📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 তিন লোভী ডাকাত

📄 তিন লোভী ডাকাত


একবার একদল লোক বিপুল স্বর্ণমুদ্রা ও অর্থ-সম্পদ নিয়ে ব্যবসার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে তিন জন ডাকাতের খপ্পরে পড়ে নিজেদের সর্বস্ব হারিয়ে তারা রিক্ত হস্তে বাড়ী ফেরে। ডাকাত তিন জন বিপুল স্বর্ণমুদ্রা ও টাকা-কড়ি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে। চলতে থাকে নানা পরিকল্পনা। সম্পদ বণ্টনের নীলনকশা।
এমন সময় ডাকাত সর্দার বলল, আমরা ক্ষুধার্ত। আগে ক্ষুধা নিবারণ করি। তারপর সম্পদ বণ্টন হবে। অতএব সর্বাগ্রে বাজার থেকে কিছু খাবার নিয়ে আসা হৌক। ডাকাতের একজন তখন খাদ্য ক্রয়ের অনুমতি চাইলে সর্দার তাকে অনুমতি দিলেন। অনুমতি পেয়ে সে বাজারে রওয়ানা হ'ল। পথে যেতে যেতে সে ঐ ছিনতাইকৃত স্বর্ণমুদ্রা ও অর্থ-কড়ি কি করে একাই ভোগ করা যায় সে পরিকল্পনা আঁটতে লাগল। অনেক চিন্তা-ভাবনার পর স্থির করল যে, খাদ্যের সাথে বিষ মিশিয়ে দুই বন্ধুকে হত্যা করব। তখন সব সম্পদই আমার হয়ে যাবে। বাকী জীবন এই সম্পদ দিয়ে সানন্দে কেটে যাবে। মুছে যাবে দুঃখ-দুর্দশা। বউ-বাচ্চা নিয়ে খেয়ে পরে ভালভাবেই দিনাতিপাত করতে পারব। সম্পদের এই মোহে পড়ে সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে বাজার থেকে ফিরে আসছে।
অপরদিকে ঐ দুইজন চিন্তা করল যে, এতগুলো সম্পদ দুই বন্ধুর মধ্যে বণ্টন করতে পারলে পরিমাণে বেশী হবে। তারা স্থির করল যে, খাদ্য নিয়ে আসা মাত্রই তাকে হত্যা করব। তখন সমস্ত সম্পদ দুই বন্ধু ভাগ করে নিব। কথামতো অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুত থাকল তারা। খাদ্য নিয়ে সে ফিরা মাত্রই অপেক্ষমাণ দুই বন্ধু অস্ত্রাঘাত করে তাকে শেষ করে ফেলল।
এবারে অবশিষ্ট দুই ডাকাতের মধ্যে যে অধিক শক্তিশালী ছিল সে চিন্তা করল, যদি আমি একাই এই বিশাল ধন ভাণ্ডারের মালিক হই তবে আমার চেয়ে আর কে ধনবান হতে পারে? আমার জীবন ধন্য হবে। সমস্যা দূরীভূত হবে। দারিদ্র্য বিমোচিত হবে। জীবনে আর কোন সমস্যা থাকবে না। এই দুরভিসন্ধি অনুযায়ী অপর সাথীকে সে হত্যা করে ফেলল। পর পর দুই সাথীকে হত্যা করে সে আনন্দে উদ্বেলিত। তার লোলুপ দু'চোখ অপলক নেত্রে তাকিয়ে আছে ছিনতাইকৃত সম্পদের দিকে। একাই এত সম্পদের মালিক, এই আনন্দে সে পাগলপারা। সাথীদ্বয়কে হত্যা করে স্বভাবতই পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছিল সে। সামনে খাবার মওজুদ। ভাবল, আগে ক্ষুধা মিটিয়ে নেই, তারপর সম্পদ নিয়ে বাড়ী ফিরব। অতঃপর প্রত্যাশার পরিসমাপ্তি ঘটল, যখন সে বিষ মিশ্রিত খাদ্য গ্রহণ করে জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটাল।

শিক্ষা: অত্যধিক সম্পদের লোভ মানুষকে ধ্বংস করে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 জনৈক মহিলা ও সোনার ডিম

