📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) ও ছূফীদের গল্প

📄 ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) ও ছূফীদের গল্প


ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ)-এর সময়ে সিরিয়া এলাকায় ছুফীদের উপদ্রব ছিল খুব বেশী। তারা 'কারামতের' নামে বিভিন্ন ভেল্কিবাজি দেখিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করত ও তাদের গোলামীতে আবদ্ধ করত। দেশের নেতৃবৃন্দ ও সমাজপতিরা ছাড়াও হাযার হাযার সাধারণ লোক তাদের ধোঁকার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ছুফীরা নিজেদেরকে 'বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী' এবং আল্লাহ্ বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বলে মিথ্যা দাবী করত। তারা আগুনের মধ্যে প্রবেশ করত, কিন্তু পুড়ত না। এ কারণে লোকেরা ভাবত, এইসব ছুফীর শিষ্য হ'তে পারলে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মানুষ ইবাদত-বন্দেগী ছেড়ে দিয়ে দলে দলে তাদের খানকাহে হাযির হয়ে নযর- নেয়ায দিয়ে তথাকথিত মা'রেফাতের সবক নেওয়া শুরু করল।
গোমরাহীর এই স্রোত ঠেকানোর জন্য ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) সিরিয়ার বাদশাহ্র নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে বাদশাহ! আমি এই ছুফীদের চ্যালেঞ্জ করছি। আপনি ওদের হাযির করুন। বাদশাহ বললেন, ওরা তো বলে যে, ওদের এক ধরনের 'হাল' হয়। যার কারণে ওরা আগুনে প্রবেশ করলেও অক্ষত থাকে। 'শরী'আতপন্থী কোন ব্যক্তি একাজ করতে সক্ষম নয়' বলে ওরা দাবী করে থাকে।
ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বললেন, আমিও আগুনে প্রবেশ করব। তবে একটা শর্ত আছে, যেটা ওদের সাথে চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় গিয়ে বলব। আপনি ওদের নেতাদের হাযির করুন।
বাদশাহ ছুফী সম্রাটদের দরবারে হাযির করলেন। যথাসময়ে ছুফী সম্রাট তার সাথী শায়েখ খলীফা সাইয়েদ আহমাদ ও শায়েখ হাতেম প্রমুখকে নিয়ে উপস্থিত হ'লেন। অতঃপর তারা তাদের টেকনিক অনুযায়ী প্রথমে অনেকগুলি মা'রেফতী কসরৎ করলেন। তারপর 'হাল' হ'ল। এরপর ছুফী সম্রাট আগুনে প্রবেশ করতে উদ্যত হ'লেন। কিন্তু ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বাধা দিয়ে বললেন, 'খাল' (সাবান-এর ন্যায় এক প্রকার বস্তু) ও গরম পানি দিয়ে আগে গোসল কর। তারপর আগুনে প্রবেশ কর'। কিন্তু ছুফী সম্রাট চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, এটাই আমাদের মা'রেফতী তরীকা। গোসল করাটা আমাদের তরীকা বিরোধী। ইবনু তায়মিয়াহ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে মোমবাতির আগুনে কেবল তোমার আঙ্গুলটি পোড়াও, আমিও আঙ্গুল পোড়াব। কিন্তু শর্ত হ'ল, আগে তোমার আঙ্গুলগুলো ভালভাবে গরম পানি ও 'খাল' দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কিন্তু ছুফী সম্রাট এতে আরও ক্ষেপে উঠল ও রাগান্বিত হয়ে চলে গেল। তখন সমবেত হাযার হাযার জনতার উদ্দেশ্যে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বললেন, আসল রহস্য হ'ল এই যে, এরা হাতে পায়ে ও সারা দেহে 'কিবরীত' নামক এক প্রকার তৈল মর্দন করে। যা আগুন থেকে দেহকে রক্ষা করে। এটাকেই লোকেরা তাদের 'কারামত' মনে করে। আর এই সুযোগে ছুফীরা ভক্তদের ঈমান চুরি করে ও তাদের পকেট ছাফ করে। এরা শয়তানের এজেন্ট। এদের থেকে সকলে সাবধান হও'। তিনি বলেন, যদি কেউ অলৌকিকতা দেখিয়ে আগুনে প্রবেশ করে বা আকাশে ওড়ে বা পানিতে হেঁটে বেড়ায়, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কেননা বড় দাজ্জাল আকাশকে বলবে, 'পানি বর্ষণ কর' তখন বৃষ্টি হবে। মাটিকে বলবে, 'উৎপাদন কর' তখন বিভিন্ন গাছ জন্মাবে। সে বলবে, হে যমীন! তোমার খনিগুলোকে বের করে দাও। তখন সব খনিজ সম্পদ বেরিয়ে আসবে। সে মানুষ হত্যা করবে, তারপর বলবে, উঠে দাঁড়াও। তখন সে পুনরায় জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে'। অতএব হে জনগণ! অলৌকিকতার মধ্যে কোন শিক্ষা নেই। প্রকৃত শিক্ষা হ'ল এ বিষয়ে যে, মানুষের কাজ-কর্ম কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক হচ্ছে কি-না। কুরআন ও সুন্নাহ হ'ল সবকিছুর মাপকাঠি।
ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-এর এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে হাযার হাযার মানুষ মা'রেফাতের ধোঁকা থেকে মুক্ত হ'ল এবং পুনরায় কুরআন ও সুন্নাহ্ পথে ফিরে এল।
[উল্লেখ্য যে, সমাজের দুনিয়াপূজারী আলেম ও ভণ্ড পীর-আউলিয়াদের চক্রান্তে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে ৮ বার জেল খাটতে হয় এবং জেলখানাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।]

