📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক ভিক্ষুক

📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক ভিক্ষুক


একবার আল্লামা ইকবাল জনৈক ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেন। লোকটি যাবার সময় তাঁকে দো'আ করল এই মর্মে যে, 'মৃত্যুর পরে আপনার আত্মা যেন মহান পরমাত্মার দয়ার সাগরে মিশে যায়'। ইকবাল তাকে ডেকে বললেন, 'বরং তুমি এই দো'আ কর যে, ইকবালের আত্মা যেন বৃষ্টি বিন্দুর ন্যায় মহাসাগরে বিলীন না হয়ে তার উপরে মুক্তার ন্যায় ভেসে থাকে'।
এর দ্বারা মহাকবি আল্লামা ইকবাল (রহঃ) মা'রেফতী ছুফীদের প্রচারিত ভ্রান্ত অদ্বৈতবাদী আক্বীদার প্রতিবাদ করেছেন। যারা বলে যে, 'সকল সৃষ্টিই সৃষ্টিকর্তার অংশ। আহাদ ও আহমমাদের মধ্যে মীমের একটি পর্দা ব্যতীত কোন পার্থক্য নেই। যত কল্লা তত আল্লা। তিনি নিরাকার। তিনি সবার মধ্যে সর্বত্র বিরাজমান'। অথচ প্রকৃত আক্বীদা হ'ল এই যে, সৃষ্টি ও সৃষ্টা সম্পূর্ণ পৃথক দু'টি সত্তা। আল্লাহ্র প্রতি বিশ্বাস, আনুগত্য ও কর্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহ্র রঙে রঞ্জিত হ'তে পারে। কিন্তু সে আল্লাহ্র সত্তায় বিলীন হয়ে যায় না। আল্লাহ নিজ সত্তা নিয়ে আসমানের উপরে আরশে সমুন্নত। কিন্তু তাঁর ইল্ম ও কুদরত সর্বত্র বিরাজমান।

শিক্ষা : আল্লাহ সম্পর্কে সঠিক আক্বীদা পোষণ পরকালে মুক্তির সোপান। পক্ষান্তরে বিভ্রান্ত আক্বীদা মানুষকে পথভ্রষ্ট করে দেয় এবং জাহান্নামকে অবধারিত করে দেয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) ও ছূফীদের গল্প

