📄 লোভী শিকারী ও বাঘ
এক শিকারীর পেতে রাখা জালে এক হরিণ আটকা পড়ল। শিকারী তাকে ধরতে গেলে সে সজোরে এমনভাবে লাফ দিল যে জাল ছিঁড়ে গেল। ফলে হরিণ বেরিয়ে পড়ল। শিকারী তাকে তীর মেরে মাটিতে ফেলে দিল এবং দড়িতে বেঁধে বাড়ির পথ ধরল। রাস্তায় দেখল একটা দেঁতো যাচ্ছে। সে লোভ সামলাতে না পেরে ওর দিকেও একটি তীর ছুঁড়ল। দেঁতো তাতে যখম হয়েও শিকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার পেট ফেঁড়ে ফেলল। শিকারী মরল আর তীরের আঘাতে দেঁতোও পটল তুললো। এমন সময়ে সেখানে এক বাঘ এসে উপস্থিত। তিনটি শিকার মরা অবস্থায় পেয়ে সে তো খুশিতে বাগবাগ। ভাবল, এমন অযাচিত আহার্য খুব কমই পাওয়া যায়। রেখে থুয়ে খাওয়া উচিত। আজ ধনুকের ছিলা খেয়েই কাজ চালিয়ে দেব। বাকিগুলো ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা যাবে। এই ভেবে সে ধনুকের ছিলা খাওয়ার জন্য কামড়াতে আরম্ভ করল। অতি কষ্টে ছিলা তো ছিঁড়ল, ওদিকে তড়াক করে ধনুকের এক মাথা গিয়ে ঢুকল ওর মগজে। আর তাতেই বাঘের দফা রফা হয়ে গেল।
শিক্ষা: সবসময় ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের নেশা ভাল নয়।
📄 লোভী বিড়াল
কোন এক ব্যক্তি একটি বিড়াল পুষেছিল। সে প্রয়োজনমতো তাকে অল্প অল্প করে আহার দিতো। কিন্তু তাতে বিড়ালের সম্পূর্ণ তৃপ্তি হত না। একদিন সে অন্য বাড়ির কবুতরের খাঁচার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। খাঁচার ভেতরে ওদের শব্দ শুনে লোভে তার জিহ্বা দিয়ে পানি গড়াতে আরম্ভ করল। লোভ সামলাতে না পেরে শেষবধি সে খাঁচায় ঢুকে পড়ল। খাঁচার পাহারাদার তা দেখতে পেয়ে বিড়ালকে এমন পিটুনি দিল যে, বেচারা হজম করতে না পেরে মরে গেল। পাহারাদার বিড়ালের চামড়া খসিয়ে তাতে ভুষি ভরে কবুতরের খাঁচার সম্মুখে টাঙ্গিয়ে রাখল। বিড়ালপালক একদিন সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তার বিড়ালের এই দুর্দশা দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, আহা বেচারা! যদি তুই অল্পে সন্তুষ্ট থাকতিস, তাহলে এভাবে তোর চামড়া তুলে নেওয়া হত না।
শিক্ষা: অল্পে তুষ্ট না থাকলে ঐ লোভী বিড়ালের মতো অবস্থা হবে।
📄 বিপদগ্রস্তকে সর্বাগ্রে সাহায্য করা
একটি ছেলে নদীতে মনের আনন্দে গোসল করছিল। হঠাৎ সে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হ'ল। তীরে একটি লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে লাগল। তীরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে না গিয়ে উল্টো এই বলে ধমকাতে লাগলো যে, সাঁতার না জেনে একা একা নদীতে কেন নামতে গেলে? এভাবে কেউ নামে? উযবুক কোথাকার! ছেলেটি বলল, আগে আমাকে উদ্ধার কর। তারপর উপদেশ দিও।
শিক্ষা: বিপদগ্রস্তকে আগে সাহায্য করতে হবে। তারপর প্রয়োজনে উপদেশ দিতে হবে।
📄 সময়ের কাজ সময়ে করা
এক দেশে ছিল এক গরীব কৃষক। তার অল্প কিছু জমি ছিল। সে জমিতে কিছু পেয়ারা গাছ লাগাল। তার নিবিড় পরিচর্যায় গাছগুলি অনেক বড় ও সুন্দর হয়ে উঠল। গাছের পাতার ফাঁকে ফাঁকে ধরল প্রচুর পেয়ারা। সে নিজে খাওয়ার পরেও একদিন কিছু পেয়ারা গাছ থেকে নামিয়ে বাড়ির কাছে ছোট্ট বাজারে বিক্রি করতে নিয়ে গেল। পেয়ারা কেনার জন্য অনেক ক্রেতা আসল। ক্রেতাদের মধ্যে একজনের পেয়ারা কেনার টাকা ছিল না। কিন্তু তরতাজা পেয়ারা খাওয়ার জন্য তার খুব লোভ হ'ল। কি করে পেয়ারা খাওয়া যায়, সেজন্য সে ঐ কৃষকের সাথে আলাপ শুরু করল। সে বলল, বাহ! বেশ সুন্দর তরতাজা পেয়ারা যে! এর পিছনে আপনার অনেক শ্রম আছে নিশ্চয়ই। অন্যথা এত সুন্দর নিখুঁত ফল হ'তে পারে না। দেখতে যত সুন্দর খেতে তদ্রূপ মিষ্টি ও সুস্বাদু হবে নিশ্চয়ই! এসব শুনে কৃষক লোকটিকে পেয়ারা খাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কিন্তু ক্রেতা পেয়ারা খেল না। অবশেষে কৃষক ঐ ব্যক্তিকে এক কেজি পেয়ারা বাকিতে দিতে চাইল। ক্রেতা প্রথমে নিতে রাযী না হ'লেও কৃষকের কথায় পরে রাযী হ'ল। ক্রেতা পুনরায় বলল, পেয়ারা খেতে ভাল হবে তো? কৃষক তখন ঝুড়ি থেকে আরো একটা পেয়ারা ক্রেতার হাতে দিয়ে বলল, খেয়ে দেখুন, এটার পয়সা লাগবে না। ভাল হ'লে নিবেন, আর ভাল না হ'লে নিতে হবে না। তখন ক্রেতা বলল, এখন খাওয়া যাবে না, আমি ছিয়াম আছি। কৃষক বলল, রামাযানের তো মাত্র দু'দিন বাকী, এই অসময়ে কিসের ছিয়াম? ক্রেতা বলল, গত রামাযান মাসের কাযা ছিয়াম আদায় করছি। কৃষক রেগে পেয়ারার ব্যাগ কেড়ে নিয়ে বলল, যে আল্লাহ্র ঋণ পরিশোধ করতে এত দেরী করে, সে মানুষের ঋণ সময় মত পরিশোধ করবে কি করে?
শিক্ষা: সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়, না হ'লে ঠকতে হয়।