📘 গল্পে আঁকা সীরাত হে মুহাম্মদ > 📄 আমি ইসলামের পতাকা

📄 আমি ইসলামের পতাকা


কখনো আমি কাপড়ের তৈরী। কখনো কাগজের। কখনো একটিরও না। আমি ইসলামের পতাকা— এটিই আমার আসল রূপ। এটিই আমার আসল পরিচয় এটিই আমার আসল ছবি। এ-রূপেই আমি রূপময়। এ-ছবিতেই আমি ছবিময়। সত্যিকারের ইসলামই আমার জীবন, যে ইসলামের পয়গাম শুনিয়ে গেছেন পৃথিবীর মানুষকে সায়্যিদুল মুরসালিন (সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল), খাতামুন নাবিয়্যিন (সর্বশেষ নবী)।

আমার জীবনে আছে কিছু অবিস্মরণীয় ঘটনার মধুময় স্মৃতি। ইতিহাসের পাতায় সে সব লেখা আছে নূরের হরফে—স্বর্ণাক্ষরে। যে শহরের উদার আকাশে আমি প্রথম উড়েছি, পতপত করে ইসলামের জয়যাত্রার ঘোষণা দিয়েছি, সে আকাশটা হলো ইয়াসরিবের আকাশ। পরবর্তীর্তে যে ইয়াসরিবের নাম বদলে হয়ে যায়- মদীনাতুর রাসূল—রাসূলের শহর—মদীনা মুনাওয়ারা। তখন সেখানে এসে আশ্রয় নেন ঈমান নিয়ে, ইসলাম নিয়ে আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরাম। কোরাইশের অমানবিক অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে। তাদের সকল ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের জাল ছিন্ন করে। আমি মদীনার আকাশে তখন পতপত করে ওড়ছিলাম আর আনন্দে আকাশের নিঃসীম নিলীমায় তাকিয়ে তাকিয়ে আল্লাহ্র মহিমা ঘোষণা করছিলাম।

আহা! মদীনার মানুষের কী মায়া! মদীনার আকাশের কী ছায়া! মদীনার পরিবেশের কী দয়া! মুহূর্তেই তাঁরা কী আপন করে নিয়েছেন মক্কা থেকে-আসা মুহাজির ভাইদেরকে! ভালোবাসা দিয়ে, স্নেহ-মমতা দিয়ে, সম্পদ-সহায়তা দিয়ে! কী নিবিড় টানে সবাই একজন করে মুহাজিরকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন! আল্লাহ্র নবীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ভাই হিসাবে বরণ করে নিয়েছিলেন! এভাবেই তাঁরা 'আনসার' হয়ে গিয়েছিলেন- আল্লাহ্র কুরআনের ভাষায়! রাসূলের হাদীসের ভাষায়! ক'জনের ভাগ্যে জুটে 'আকাশের উপাধী'?

ইসলামের ইতিহাসে প্রথম যে লড়াইটা বদর-প্রান্তরে হয়েছিলো সেখানে আমিই ছিলাম পতাকা। বদরের আকাশে পতপত করে আমি সেদিন ওড়ছিলাম আর ইসলামের মহিমা প্রকাশ করে যাচ্ছিলাম। ইসলামের চিরন্তনতা ও বিশ্বজনীনতার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেদিন বীর লড়াকুরা আমাকে- ইসলামের পতাকাকে উড্ডীন রাখতে বীর-বিক্রমে লড়াই করেছিলেন। রক্ত দিয়েছিলেন। জীবন দিয়েছিলেন। আর মাটির এই বীরদের সাহায্য করতে নেমে এসেছিলেন আসমানের 'বীররা'ও! ফলে মক্কার অহঙ্কারী কাফির মুশরিকদের পরিণতি যা হওয়ার তাই হলো, তারা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হলো। বাঘা বাঘা নেতারা নিহত হলো। ওদেরকে 'ক্বালীব' কূপে ছুঁড়ে ফেলে দেয়া হলো। আল্লাহ্র ফেরেশতাদের সরাসরি অংশগ্রহণে অর্জিত এ-বিজয়ে মুসলিম বাহিনী আমাকে ঊর্দ্ধাকাশে তুলে ধরে আল্লাহ্র মহিমা প্রকাশ করতে লাগলেন। তাঁর অযুত-নিযুত গুণগানে মুখর হয়ে উঠলেন। আমি বদরের আকাশে পতপত করতে লাগলাম- আনন্দে আবেগে উত্তেজনায়।

