📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 সিংহ ও ইঁদুর

📄 সিংহ ও ইঁদুর


এক সিংহ তার গুহায় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। হঠাৎ একটি ছোট ইঁদুর ছোটাছুটি করতে করতে সিংহের নাকের এক ছিদ্রে ঢুকে পড়ল। ফলে সিংহের ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে ইঁদুরটিকে থাবা দিয়ে ধরে মেরে ফেলতে উদ্যত হ'ল। ইঁদুরটি অত্যন্ত বিনয়ের সুরে বলল, দয়া করে আমাকে মেরে ফেলবেন না। সময়ে আমিও আপনার উপকারে আসতে পারি। একথা শুনে সিংহটি হেসে বলল, তুই এত ছোট জীব হয়ে আমার কি উপকার করবি? যাক সিংহটি তাকে ছেড়ে দিল।
এর কিছুদিন পরের ঘটনা। সিংহটি একটি দড়ির শক্ত ফাঁদে আটকে গেল। ফাঁদে পড়ে সিংহটি ভীষণ গর্জন করতে লাগল। গর্জন শুনে ইঁদুরটি দৌড়ে সেখানে গেল। সিংহের বিপদ দেখে সে তার কানের কাছে গিয়ে তাকে গর্জন করতে নিষেধ করল। কারণ যারা ফাঁদ পেতে রেখেছে তারা গর্জন শুনে ছুটে আসতে পারে। ইঁদুরটি এবার তার কাজ শুরু করল। সে তার দাঁত দিয়ে ফাঁদের দড়ি কাটতে শুরু করল। অবশেষে সে সিংহকে ফাঁদ থেকে মুক্ত করল। মুক্তি পেয়ে সিংহটি ইঁদুরকে ধন্যবাদ দিল এবং সেই সংগে বলল, 'তোকে আমি অবজ্ঞা করেছিলাম। কিন্তু বুঝলাম, কাউকে অবজ্ঞা করতে নেই'।

শিক্ষা: ছোট বলে কাউকে অবজ্ঞা করতে নেই। বিপদে যে কেউ উপকারে আসতে পারে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 শিকারী ও ঘুঘু

📄 শিকারী ও ঘুঘু


নদীর তীরের একটি গাছের উঁচু ডালে একটি ঘুঘু বসে নদীর পানির দিকে চেয়ে আছে। সে দেখতে পেল, একটি পিঁপড়া নদীর স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। পিঁপড়ার প্রতি তার দয়া হ'ল। তাই সে গাছ থেকে একটি পাতা ছিঁড়ে পিঁপড়ার সামনে ফেলে দিল। পিঁপড়াটি পাতায় চড়ে প্রাণে বেঁচে গেল।
পিঁপড়াটির বাসা ঐ গাছের কাছেই। একদিন সে গাছে ঘুঘুটি বসে রয়েছে। এক শিকারী ঘুঘুকে লক্ষ্য করে তার ধনুকে তীর সংযোগ করল। সে তীর ছুঁড়তে যাচ্ছে, এমন সময় ঐ পিঁপড়াটি এসে তার পায়ে শক্ত কামড় বসিয়ে দিল। কামড়ের চোটে সে জোরে 'উহ' করে উঠল। পাখীটি শব্দ শুনে উড়ে গেল। তীর লক্ষ্যভ্রষ্ট হ'ল।

শিক্ষা: বিপদের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 যোগ্য পাত্র নির্বাচন

