📄 জীবিকা অর্জনের চেষ্টা
কোনো এক জঙ্গলে এক দরবেশ বাস করতো। একদিন একটি কাককে গাছের উপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেখে তার মনে কৌতূহল জাগল, কাক ওখানে কেন যাওয়া-আসা করে। হঠাৎ দেখলেন একটি অন্ধ সাপকে কাক আহার করাচ্ছে। দরবেশ এ ঘটনায় আল্লাহ্ অসীম কুদরতের কথা বুঝতে পেরে মনে মনে ভাবলেন, আল্লাহ পাক যখন একটি প্রাণীর রূযী-রোযগারের ব্যবস্থা বিনা পরিশ্রমে করে দিচ্ছেন, তখন খাবারের জন্য এত চিন্তা করে মাথা খারাপ করার কি প্রয়োজন রয়েছে? আমার খাবারও ঠিক সময়ে এসে যাবে। এই ভেবে তিনি আস্তানায় ফিরে এসে ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল হয়ে গেলেন। তিন দিন তিন রাত চলে গেলো, কিন্তু খাবারের কোনো ব্যবস্থা হ'ল না। আল্লাহ তা'আলা তার জন্য কিছুই পাঠালেন না। অবশেষে তখনকার নবীকে আল্লাহ তা'আলা দরবেশের কাছে পাঠালেন। নবী এসে দরবেশকে বললেন, তোমার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে। তুমি কেন নিজেকে দুর্বল অন্ধ সাপের সাথে তুলনা করতে গেলে। তোমার উচিত অন্যের বোঝা না হয়ে, অন্যের উপকার করা। দরবেশ তার ভুল বুঝতে পারল এবং আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা চাইল।
শিক্ষা: রূযীদাতা আল্লাহ তা'আলার উপর ভরসা করে তা অর্জনের জন্য চেষ্টা চালাতে হবে। ঘরে বসে থাকলে চলবে না।
📄 চাষী ও ইঁদুর
এক চাষী ভবিষ্যতের জন্য কিছু ধান জমা করে রেখেছিল। তার ঘরের পাশে একটি ইঁদুর বাস করতো। সে দেয়াল ছিদ্র করে ধান সরাতে শুরু করল। কিছুদিনের মধ্যেই অনেক ধান নিয়ে গেল। যখন আশপাশের ইঁদুরগুলো দেখল যে, অমুক ইঁদুরের অবস্থা খুব ভালো হয়ে গেছে। তখন তার কাছে সব ইঁদুর জমা হ'তে লাগল। দিন-রাত তোষামোদ ও নানা রং-বেরংয়ের কথা বলে তার মেযাজ বিগড়ে দিল। ইঁদুরও অহংকারে মাটিতে পা ফেলত না। গর্বে চারদিকে দাপিয়ে বেড়াতে লাগল। চাষী ধানের ঘরে ইঁদুরের আনাগোনা ও লাফালাফি দেখতে পেয়ে সমস্ত ধান অন্যত্র সরিয়ে নিল। ওদিকে অল্পদিনেই ইঁদুরের ধান শেষ হয়ে গেল। যেসব ইঁদুর তার সাথে সাথে চলাফেরা করতো, তারাও নিজ নিজ পথ দেখল। ইঁদুর আর কি করবে, একদিন মনের দুঃখে দেয়ালে মাথা ঠুকে মারা গেল।
শিক্ষা: আয় বুঝে ব্যয় করাই মানুষের কর্তব্য। যে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করে, তার পরিণাম ঐ ইঁদুরের মতোই মন্দ হয়।
📄 বানর ও কাঠমিস্ত্রী