📄 ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) ও ছূফীদের গল্প


ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (৬৬১-৭২৮ হিঃ)-এর সময়ে সিরিয়া এলাকায় ছুফীদের উপদ্রব ছিল খুব বেশী। তারা 'কারামতের' নামে বিভিন্ন ভেল্কিবাজি দেখিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করত ও তাদের গোলামীতে আবদ্ধ করত। দেশের নেতৃবৃন্দ ও সমাজপতিরা ছাড়াও হাযার হাযার সাধারণ লোক তাদের ধোঁকার জালে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ছুফীরা নিজেদেরকে 'বিশেষ ক্ষমতার অধিকারী' এবং আল্লাহ্ বিশেষ অনুগ্রহপ্রাপ্ত বলে মিথ্যা দাবী করত। তারা আগুনের মধ্যে প্রবেশ করত, কিন্তু পুড়ত না। এ কারণে লোকেরা ভাবত, এইসব ছুফীর শিষ্য হ'তে পারলে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। মানুষ ইবাদত-বন্দেগী ছেড়ে দিয়ে দলে দলে তাদের খানকাহে হাযির হয়ে নযর- নেয়ায দিয়ে তথাকথিত মা'রেফাতের সবক নেওয়া শুরু করল।
গোমরাহীর এই স্রোত ঠেকানোর জন্য ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) সিরিয়ার বাদশাহ্র নিকটে উপস্থিত হয়ে বললেন, হে বাদশাহ! আমি এই ছুফীদের চ্যালেঞ্জ করছি। আপনি ওদের হাযির করুন। বাদশাহ বললেন, ওরা তো বলে যে, ওদের এক ধরনের 'হাল' হয়। যার কারণে ওরা আগুনে প্রবেশ করলেও অক্ষত থাকে। 'শরী'আতপন্থী কোন ব্যক্তি একাজ করতে সক্ষম নয়' বলে ওরা দাবী করে থাকে।
ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বললেন, আমিও আগুনে প্রবেশ করব। তবে একটা শর্ত আছে, যেটা ওদের সাথে চ্যালেঞ্জের মুকাবিলায় গিয়ে বলব। আপনি ওদের নেতাদের হাযির করুন।
বাদশাহ ছুফী সম্রাটদের দরবারে হাযির করলেন। যথাসময়ে ছুফী সম্রাট তার সাথী শায়েখ খলীফা সাইয়েদ আহমাদ ও শায়েখ হাতেম প্রমুখকে নিয়ে উপস্থিত হ'লেন। অতঃপর তারা তাদের টেকনিক অনুযায়ী প্রথমে অনেকগুলি মা'রেফতী কসরৎ করলেন। তারপর 'হাল' হ'ল। এরপর ছুফী সম্রাট আগুনে প্রবেশ করতে উদ্যত হ'লেন। কিন্তু ইমাম ইবনে তায়মিয়াহ (রহঃ) বাধা দিয়ে বললেন, 'খাল' (সাবান-এর ন্যায় এক প্রকার বস্তু) ও গরম পানি দিয়ে আগে গোসল কর। তারপর আগুনে প্রবেশ কর'। কিন্তু ছুফী সম্রাট চিৎকার দিয়ে বলে উঠল, এটাই আমাদের মা'রেফতী তরীকা। গোসল করাটা আমাদের তরীকা বিরোধী। ইবনু তায়মিয়াহ বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, তাহলে মোমবাতির আগুনে কেবল তোমার আঙ্গুলটি পোড়াও, আমিও আঙ্গুল পোড়াব। কিন্তু শর্ত হ'ল, আগে তোমার আঙ্গুলগুলো ভালভাবে গরম পানি ও 'খাল' দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। কিন্তু ছুফী সম্রাট এতে আরও ক্ষেপে উঠল ও রাগান্বিত হয়ে চলে গেল। তখন সমবেত হাযার হাযার জনতার উদ্দেশ্যে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বললেন, আসল রহস্য হ'ল এই যে, এরা হাতে পায়ে ও সারা দেহে 'কিবরীত' নামক এক প্রকার তৈল মর্দন করে। যা আগুন থেকে দেহকে রক্ষা করে। এটাকেই লোকেরা তাদের 'কারামত' মনে করে। আর এই সুযোগে ছুফীরা ভক্তদের ঈমান চুরি করে ও তাদের পকেট ছাফ করে। এরা শয়তানের এজেন্ট। এদের থেকে সকলে সাবধান হও'। তিনি বলেন, যদি কেউ অলৌকিকতা দেখিয়ে আগুনে প্রবেশ করে বা আকাশে ওড়ে বা পানিতে হেঁটে বেড়ায়, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কেননা বড় দাজ্জাল আকাশকে বলবে, 'পানি বর্ষণ কর' তখন বৃষ্টি হবে। মাটিকে বলবে, 'উৎপাদন কর' তখন বিভিন্ন গাছ জন্মাবে। সে বলবে, হে যমীন! তোমার খনিগুলোকে বের করে দাও। তখন সব খনিজ সম্পদ বেরিয়ে আসবে। সে মানুষ হত্যা করবে, তারপর বলবে, উঠে দাঁড়াও। তখন সে পুনরায় জীবিত হয়ে উঠে দাঁড়াবে'। অতএব হে জনগণ! অলৌকিকতার মধ্যে কোন শিক্ষা নেই। প্রকৃত শিক্ষা হ'ল এ বিষয়ে যে, মানুষের কাজ-কর্ম কুরআন ও সুন্নাহ মোতাবেক হচ্ছে কি-না। কুরআন ও সুন্নাহ হ'ল সবকিছুর মাপকাঠি।
ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-এর এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে হাযার হাযার মানুষ মা'রেফাতের ধোঁকা থেকে মুক্ত হ'ল এবং পুনরায় কুরআন ও সুন্নাহ্ পথে ফিরে এল।
[উল্লেখ্য যে, সমাজের দুনিয়াপূজারী আলেম ও ভণ্ড পীর-আউলিয়াদের চক্রান্তে ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে ৮ বার জেল খাটতে হয় এবং জেলখানাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।]

শিক্ষা: ছুফী/ব্রেলভীদের যাবতীয় ভ্রান্ত কারামতের ভেল্কিবাজি থেকে সাবধান থাকুন! যাতে তারা ঈমানদারদের ঈমান হরণ করতে না পারে।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 ইহসান ইলাহী যহীর ও ভণ্ড ছূফীর কেরামতি

