📄 মাছের বুদ্ধিমত্তা
কোনো এক জলাশয়ে তিনটি মাছ বাস করতো। তাদের মধ্যে একজন অতীব বুদ্ধিমান, একজন মাঝারি মানের বুদ্ধিমান এবং একজন নির্বোধ। একদিন সেখানে কয়েকজন জেলে এসে পরামর্শ করল, জাল এনে কিভাবে সেখান থেকে মাছ ধরে নেওয়া যায়। জেলেদের কথা শুনে সবচেয়ে বুদ্ধিমান মাছটি তৎক্ষণাৎ নালা দিয়ে অন্য জলাশয়ে চলে গেল। ইতিমধ্যে জেলেরা জাল এনে চারিদিক বন্ধ করে দিলো। দ্বিতীয় মাছটি যখন দেখল যে, সে আটকা পড় গেছে তখন তার অর্ধেক বুদ্ধির জোরে নিজেকে মরার মতো করে পানির উপর ভাসিয়ে দিলো। জেলেরা ওকে মরা মনে করে জালের বাইরে ফেলে দিল। ফলে সেও বেঁচে গেল। আর তৃতীয় নির্বোধ মাছটি ওদের জালে আটকা পড়ল।
শিক্ষা: বিপদে পড়েও যে নিজেকে রক্ষার উপায় অবলম্বন করে না, সে মূর্খ।
📄 কচ্ছপ ও হাঁস
এক পুকুরে দু'টি হাঁস এবং একটি কচ্ছপ বাস করতো। তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। পুকুরের পানি শুকিয়ে গেলে হাঁস দু'টি কচ্ছপকে বলল, বন্ধু! এখানে আর আমাদের থাকা সম্ভব নয়। কাজেই এবার আমাদের বিদায় নিতে হবে।
কচ্ছপ বলল, তা কি করে হয়? তোমাদেরকে বিদায় দিয়ে আমি একা এখানে থাকব কিভাবে? তোমাদের বিরহ-বেদনা সহ্য করার ক্ষমতা আমার নেই। তাই আমিও ভাবছি, পুকুরের পানি একেবারে শুকিয়ে গেলে আমি তোমাদের সাথে চলে যাব। হাঁস দু'টি বলল, কিন্তু আমাদের সাথে তুমি যাবে কি করে? কারণ আমরা উড়তে পারি, তুমি তো আকাশে উড়তে পারো না?
কচ্ছপ বলল, এর উপায়ও তোমরাই চিন্তা করো। হাঁস দু'টি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, ঠিক আছে। কিন্তু শর্ত হ'ল সর্বদা আমাদের কথা মেনে চলতে হবে। আমরা তোমাকে নিয়ে যখন উড়াল দিব, তখন তা দেখে নিচের লোকেরা চেঁচামেচি করবে, কিন্তু সাবধান! তুমি টু শব্দটিও করতে পারবে না।
কচ্ছপ এ শর্ত মেনে নিল। হাঁস দু'টি বুদ্ধি করে একটি কাঠি এনে কচ্ছপের মুখে দিয়ে বলল, একে শক্ত করে কামড় দিয়ে ধরে রাখবে। এ বলে দু'দিক থেকে দুই হাঁস কাঠিটি ঠোঁটে চেপে ধরে আকাশে উড়ল। যাওয়ার পথে ওরা এক শহরের উপর দিয়ে যাচ্ছিল। লোকেরা এভাবে তাদেরকে উড়তে দেখে চিৎকার করে বলতে শুরু করল, আরে কি মজার ব্যাপার, দেখো দু'টি হাঁস একটি কচ্ছপকে নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। কচ্ছপ অনেকক্ষণ চুপ করেই ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর ধৈর্য ধরতে পারল না। সে বলতে চাইল যে, তাতে তোদের কি? কিন্তু কথা শেষ হওয়ার আগেই মুখ থেকে কাঠি ছুটে গেল, আর সে মাটিতে পড়ে পটল তুলল। হাঁস দু'টি চিৎকার করে বলল, বন্ধুর কাজ হ'ল উপদেশ দেয়া আর যারা সৌভাগ্যবান, তারাই শুধু সে উপদেশ থেকে লাভবান হয়।
শিক্ষা: যারা হিতাকাঙ্খী বন্ধুর কথা শোনে না তারা বিপদে পড়ে।
📄 বাদশাহ ও তার চামচা
এক বাদশাহ সর্বদা নীচুমনা ও ভীরুদের সাথে বসবাস করতো। তারাও তার চামচামি করে সব সময় তার আশেপাশে ঘুর ঘুর করত। ওদের মধ্যে আবীর নামে একজন একেবারে বাদশার মাথায় চড়ে বসেছিল। একদিন বাদশাহ নির্জনে ওকে বলল, আমি তোর কাছে একটি গোপন কথা বলছি, কিন্তু সাবধান! কেউ যেন জানতে না পারে। আবীর গোপন কথা না বলার জন্য হাযার রকমের কিরা-কসম কাটল। বাদশাহ খুশী হয়ে বলল, আমার ভাই আমাকে হত্যা করবে বলে আমার সন্দেহ হচ্ছে। তুই সর্বদা আমার দিকে লক্ষ্য রাখবি, যেন ভাই কিছু করার আগেই আমি ওকে শেষ করে দিতে পারি।