📄 জনৈক মহিলা ও সোনার ডিম


এক মহিলার একটি মুরগী প্রতিদিন একটি করে সোনার ডিম পাড়ত। মহিলা মনে মনে বুদ্ধি আঁটল, আমি যদি তার খাবার বেশি করে দেই তাহলে সে প্রতিদিন দু'টি করে ডিম পাড়বে। অতঃপর সে যখন তার খাবার বৃদ্ধি করে দিল, তখন পাকস্থলী ফেটে মুরগীটি মরে গেল।

শিক্ষা: অতি লোভে তাঁতি নষ্ট।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 সবল ও দুর্বল বিড়াল

📄 সবল ও দুর্বল বিড়াল


এক গরীব বুড়ির একটি দুর্বল বিড়াল ছিল। বুড়ির আহারের দু'লোকমা খেয়ে সে বেঁচে থাকতো। একদিন কষ্ট করে ঘরের চালে উঠে পাশের বাড়ির এক মোটা-তাজা বিড়ালকে চলাফেরা করতে দেখে বলল, ও ভাই! তুমি এত মোটা-তাজা হলে কী করে? মোটা বিড়ালটি জবাব দিল, এই বান্দা প্রতিদিন শাহী মহলে যাতায়াত করে। সেখানে চুরি করে পোলাও কোরমাতে ভাগ বসায়, আর কিছুটা অন্য সময়ের জন্য নিয়েও আসে। দুর্বল বিড়ালটি শাহী দস্তরখানের মজাদার খাবারের কথা শুনে অস্থির হয়ে পড়ল। খুব বিনয়ের সুরে সবল বিড়ালকে বলল, ভাই প্রতিবেশীর হক আদায় করা তোমার কর্তব্য। তুমি নিজে প্রত্যেকদিন শাহী দস্তরখানের স্বাদ লুটবে আর আমি কিছুই পাব না- একি ইনছাফের কথা!
সবল বিড়ালটি বলল, ভাই আমাকে এত কৃপণ মনে কর না। তোমাকে আমার খাবারে অংশীদার করতে কোন আপত্তি নেই। আমার সাথে আগামীকাল যেও। পরদিন সবল বিড়ালের সাথে দুর্বল বিড়ালটি শাহী মহলে গেল। ওদিকে এরই মধ্যে দস্তরখানের আশপাশে বিড়ালের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় বাদশাহ তীরন্দায নিযুক্ত করে বিড়াল আসামাত্রই তীর ছুড়ে মারার নির্দেশ দিলেন। দুর্বল বিড়ালটি যখন শাহী মহলের কাছে আসল এবং রাজকীয় খাবারের ঘ্রাণ পেয়ে জিভ বের করল, অমনি রক্ষীরা তাকে তীর মেরে জীবনলীলা সাঙ্গ করে দিলো।

শিক্ষা: অতি লোভে তাঁতী নষ্ট।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 লোভী শিয়াল ও ঢোল

📄 লোভী শিয়াল ও ঢোল


একটি শিয়াল শিকারের খোঁজে ফিরছিল। পথে একটি মোরগকে কিছু খুঁটে খেতে দেখতে পেল। সে মোরগটিকে ধরতে যাবে এমন সময় ঢোলের আওয়ায শুনতে পেলো। ঢোলটিকে কোন ব্যক্তি গাছের ডালে বেঁধে রেখেছিল। বাতাসের কারণে গাছের ডালের আঘাতে তা থেকে আওয়ায বের হচ্ছিল। শিয়াল লক্ষ্য করল যে, মোরগের চেয়ে ঢোলের দেহটি বেশ মোটা ও নাদুসনুদুস। তাই বেশি পাওয়ার লোভে সে মোরগ ছেড়ে ঢোলের দিকে এগিয়ে চলল। অনেক কষ্টে গাছে উঠে ঢোলটি নামিয়ে এনে দেখল, তাতে কাঠ এবং চামড়া ছাড়া আর কিছুই নেই। সেই যে কথায় বলে, 'দূরের বাদ্য শুনতে মধুর'। শিয়ালেরও তাই হ'ল। ওদিকে মোরগও ততক্ষণে চলে গেছে। সুতরাং আক্ষেপ করা ছাড়া শিয়ালের ভাগ্যে আর কিছুই জুটল না।

শিক্ষা: লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00