শিক্ষা: ছুফী/ব্রেলভীদের যাবতীয় ভ্রান্ত কারামতের ভেল্কিবাজি থেকে সাবধান থাকুন! যাতে তারা ঈমানদারদের ঈমান হরণ করতে না পারে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 ইহসান ইলাহী যহীর ও ভণ্ড ছূফীর কেরামতি

📄 ইহসান ইলাহী যহীর ও ভণ্ড ছূফীর কেরামতি


আহলেহাদীছ আন্দোলনের নির্ভীক সেনানী আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর বাতিল ফিরকাগুলোর কেন্দ্রে ও তাদের মাহফিলে গিয়ে মুনাযারা করতেন নির্ভয়ে-নিঃশঙ্কচিত্তে। ১৯৬৫ সালে ইরাকের সামারায় এক রেফাঈ ছুফী নেতার সাথে তাঁর মুনাযারা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ছুফী নেতার দাবী ছিল, সে কারামতের অধিকারী। অস্ত্র তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। আল্লামা যহীর এর প্রত্যুত্তরে বিতর্কসভায় বলেছিলেন, যদি অস্ত্র, বর্শা ও চাকু আপনাদের কোন ক্ষতি করতে না পারে, তাহলে আপনারা কেন যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হন না? গুলি ও অন্যান্য মারণাস্ত্র যাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না, সেসব লোকের ইরাকের বড্ড প্রয়োজন। তিনি সেখানে ঐ রেফাঈ ছুফী নেতাকে দ্ব্যর্থহীনকণ্ঠে বলেছিলেন, আপনি আমার হাতে একটা রিভলভার দিন। আমি গুলী ছুঁড়ে দেখিয়ে দিচ্ছি, ওটা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারে কি-না। একথা বলার পর ঐ ভণ্ড ছুফী পালাতে দিশা পায়নি (দিরাসাত ফিত-তাছাওউফ, পৃঃ ২৩২)।

শিক্ষা: ভণ্ড ছুফীরা শয়তানী ক্ষমতার অধিকারী হয়ে নিজেদের অনেক বড় কিছু হিসাবে পরিচয় দেয় এবং অজ্ঞ মানুষকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তাদের কূটচক্র তাসের ঘরের চেয়েও দুর্বল। কেবল আল্লাহর উপর ভরসাহীন মূর্খরাই এদের প্রতারণার শিকার হয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক পীর ছাহেব

📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক পীর ছাহেব


বর্তমান ভারতের হায়দরাবাদ রাজ্যের হোসিয়ারপুরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলনে মহাকবি আল্লামা ইকবাল (মৃঃ ১৯৩৮) একবার অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ভারতবর্ষের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের মধ্যে জনৈক পীর ছাহেব হাযির ছিলেন। তাঁকে দেখে জনৈক মুরীদ এসে ৫/= নযরানা পেশ করে তার জন্য দো'আর আবেদন করেন। যাতে তার ৫০/= ঋণ থেকে আল্লাহ সত্বর মুক্ত করেন। সেই যামানায় এই টাকার যথেষ্ট মূল্য ছিল। যাইহোক পীর ছাহেবের আবেদনক্রমে তাঁর সাথে উপস্থিত সকলে হাত উঠিয়ে দো'আয় শরীক হ'লেন। কিন্তু আল্লামা ইকবাল শরীক হ'লেন না। দো'আ শেষে পীর ছাহেবের প্রশ্নের জওয়াবে ইকবাল বললেন, 'দো'আ চাওয়ার পূর্বে লোকটি ৫০/= টাকা ঋণী ছিল। এখন আপনার কাছে দো'আ চাইতে গিয়ে সে ৫৫/= টাকা ঋণগ্রস্ত হ'ল। তাই আমি আবার দো'আ করে তার ঋণের পরিমাণ বাড়াতে চাইনি'।
এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, শুধু দো'আ নয়, বরং সবাই মিলে অর্থ সাহায্য করে লোকটিকে ঋণমুক্ত করাই ছিল ইসলামী নীতি। তাছাড়া নযরানার নামে ৫/= ঘুষ নিয়ে দো'আ করলে ঐ দো'আ নিঃস্বার্থ হয় না এবং তা আল্লাহ কবুল করেন না।

শিক্ষা: সাধারণ মানুষের পকেট ছাফ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ভণ্ড পীর-ফকীর থেকে সাবধান!