খারাপ লোকের পেটে গোপন কথা হজম হয় না। আবীর সুযোগ পেয়েই সব কথা বাদশাহ্ ভাইয়ের কাছে প্রকাশ করে দিল। এজন্য সে তার বিনিময়ে আবীরকে অনেক উপঢৌকন প্রদান করল। ফলে সে কৌশলে বাদশার নিকট থেকে দূরে সরে থাকল এবং গোপনে তাকে শেষ করার উপায় খুঁজতে লাগল। বাদশার ভাগ্য ছিল মন্দ, তাই ভায়ের হাতেই সে খুন হ'ল। ভাই সিংহাসনে বসে প্রথমেই বিশ্বাসঘাতক আবীরের মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করল। সে কেঁদে গড়াগড়ি খেয়ে বলল, আমার সদ্ব্যবহারের প্রতিদান বুঝি এই শাস্তি? বাদশাহ বলল, গোপন কথা প্রকাশ করা হ'ল সবচেয়ে বড় অপরাধ। আমার ভাই তোকে এতো বিশ্বাস করত, আর তার কথাই যখন তুই হজম করতে পারলি না, তখন আমি কোন বিশ্বাসে তোকে জীবিত রাখতে পারি? অবশেষে বাদশাহর আদেশে তাকে ফাঁসি দেয়া হ'ল।
শিক্ষা: কারো গোপন কথা প্রকাশ করা চরম অন্যায়। এর পরিণামও ভয়াবহ।
📄 মূর্খ চিকিৎসক
জনৈক মূর্খ চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা করে মৃত্যুর বাজার গরম করে ফেলেছিল। এ সত্ত্বেও সে নিজেকে ইবনে সীনা, লোকমান হেকিম ও প্লেটো মনে করতো। আর ঐ শহরেই একজন অভিজ্ঞ নামকরা হেকিম ছিলেন। বয়সের দরুন তার চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। ইতিমধ্যে সে দেশের বাদশাহ্ ছেলে খুব কঠিন রোগে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়ল। বাদশাহ সেই নামকরা অভিজ্ঞ ডাক্তারকে দরবারে ডাকালেন। সে রোগীর অবস্থা শুনে বলল, এর একমাত্র ঔষধ 'মুহরান চূর্ণ'। অর্থাৎ কিছু চিনি ও দারুচিনি একসাথে মিশ্রণ করে সেবন করাতে হবে। মুহরান চূর্ণটি আমি বাদশাহী দাওয়াখানায় একটি তালাবদ্ধ রৌপ্যের কৌটায় সংরক্ষিত দেখেছি। আমি চোখে ভালো দেখতে পাই না, তা না হ'লে ঠিকঠাক বের করে আনতে পারতাম। সেই মহামূর্খ হেকিম যে সকল মূর্খের উপর মাতব্বরী করতো, বাদশাহ্ লোকজন তার নিকট গিয়ে এ ঘটনা বর্ণনা করল। সব শুনে সে বলল, হতে পারে অন্ধ হেকিম কোন ফাঁকে আমার নিকট থেকে এ নিয়মটি শুনে নিয়েছে। কারণ এ ঔষধ তৈরির নিয়ম-কানুন আমি খুব ভাল করেই জানি। তার এ ধরনের কথাবার্তার খবর বাদশাহ্ কানেও পৌঁছল। তিনি এসব শুনে খুব খুশি হয়ে তাকে বাদশাহী দাওয়াখানায় পাঠিয়ে দিলেন। সেখানে একই ধরনের অসংখ্য কৌটা দেখতে পেয়ে তার মাথা বিগড়ে গেল। আসলে সে তো মহামূর্খ, তাই কিছু বুঝতে না পেরে নিজের বড়ত্ব যাহির করার জন্য আন্দাজে একটা কৌটা হাতে তুলে নিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস, সে কৌটায় ছিল মারাত্মক বিষ। সে তাড়াতাড়ি তা খুলে চিনি আর দারুচিনি মিশিয়ে শাহজাদাকে সেবন করিয়ে দিল। সেবন করা মাত্রই শাহজাদা মারা গেল। বাদশাহ এ দুর্ঘটনায় খুবই মর্মাহত হলেন এবং অবশিষ্ট ঔষধ পরীক্ষামূলকভাবে মহামূর্খ হেকিমকে সেবন করিয়ে দিলেন। সে খেতে না খেতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল।
শিক্ষা: না জেনে কাজ করার পরিণতি খুবই মন্দ হয়।