কোনো এক জঙ্গলের ধারে এক কাঠমিস্ত্রী করাত দিয়ে গাছ ফাড়ছিল এবং দু'টি তক্তার মাঝখানে খিল মেরে রেখেছিল। অন্য এক গাছ থেকে একটি বানর তার করাত চালনা ও খিল মারা দেখছিল। বানরের মনে এসব দেখে ইচ্ছা হ'ল, সেও গাছ ফাড়বে। কাঠমিস্ত্রী খাওয়ার জন্য চলে গেলে বানর এসে গাছটির উপর এমনভাবে বসল যে, তার লেজটি তক্তার ফাঁক দিয়ে নীচে ঝুলে পড়ল। বানর করাতের কাছে ঘেঁষে যেমনি তক্তার খিল ধরে টান দিল, অমনি খিল খুলে গিয়ে দু'টি তক্তা পরস্পর মিলে গেল। আর বানরের লেজ তক্তার ফাঁকে আটকা পড়ল। তখন যন্ত্রণায় কাতর হয়ে সে চিৎকার করে বলছিল, আমার কাজ ছিল গাছে গাছে ফলমূল খেয়ে বেড়ানো। আমি কেন করাত চালাতে আসলাম। ইতিমধ্যে কাঠমিস্ত্রী এসে উপস্থিত হ'ল এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বানরের বাঁদরামি শেষ করে দিল।
শিক্ষা: যার কাজ তার সাজে, অন্যের নয়।
📄 খরগোশ ও শিয়াল
এক নেকড়ে বাঘ একটি ঘুমন্ত খরগোশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। বেচারা নিদ্রা থেকে জেগে দেখল, সে মৃত্যুর কবলে। তার অন্তরাত্মা শুকিয়ে গেল। সে তখন অনুনয়-বিনয় করে বলতে লাগল, আমি খুব ভালো করেই জানি, আমার মতো এত দুর্বল প্রাণী জাঁহাপনার ক্ষুধা মেটাতে পারবে না। যদি জাঁহাপনা এই এক লোকমার আশা ত্যাগ করেন, তাহলে এক শিয়ালকে আমি দেখিয়ে দিতে পারি, যা শিকার করলে জাঁহাপনার তৃপ্তি হবে। আর যদি তা না হয়, তাহলে বান্দাতো জাঁহাপনার খেদমতে হাযির আছেই।
কথাটা নেকড়ে বাঘের মনঃপূত হ'ল। সে খরগোশের সাথে রওয়ানা হ'ল। কাছেই শিয়ালের একটি গর্ত ছিল। খরগোশের সঙ্গে তার অনেক দিনের শত্রুতা। খরগোশ গর্তের কাছে গিয়ে বলল, জনাবের নির্জন বাস ও ধার্মিকতার খ্যাতি শুনে একজন জ্ঞানী সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। যদি অবসর থাকে, তাহ'লে এখনি সাক্ষাতের সুযোগ দিন; নতুবা আপনার সুবিধা মতো খেদমতে হাযির হবেন।
শিয়াল ওর মিষ্টি কথায় প্রতারণার আভাস পেয়ে উল্টো ধোঁকা দেওয়ার জন্য বলল, সৌভাগ্য যে, এমন বুযুর্গব্যক্তি আমার মতো নাচীযের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ বিলম্ব করতে হবে। কারণ আমি ঘরটিকে ঝেড়ে-মুছে জনাবের বসার উপযুক্ত না করে বাইরে আসতে পারছি না। খরগোশ নেকড়ে বাঘকে এ সংবাদ জানাল এবং সে একথা শুনে খুব খুশি হ'ল। শিয়াল পূর্ব থেকে গর্তে ঢোকার রাস্তায় একটি গভীর কূপ খনন করে রেখেছিল। তাই নতুন করে লতা-পাতা দিয়ে ঐ গর্তটি ঢেকে দিল। খরগোশ নেকড়ে বাঘকে নিয়ে সেই অন্ধকার গর্তে ঢুকতে গেল এবং দিশা না পেয়ে সেই গভীর কূপে পড়ে গেল। নেকড়ে বাঘ এ ঘটনাকে খরগোশের চালাকি মনে করে তৎক্ষণাৎ তাকে মেরে ফেলল।
শিক্ষা: বুদ্ধিমানকে কখনো ধোঁকা দেয়া যায় না।