📄 যোগ্য পাত্র নির্বাচন


সুলতান ইবরাহীম বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বয়সের ভারে ন্যুজ। ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়লেন তিনি। সুলতান বুঝতে পারলেন, তাঁর দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাঁর চিন্তা যে, একমাত্র কন্যা জাহানারার এখনও বিয়ে হয়নি। রাজকন্যা সুন্দরী, তার বিয়ের বয়স হয়েছে। ইতিমধ্যে অনেকেই তাকে বিয়ে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু তার যোগ্য বর আজও খুঁজে পাননি সুলতান। একদিন সুলতান কন্যা জাহানারাকে ডেকে বললেন, মা, এবার আমি তোমার বিয়ে দেব। রাজকন্যা বললেন, কিন্তু তুমি কিভাবে বর নির্বাচন করবে বাবা?
সুলতান বললেন, আমার কোন পুত্রসন্তান নেই। তোমার স্বামীই হবে আমার এই রাজ্যের ভাবী সুলতান। যে ভালভাবে রাজ্য শাসন করতে পারবে এবং প্রজাপালন করতে পারবে আমি তার সঙ্গেই তোমার বিয়ে দেব।
রাজকন্যা বললেন, কিন্তু তুমি কিভাবে যোগ্য বরকে নির্বাচন করবে?
সুলতান বললেন, সে ব্যবস্থা আমি করব। আগে যারা রাজকন্যার বিয়ের জন্য এসেছিল, তাদের মধ্যে তিনজনকে যোগ্য বর হিসাবে মনে মনে বাছাই করেছিলেন সুলতান। তিনি একদিন দূত পাঠিয়ে তিনজন যুবরাজকে ডেকে আনলেন রাজসভায়। তিনজন যুবরাজই ছিলেন বয়সে যুবক এবং বীর। তাদের নাম ছিল খালিদ, যুবায়ের ও ছাবিত। তিনজনই ছিল দেখতে সুদর্শন এবং আচরণ ও কথা-বার্তায় ভদ্র।
রাজকন্যা বুঝে উঠতে পারল না, সে কিভাবে এই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে তার স্বামী হিসাবে বাছাই করবে। তাই সে তার বাবার উপর বর নির্বাচনের ভারটা ছেড়ে দিল।
যুবরাজ তিনজন সুলতানের সামনে হাযির হ'লে সুলতান বললেন, আমি তোমাদের ডেকে পাঠিয়েছি। কারণ, আমি এবার আমার কন্যাকে পাত্রস্থ করতে চাই।
যুবরাজ তিনজন হাসিমুখে মাথা নত করল।
সুলতান বললেন, তোমরা তিনজন আমার রাজ্য শাসনের উপযুক্ত। ভবিষ্যতে তোমরা সুলতান হ'তে পার। কিন্তু তোমাদের মধ্যে একজনের হাতে আমার কন্যাকে অর্পণ করতে হবে। তাই আমি তোমাদের তিনজনের মধ্যে একজনকে নির্বাচন করার জন্য একটি পরিকল্পনা করেছি। আজ পূর্ণিমা। আজই তোমাদের এক মাসের জন্য দেশ ভ্রমণে পাঠাতে চাই। আজ হ'তে ঠিক এক মাস পরে পূর্ণিমায় তোমরা সফর শেষে ফিরে আসবে এই রাজসভায়। তোমরা প্রত্যেকেই রাজকন্যার উপযুক্ত বিবেচনা করে সবচেয়ে মূল্যবান উপহার নিয়ে আসবে। সে উপহারের গুণাগুণ বিচার করেই তোমাদের যোগ্যতা নির্ণয় করা হবে। যুবরাজ তিনজন আশান্বিত হয়ে সেদিনই দেশ ভ্রমণে বেরিয়ে পড়ল।
চোখের পলকে একটি মাস অতিবাহিত হয়ে গেল। পরের মাসে আবার পূর্ণিমা এল। পূর্ণিমার দিন সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ উঠতেই সুলতানের প্রাসাদ দ্বারে যুবরাজদের আগমন বার্তা ঘোষণা করা হ'ল। আলোকমালা ও ফুল দিয়ে সজ্জিত করা হ'ল সমস্ত প্রাসাদ।
সুলতান প্রথমে যুবরাজ খালিদকে ডেকে বললেন, তুমি আমার কন্যার জন্য কি উপহার এনেছ? যুবরাজ খালিদ নতজানু হয়ে একটি বড় থলে থেকে অনেক বড় বড় মূল্যবান জিনিস বের করল। তারপর সুলতানকে বলল, এগুলি সবচেয়ে দামী হীরা, মুক্তা, পান্না ও চুন্নি। এগুলি বিভিন্ন দেশ ঘুরে বাছাই করে এনেছি। এগুলি দিয়ে রাজকন্যার জন্য একটি মুকুট, গলার হার, হাতের বালা আর আংটি বানাতে চাই। হাসিমুখে খুশি হয়ে মাথা নত করল রাজকন্যা জাহানারা। কিন্তু সুলতান কোন কথা বললেন না।