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 পীরভক্তি

📄 পীরভক্তি


জনৈক পীর পীরগিরিতে যদিও সফলকাম হয়েছিলেন, তথাপি তাঁর ছেলেকে ঐ বিদ্যায় পারদর্শী না করে সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে ইচ্ছুক হলেন। এসএসসি পাশের পর ছেলেকে কলেজে ভর্তি করে দিলেন এবং তাকে বিয়ে দিয়ে দিলেন। অতঃপর কিছুদিন পর তিনি মারা গেলেন।
ছেলের নাম আব্দুল্লাহ। ছেলের আইএ ফাইনাল পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এলো। পিতার আর্থিক অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না। পীরগিরি করেই তিনি সংসার চালাতেন। পিতার মৃত্যুতে ছেলে আর্থিক দিক দিয়ে চরম ক্ষতির মধ্যে পড়ল। কিন্তু পড়াশুনা ত্যাগ করল না। পরীক্ষার ফী বাবদ শ্বশুরের নিকট থেকে টাকা পাবার প্রত্যাশায় সে একদিন শ্বশুর বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করল। মাঝ পথে তার পিতার অনেক মুরীদ রয়েছে। ক্বাসেম গোলদার নামে এক বুড়ো অবস্থাপন্ন মুরীদের বাড়ীতে ঠিক দুপুরে আব্দুল্লাহ ক্লান্ত-ঘর্মাক্ত হয়ে উঠল। উদ্দেশ্য এখানে একটু বিশ্রাম নিয়ে বিকেলের দিকে পুনরায় যাত্রা করা।
বুড়ো ক্বাসেম গোলদার আব্দুল্লাহকে দেখতে পেয়েই ব্যস্ত হয়ে তার কদমবুসি করার জন্য অগ্রসর হ'ল। পথ চলতে চলতে হঠাৎ সাপ দেখে মানুষ যেভাবে আঁতকে উঠে এক পাশে সরে দাঁড়ায়, ঠিক তেমনিভাবে আব্দুল্লাহ সরে দাঁড়াল। ক্বাসেম গোলদারের মনে হ'ল, অল্পের জন্য জান্নাতের দুয়ারের চাবি তার হাতের কাছ থেকে সরে গেল। সে মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে বলল, 'আমাদেরকে কি পায়ে ঠেললেন হুযূর?' আব্দুল্লাহ জবাব দিল, 'আপনি আমার মুরুব্বী, তাই আমারই উচিত আপনার কদমবুসি করা'। শুনে ক্বাসেম গোলদার তওবা তওবা বলতে লাগল এবং বলল, 'আমাদেরকে আর গোনাহগার করবেন না হুযূর। আপনি যে বংশে জন্মেছেন, সে বংশের একজন বালকের পদধূলি পেলেও আমাদের জান্নাতের পথ খোলাসা হয়ে যায়'।
প্রসংগ পাল্টানোর জন্য আব্দুল্লাহ বলল, 'দেখুন! আমি খুবই ক্লান্ত। আগে আমার একটু বিশ্রামের দরকার'। তখন বুড়ো ক্বাসেম গোলদার পানি নিয়ে আনো, পাখা আনো ইত্যাদি বলে হাকডাক শুরু করে দিল। সঙ্গে সঙ্গে ওযূর পানি এলো, পাখাও আনা হ'ল। ওযূর পর একটি সুন্দর ঘরে আব্দুল্লাহকে বসিয়ে পাখা দিয়ে বাতাস করতে লোক নিয়োজিত হ'ল। উপস্থিত মোরগের গোশত দিয়ে দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা হ'ল। কিন্তু রাতের জন্য একটি খাসী জবাই করা হ'ল এবং গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরও দাওয়াত করা হ'ল। গ্রামবাসী সকলে আব্দুল্লাহর পিতার মুরীদ। পিতার অবর্তমানে আব্দুল্লাহই তার স্থলাভিষিক্ত। অন্ততঃ মুরীদগণ আব্দুল্লাহকে মনে মনে সেই আসনে বসিয়েছে।
রাতের খাওয়া-দাওয়া বেশ সুন্দরভাবেই সম্পন্ন হ'ল। ক্বাসেম গোলদার আমন্ত্রিত ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনায় বসল। আব্দুল্লাহকে লক্ষ্য করে ক্বাসেম বলল, হুযূর আপনাদের পূর্বপুরুষ সুদূর আরব থেকে মাছের পীঠে চড়ে এদেশে এসেছিলেন। তাই তাকে 'মাহী সওয়ার' বলা হ'ত। তাঁর কেরামতির কথা লোকের মুখে মুখে। নদীতে নৌকা ডুবে গেলে তিনি বৈঠকখানায় বসে থেকে তা টেনে তুলতেন। ফলে তার আস্তীন ভিজে যেত। হাতে কিছু খাবার নিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে 'আও আও' করলে লক্ষ লক্ষ কবুতর এসে জমা হ'ত। তিনি সেগুলিকে ঐভাবে খাওয়াতেন। আব্দুল্লাহ অতি মনোযোগ সহকারে বৃদ্ধ ভক্তের কথাগুলি শুনছিল।
এক সময় ক্বাসেম বলল, হুযূর! আপনাদের বংশে সবাই কামেল পীর হয়েই জন্মায়। এক পীর নিজ হাতে একটি কাঁঠাল গাছ রোপণ করে সেবা-যত্নে সেটি বড় করেছেন। গাছে প্রথমবার মাত্র একটি কাঁঠালই ধরেছে। পীর মনে মনে স্থির করেছেন, কাঁঠালটি তিনি খাবেন। তার অনুপস্থিতির সুযোগে তার এক নাবালক ছেলে কাঁঠালটি খেয়ে ফেলে। বাড়ী এসেই তিনি কাঁঠালের খোঁজে যান। দেখেন, গাছে কাঁঠাল নেই। তিনি খুব রাগান্বিত হয়ে যান। ফলে কেউ বলে না, কাঁঠাল কে খেয়েছে। ঐ নাবালক ছেলের বিমাতার কাছ থেকে পীর জানতে পারলেন, কাঁঠালটি কে খেয়েছে। পীর ছেলেকে ডাকলেন। ছেলে এলে পিতা বললেন, 'তুমি কাঁঠাল খেয়েছ কেন?' ছেলে কিছুমাত্র ইতস্ততঃ না করে জবাব দিল, 'কেন, আব্বা, গাছের কাঁঠাল তো গাছেই আছে'। পিতা তখন পুনরায় গাছের কাছে গিয়ে বিস্মিত নয়নে দেখলেন, সত্যিই তো কাঁঠাল গাছেই রয়েছে। পিতার বুঝতে বাকী রইল না। তিনি অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হয়ে বললেন, 'কিয়া, এক ঘরমে দো পীর? যাও বাছা শুয়ে রও'। বাছা সেই যে শুইল। আর উঠল না।
আব্দুল্লাহ তার পিতার মুরীদের পীরদের কেরামতির অতিরঞ্জিত গল্প শুনে একেবারে তাজ্জব বনে গেল। আর একটা ভাবনা তার মনকে আলোড়িত করতে থাকল যে, পুত্রের পীরগিরিতে পিতার হিংসার কাহিনী তারা কিভাবে ব্যক্ত করতে পারে! আর এহেন পীরকে তারা মাথায় নিয়ে জান্নাতের পথ খোলাসা করতে চায়!

শিক্ষা: তথাকথিত পীররা মিথ্যা কেরামতির দোহাই দিয়ে মুরীদদের ঈমান হরণ করে। অতএব এদের থেকে সাবধান।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00