীব বলল, আমরা সন্তানদের কপালে কাল টিপ দেই এই বিশ্বাসে যে, তার প্রতি বদনযর লাগবে না। সন্তানদের কোমরে কালো সুতা বেঁধে দেই। অনেকে তাতে বিভিন্ন কড়ি গেঁথে দেই। একটু কিছু হ'লেই তাদের গলায় তাবীয ঝুলিয়ে দেই। এসব করি রোগ প্রতিরোধ কিংবা তাদের মঙ্গলের জন্য। অথচ এতে তাদের কোন উপকার হয় না; বরং ক্ষতি হয়। কারণ এসব শিরকী কাজ। এসবের জন্য আমাদেরকেও আল্লাহ্র কাছে জবাবদিহি করতে হবে। লাবীবের কথায় সবাই সিদ্ধান্ত নিল যে, ভবিষ্যতে তারা এসব করবে না। শিক্ষকও লজ্জিত হয়ে হাসানের বাবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিল এবং বলল, না জেনে প্রশাসনের চাপে আমাদেরকে এসব করতে হয়। তবে যতদূর পারি আগামীতে এসব এড়িয়ে চলার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। লাবীবকে বললেন, আপনি আমাদেরকে অনেক শিরকী বিষয়ে সতর্ক করলেন। এ ব্যাপারে আমরা নিজেরা সাবধান হব এবং অন্যদেরকেও সাবধান করার চেষ্টা করব। আপনার মত দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত লোকজন সমাজে আরো দরকার।

শিক্ষা: শহীদ মিনারে ফুল দেয়া, নীরবতা পালন করা এসবই শিরক। এগুলি থেকে বিরত থাকতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00