এবার সুলতান যুবরাজ যুবায়েরকে ডেকে বললেন, তুমি কি উপহার এনেছ? যুবায়ের বলল, 'আমি একটি বন্দুক এনেছি। এটি এক শক্তিশালী অস্ত্র। এই অস্ত্র দিয়ে অনায়াসে এবং অব্যর্থভাবে লোক মারা যায়। এই অস্ত্র কাছে থাকলে বাইরের কোন শত্রু ভয়ে পা দেবে না আপনার রাজ্যের ত্রিসীমানায়। আপনি এর দ্বারা অনেক দেশ জয় করতেও পারেন। আপনি হয়ে উঠতে পারেন পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিজয়ী রাজা।
যুবরাজ যুবায়েরের কথা শুনে রাজকন্যা কেঁপে উঠলেন ভয়ে। সুলতান একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন নীরবে। কিন্তু রাজসভায় উপস্থিত লোকদের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
এবার যুবরাজ ছাবিতকে ডাকলেন সুলতান। লজ্জাবনত মুখে সুলতানের সামনে খালি হাতে এসে দাঁড়াল যুবরাজ ছাবিত। সে বলল, ক্ষমা করবেন সুলতান, আমি রাজকন্যার জন্য কোন উপহার আনতে পারিনি।
সুলতান আশ্চর্য হয়ে বললেন, সে কি? কোন উপহারই আননি?
ছাবিত বলল, আমি রাজকন্যাকে বিয়ে করতে চাই। অথচ তার জন্য কোন উপহার না আনতে পারায় সত্যিই দুঃখিত। কিন্তু এই একটি মাস আমি কাজে এমনই ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, কোন উপহার যোগাড় করার ফুরসৎ পাইনি। একথার অর্থ বুঝতে না পেরে সুলতান বললেন, কি কাজে তুমি এত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলে?
ছাবিত বলল, আমি আপনার রাজসভা থেকে বেরিয়ে দেশ ভ্রমণে যাবার সময় পথে এক মুমূর্ষু পথিককে দেখতে পাই। তার গা থেকে রক্ত ঝরছিল। সর্বাঙ্গ ছিল ক্ষত-বিক্ষত। আমি তা দেখে চলে যেতে পারলাম না। তার সেবা-শুশ্রুষা করলাম। তিনি সুস্থ হয়ে উঠলে দু-একদিন পর আবার পথ চলতে শুরু করলাম। কিন্তু কিছুদূর যেতেই দেখলাম, একদল নারী ও শিশু ভয়ার্ত অবস্থায় গ্রাম ছেড়ে পালাচ্ছে। কারণ জিজ্ঞেস করে জানলাম, একদল জলদস্যু নদী পথে এসে তাদের গ্রাম লুণ্ঠন করেছে, গ্রামের বেশির ভাগ পুরুষকে হত্যা করেছে, তাদের ধন-সম্পদ সব ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এবং আবার আসবে বলে ভয় দেখিয়ে গেছে। আমি তাদের বুঝিয়ে গ্রামে ফেরত নিয়ে গেলাম। দেখলাম গ্রামের অল্পসংখ্যক লোক যারা বেঁচে আছে তারা জলদস্যুদের সঙ্গে লড়াই করতে চায়। কিন্তু কোন যোগ্য নেতা না থাকায় মনোবল পাচ্ছে না। আমি সে সব নিঃস্ব অসহায় ও ভীত-সন্ত্রস্ত লোকদের ফেলে চলে আসতে পারলাম না। তাদের সশস্ত্র ও সংঘবদ্ধ করে জলদস্যুদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করলাম। জোর লড়াই করে জলদস্যুদের ঘায়েল করে গ্রাম থেকে চিরদিনের মত বিতাড়ন করলাম।
তারপরও অনেক কাজ ছিল। আহতদের চিকিৎসা, বিধবা ও শিশুদের পুনর্বাসন প্রভৃতি কাজগুলি সারতে আমার বেশ কিছুদিন দেরি হয়ে গেল। কাজের চাপে আমি উপহারের কথা, রাজকন্যার কথা সব ভুলে গেলাম। হঠাৎ একদিন আকাশে চাঁদ দেখে পূর্ণিমার কথা মনে পড়ে গেল। তাই ক্ষমা চাইতে এলাম। আমাকে ক্ষমা করবেন সুলতান।
যুবরাজ ছাবিতের কথা শুনতে শুনতে অভিভূত হয়ে পড়েছিলেন বৃদ্ধ সুলতান। তিনি যখন চোখ তুললেন তখন দেখা গেল, চোখের পানিতে ঝাপসা হয়ে গেছে তার দৃষ্টি। রাজকন্যার চোখও পানিতে ছলছল।
সুলতান যুবরাজ ছাবিতকে তার কাছে ডাকলেন। যুবরাজের একটি হাত ধরে হাসিমুখে বললেন, এই মহান যুবরাজ রাজকন্যার জন্য উপহার না নিয়ে এলেও এ হাতে ফুটে আছে জনসেবার অনেক অমূল্য নিদর্শন। আমি তারই হাতে তুলে দেব আমার কন্যাকে। এই মহানহৃদয় পরোপকারী যুবরাজই হবে আমার রাজ্যের উপযুক্ত শাসক।

