📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 মূর্খ চিকিৎসক

📄 মূর্খ চিকিৎসক


জনৈক মূর্খ চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা করে মৃত্যুর বাজার গরম করে ফেলেছিল। এ সত্ত্বেও সে নিজেকে ইবনে সীনা, লোকমান হেকিম ও প্লেটো মনে করতো। আর ঐ শহরেই একজন অভিজ্ঞ নামকরা হেকিম ছিলেন। বয়সের দরুন তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে সে দেশের বাদশাহ্ ছেলে খুব কঠিন রোগে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ল। বাদশাহ সেই নামকরা অভিজ্ঞ ডাক্তারকে দরবারে ডাকালেন। সে রোগীর অবস্থা শুনে বলল, এর একমাত্র ঔষধ 'মুহরান চূর্ণ'। অর্থাৎ কিছু চিনি ও দারুচিনি একসাথে মিশ্রণ করে সেবন করাতে হবে। মুহরান চূর্ণটি আমি বাদশাহী দাওয়াখানায় একটি তালাবদ্ধ রৌপ্যের কৌটায় সংরক্ষিত দেখেছি। আমি চোখে ভালো দেখতে পাই না, তা না হ'লে ঠিকঠাক বের করে আনতে পারতাম। সেই মহামূর্খ হেকিম যে সকল মূর্খের উপর মাতব্বরী করতো, বাদশাহ্ লোকজন তার নিকট গিয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করল। সব শুনে সে বলল, হতে পারে অন্ধ হেকিম কোন ফাঁকে আমার নিকট থেকে এ নিয়মটি শুনে নিয়েছে। কারণ এ ঔষধ তৈরির নিয়ম-কানুন আমি খুব ভাল করেই জানি। তার এ ধরনের কথাবার্তার খবর বাদশাহ্ কানেও পৌঁছল। তিনি এসব শুনে খুব খুশি হয়ে তাকে বাদশাহী দাওয়াখানায় পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে একই ধরনের অসংখ্য কৌটা দেখতে পেয়ে তার মাথা বিগড়ে গেল। আসলে সে তো মহামূর্খ, তাই কিছু বুঝতে না পেরে নিজের বড়ত্ব যাহির করার জন্য আন্দাজে একটা কৌটা হাতে তুলে নিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সে কৌটায় ছিল মারাত্মক বিষ। সে তাড়াতাড়ি তা খুলে চিনি আর দারুচিনি মিশিয়ে শাহজাদাকে সেবন করিয়ে দিল। সেবন করা মাত্রই শাহজাদা মারা গেল। বাদশাহ এ দুর্ঘটনায় খুবই মর্মাহত হলেন এবং অবশিষ্ট ঔষধ পরীক্ষামূলকভাবে মহামূর্খ হেকিমকে সেবন করিয়ে দিলেন। সে খেতে না খেতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।

শিক্ষা: না জেনে কাজ করার পরিণতি খুবই মন্দ হয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 লোভী শিকারী ও বাঘ

📄 লোভী শিকারী ও বাঘ


এক শিকারীর পেতে রাখা জালে এক হরিণ আটকা পড়ল। শিকারী তাকে ধরতে গেলে সে সজোরে এমনভাবে লাফ দিল যে জাল ছিঁড়ে গেল। ফলে হরিণ বেরিয়ে পড়ল। শিকারী তাকে তীর মেরে মাটিতে ফেলে দিল এবং দড়িতে বেঁধে বাড়ির পথ ধরল। রাস্তায় দেখল একটা দেঁতো যাচ্ছে। সে লোভ সামলাতে না পেরে ওর দিকেও একটি তীর ছুঁড়ল। দেঁতো তাতে যখম হয়েও শিকারীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তার পেট ফেঁড়ে ফেলল। শিকারী মরল আর তীরের আঘাতে দেঁতোও পটল তুললো। এমন সময়ে সেখানে এক বাঘ এসে উপস্থিত। তিনটি শিকার মরা অবস্থায় পেয়ে সে তো খুশিতে বাগবাগ। ভাবল, এমন অযাচিত আহার্য খুব কমই পাওয়া যায়। রেখে থুয়ে খাওয়া উচিত। আজ ধনুকের ছিলা খেয়েই কাজ চালিয়ে দেব। বাকিগুলো ভবিষ্যতের জন্য জমিয়ে রাখা যাবে। এই ভেবে সে ধনুকের ছিলা খাওয়ার জন্য কামড়াতে আরম্ভ করল। অতি কষ্টে ছিলা তো ছিঁড়ল, ওদিকে তড়াক করে ধনুকের এক মাথা গিয়ে ঢুকল ওর মগজে। আর তাতেই বাঘের দফা রফা হয়ে গেল।

শিক্ষা: সবসময় ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ের নেশা ভাল নয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 লোভী বিড়াল

📄 লোভী বিড়াল


কোন এক ব্যক্তি একটি বিড়াল পুষেছিল। সে প্রয়োজনমতো তাকে অল্প অল্প করে আহার দিতো। কিন্তু তাতে বিড়ালের সম্পূর্ণ তৃপ্তি হত না। একদিন সে অন্য বাড়ির কবুতরের খাঁচার নিকট দিয়ে যাচ্ছিল। খাঁচার ভেতরে ওদের শব্দ শুনে লোভে তার জিহ্বা দিয়ে পানি গড়াতে আরম্ভ করল। লোভ সামলাতে না পেরে শেষবধি সে খাঁচায় ঢুকে পড়ল। খাঁচার পাহারাদার তা দেখতে পেয়ে বিড়ালকে এমন পিটুনি দিল যে, বেচারা হজম করতে না পেরে মরে গেল। পাহারাদার বিড়ালের চামড়া খসিয়ে তাতে ভুষি ভরে কবুতরের খাঁচার সম্মুখে টাঙ্গিয়ে রাখল। বিড়ালপালক একদিন সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় তার বিড়ালের এই দুর্দশা দেখে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, আহা বেচারা! যদি তুই অল্পে সন্তুষ্ট থাকতিস, তাহলে এভাবে তোর চামড়া তুলে নেওয়া হত না।

শিক্ষা: অল্পে তুষ্ট না থাকলে ঐ লোভী বিড়ালের মতো অবস্থা হবে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 বিপদগ্রস্তকে সর্বাগ্রে সাহায্য করা

📄 বিপদগ্রস্তকে সর্বাগ্রে সাহায্য করা


একটি ছেলে নদীতে মনের আনন্দে গোসল করছিল। হঠাৎ সে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হ'ল। তীরে একটি লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতে লাগল। তীরে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটি তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে না গিয়ে উল্টো এই বলে ধমকাতে লাগলো যে, সাঁতার না জেনে একা একা নদীতে কেন নামতে গেলে? এভাবে কেউ নামে? উযবুক কোথাকার! ছেলেটি বলল, আগে আমাকে উদ্ধার কর। তারপর উপদেশ দিও।

শিক্ষা: বিপদগ্রস্তকে আগে সাহায্য করতে হবে। তারপর প্রয়োজনে উপদেশ দিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00