📄 ইহসান ইলাহী যহীর ও ভণ্ড ছূফীর কেরামতি


আহলেহাদীছ আন্দোলনের নির্ভীক সেনানী আল্লামা ইহসান ইলাহী যহীর বাতিল ফিরকাগুলোর কেন্দ্রে ও তাদের মাহফিলে গিয়ে মুনাযারা করতেন নির্ভয়ে-নিঃশঙ্কচিত্তে। ১৯৬৫ সালে ইরাকের সামারায় এক রেফাঈ ছুফী নেতার সাথে তাঁর মুনাযারা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ছুফী নেতার দাবী ছিল, সে কারামতের অধিকারী। অস্ত্র তার কোন ক্ষতি করতে পারে না। আল্লামা যহীর এর প্রত্যুত্তরে বিতর্কসভায় বলেছিলেন, যদি অস্ত্র, বর্শা ও চাকু আপনাদের কোন ক্ষতি করতে না পারে, তাহলে আপনারা কেন যুদ্ধের ময়দানে অবতীর্ণ হন না? গুলি ও অন্যান্য মারণাস্ত্র যাদের কোন ক্ষতি করতে পারে না, সেসব লোকের ইরাকের বড্ড প্রয়োজন। তিনি সেখানে ঐ রেফাঈ ছুফী নেতাকে দ্ব্যর্থহীনকণ্ঠে বলেছিলেন, আপনি আমার হাতে একটা রিভলভার দিন। আমি গুলী ছুঁড়ে দেখিয়ে দিচ্ছি, ওটা আপনার কোন ক্ষতি করতে পারে কি-না। একথা বলার পর ঐ ভণ্ড ছুফী পালাতে দিশা পায়নি (দিরাসাত ফিত-তাছাওউফ, পৃঃ ২৩২)।

শিক্ষা: ভণ্ড ছুফীরা শয়তানী ক্ষমতার অধিকারী হয়ে নিজেদের অনেক বড় কিছু হিসাবে পরিচয় দেয় এবং অজ্ঞ মানুষকে প্রতারিত করতে চায়। বস্তুতঃ তাদের কূটচক্র তাসের ঘরের চেয়েও দুর্বল। কেবল আল্লাহর উপর ভরসাহীন মূর্খরাই এদের প্রতারণার শিকার হয়।

📘 গল্পের মাধ্যমে জ্ঞান > 📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক পীর ছাহেব

📄 মহাকবি আল্লামা ইকবাল ও জনৈক পীর ছাহেব


বর্তমান ভারতের হায়দরাবাদ রাজ্যের হোসিয়ারপুরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক কবিতা সম্মেলনে মহাকবি আল্লামা ইকবাল (মৃঃ ১৯৩৮) একবার অংশগ্রহণ করেন। সেখানে ভারতবর্ষের বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। যাঁদের মধ্যে জনৈক পীর ছাহেব হাযির ছিলেন। তাঁকে দেখে জনৈক মুরীদ এসে ৫/= নযরানা পেশ করে তার জন্য দো'আর আবেদন করেন। যাতে তার ৫০/= ঋণ থেকে আল্লাহ সত্বর মুক্ত করেন। সেই যামানায় এই টাকার যথেষ্ট মূল্য ছিল। যাইহোক পীর ছাহেবের আবেদনক্রমে তাঁর সাথে উপস্থিত সকলে হাত উঠিয়ে দো'আয় শরীক হ'লেন। কিন্তু আল্লামা ইকবাল শরীক হ'লেন না। দো'আ শেষে পীর ছাহেবের প্রশ্নের জওয়াবে ইকবাল বললেন, 'দো'আ চাওয়ার পূর্বে লোকটি ৫০/= টাকা ঋণী ছিল। এখন আপনার কাছে দো'আ চাইতে গিয়ে সে ৫৫/= টাকা ঋণগ্রস্ত হ'ল। তাই আমি আবার দো'আ করে তার ঋণের পরিমাণ বাড়াতে চাইনি'।
এর দ্বারা তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, শুধু দো'আ নয়, বরং সবাই মিলে অর্থ সাহায্য করে লোকটিকে ঋণমুক্ত করাই ছিল ইসলামী নীতি। তাছাড়া নযরানার নামে ৫/= ঘুষ নিয়ে দো'আ করলে ঐ দো'আ নিঃস্বার্থ হয় না এবং তা আল্লাহ কবুল করেন না।

শিক্ষা: সাধারণ মানুষের পকেট ছাফ করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া ভণ্ড পীর-ফকীর থেকে সাবধান!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00