শিক্ষা: অর্থ-বিত্ত, ক্ষমতা-প্রভাব দেখে নয়, চরিত্রবান পাত্র দেখে কন্যাকে বিয়ে দিতে হবে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 একজন পরোপকারী অফিস প্রধান

📄 একজন পরোপকারী অফিস প্রধান


আব্দুল হালীমের স্ত্রী রাবেয়া একজন বিদুষী, পতিপরায়ণা এবং অন্যান্য সদগুণে গুণান্বিতা নারী। আব্দুল হালীমও একজন চরিত্রবান যুবক। সে যে অফিসে কাজ করে সে অফিসের অন্যান্য ব্যক্তি ও কর্মচারীরাও সৎ এবং মানবদরদী। কর্তব্যে তাকে কোন দিন অবহেলা করতে দেখা যায় না। এজন্য অফিস প্রধান তার প্রতি অতি প্রসন্ন।
আব্দুল হালীমের বিবাহিত জীবনের ছ'বছর পর তাদের ঘরে ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্মলাভ করে। ফলে তাদের নিরাশার জীবনে আশার সঞ্চার হয়।
সদা প্রফুল্ল এবং কাজে একনিষ্ঠ আব্দুল হালীমকে সন্তান লাভের পর আর পূর্বের মতো দেখা যায় না। তার হাসিমুখে বিষাদের ছায়া বিরাজমান। সে যেন বড় রকমের কোন এক দুর্বিষহ যন্ত্রণায় ভুগছে। সে সত্যি সত্যি একটি যন্ত্রণার শিকার। তার সন্তানটি হার্টে একটি ছিদ্র নিয়ে জন্মেছে। ফলে সে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারে না। হার্ট অপারেশন ছাড়া এর কোন বিকল্প নেই। আর এ কাজে অন্ততঃ ৩/৪ লাখ টাকা প্রয়োজন। এ অপারেশন দেশেও হবে না। এতো টাকা আব্দুল হালীমের নেই এবং এতো টাকার সম্পদও নেই। তাই তার মুখমণ্ডলে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ।
স্ত্রী রাবেয়া এ বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে, এতো টাকা সংগ্রহ করা তাদের সামর্থ্যের বাইরে। তাই চিকিৎসার অভাবে তাদের বহুদিনের প্রত্যাশিত ধনকে ধুকে ধুকে তার চোখের সামনে মৃত্যুবরণ করতে হবে ভেবে সে নীরবে অশ্রু বিসর্জন দেয়।
আব্দুল হালীমের বোন তাসনীম ভাইয়ের বাসায় থেকে লেখাপড়া করে। ভাইয়ের আশা বোন উচ্চশিক্ষিতা হ'লে তাকে একজন ভাল পাত্রের হাতে তুলে দিবে। তাসনীম শিশুটির অবস্থা প্রত্যহ প্রত্যক্ষ করছে। তাই সে একদিন ভাবীকে ডেকে বলল, 'ভাবী, আমি আর পড়াশুনা করব না। বাড়ী চলে যাব'। হঠাৎ করে ভাবী তার এরূপ সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে, 'আমি তোমাদের আর খরচ বাড়াতে চাই না। তোমরা আমার জন্য যে খরচ কর, তা বাঁচিয়ে শিশুটির চিকিৎসা করে তাকে সুস্থ করে তোল'।
ভাবী তাকে তার এ সিদ্ধান্ত পরিত্যাগ করতে বলে এবং বলে, 'তুমি এ সিদ্ধান্ত তোমার ভাইকে কখনো বলো না। তাহলে তিনি দারুণ কষ্ট পাবেন। আমরা নিশ্চিত ধরে নিয়েছি, আমরা তাকে সুস্থ করে তুলতে পারব না। তার মৃত্যু অবধারিত। কারণ চিকিৎসার অত টাকা আমরা কোথায় পাব'?
রাবেয়ার শাশুড়ীর নামে কিছু সম্পত্তি আছে। নাতির চিকিৎসার জন্য তিনি তা বিক্রি করে দিতে চান। কিন্তু আব্দুল হালীম তাতে সম্মত নয়। কারণ সে সম্পত্তির উৎপন্ন ফসলে মাতা-পিতার কোনমতে দিন কাটে। তাছাড়া সে সম্পত্তি বিক্রি করেও চিকিৎসার পুরো খরচ জোগাড় হবে না।
একদিন অফিসের প্রধান কর্মকর্তা আব্দুল হালীমকে তাঁর কক্ষে ডেকে নিয়ে তার এ মানসিক পরিবর্তনের কারণ জিজ্ঞেস করেন। আব্দুল হালীম অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সন্তানের বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেন। তার বস তাকে বলেন, 'আমরা সকলে মিলে তোমার সন্তানের চিকিৎসার জন্য অর্থ সাহায্য করব এবং প্রয়োজনে ভিক্ষা চাইব। একটি নিষ্পাপ শিশুকে বাঁচিয়ে তুলতে পারি কিনা চেষ্টা করে দেখব। আব্দুল হালীম এতে আপত্তি করে। সে বলে, 'আমার জন্য আপনি অন্যের কাছে হাত পাতবেন, এটা হ'তে পারে না। আমি আমার স্বার্থে আপনাকে এভাবে মানুষের কাছে ছোট হ'তে দিতে পারি না'।
প্রধান কর্মকর্তা বলেন, 'আমি যদি তোমার এ বিপদে আমার সামর্থ্য অনুযায়ী তোমার পাশে না দাঁড়াই, তাহ'লে এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ্র কাছে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। অতএব আমি তোমার কোন আপত্তি মানতে রাযী নই। একাজ আমার দায়িত্ব বলে মনে করি'।
একদিন বিকেলে অফিসের প্রধান কবীর ছাহেব আব্দুল হালীমের বাসায় এসে আব্দুল হালীমের সন্তানকে দেখলেন। তিনি শিশুর ফটোর একটি নেগেটিভ কপি নিয়ে চলে গেলেন। তিনি বিভিন্ন পত্রিকায় শিশুটির ছবি ছাপিয়ে তার অসুখের বিবরণ দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তুলতে সাহায্যের হাত প্রসারিত করতে আবেদন জানালেন। এতে কাজ হ'ল।
আব্দুল হালীম শিশুর চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ বিদেশ যাত্রা করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত হ'লে তাদের বিদায় জানাতে আসলেন অফিসের প্রধান কবীর ছাহেব, সহকর্মী আবিদ হাসান এবং অন্যান্য দাতা ব্যক্তিরা। সবাই আল্লাহ্র কাছে শিশুটির আরোগ্য কামনা করে তাদের বিদায় জানালেন।

শিক্ষা : অসহায়-দুঃস্থ মানুষকে সাধ্যমত সহযোগিতা করা আমাদের প্রত্যেকেরই ইমানী ও নৈতিক দায়িত্ব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00