ওহুদ যুদ্ধেও আমি পতপত করে ওড়ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ মুসলিম শিবিরে সাময়িক বিপর্যয় নেমে এলে আমি প্রায় উল্টে যেতে বসেছিলাম। কিন্তু বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে মুসলমানরা বেশী সময় নিলেন না, আবার তাঁরা সংঘবদ্ধ হলেন। রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিলেন। আমার মর্যাদা রক্ষা করলেন।

খন্দকেও আমি হুমকির মুখে পড়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহ্ সাহায্যে হুমকি দূর হয়ে গেলো। মুসলিম বাহিনীর অশ্রুময় মুনাজাত এবং রক্তময় প্রতিরোধে কাফেররা পালিয়ে গেলো। আমি সমহিমায় সগৌরবে আবার মদীনার আকাশে উড়তে লাগলাম। আমার নিচে এসে আশ্রয় নিতে লাগলো প্রতিদিন নতুন নতুন মুখ, ঈমানের নূরে নূরানি হয়ে। জিহাদের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে। নবীজীর সান্নিধ্যের পরশে ঝলকিত হয়ে।

কিন্তু বন্ধু, মক্কা বিজয়ের সময় আমি মক্কার আকাশে.. কা'বার কাছে কেমন করে ওড়ছিলাম? ওহ! সে কথা বলতে আমি একেবারে মুখিয়ে আছি! কিন্তু কোন্ ভাষায় বলি? সেদিন সত্যি আমি ছিলাম গর্বিত, আনন্দ-বিহ্বল! নিজের চোখে দেখেছি নবীজীর বিজয়। মহা বিজয়। আরো দেখেছি কেমন করে তিনি মক্কার এইসব 'জানি দুশমন'কেও কী আকাশ-উদারতায় মাফ করে দেয়ার মহা ঘোষণা দিলেন! আমি তাঁর এই মহত্ত্বে তাঁর এই উদারতায় আরো জোরে জোরে পতপত করে উড়তে লাগলাম! মক্কায় সেদিন ভূলুণ্ঠিত হলো প্রতিমাপূজার অভিশপ্ত পতাকা। ছিলাম শুধু আমি একা, শুধুই একা! এরপর আর কোনোদিন মক্কায় প্রতিমা আর প্রতিমাপূজারীদের ঠাঁই হয় নি। কোনোদিন হবেও না!! প্রতিমাপূজারীরা সেখানে আর কোনোদিন ঢুকতেই পারবে না।

মক্কা বিজয়ের পর এক বছর পেরুতে-না-পেরুতেই আমি জাযিরাতুল আরবের সবখানে উড়তে লাগলাম। দলে দলে তখন মানুষ আল্লাহ্র রাসূলের কাছে এসে ঈমান কবুল করে ধন্য হচ্ছিলো। আমার ছায়ায় এসে জড়ো হচ্ছিলো। যেনো প্রবল বেগে এক স্রোতধারা বয়ে চলছে। এই স্রোতধারার মোহনা ছিলেন আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। হ্যাঁ, এই মোহনায় এসে সবাই আছড়ে পড়তে লাগলো। জীবনের আশায়। মুক্তির আশায়। আলোর খোঁজে। চিরকালীন জান্নাতের 'লোভে'। ক্ষণকালীন দুনিয়ার স্বার্থ ও লোভকে 'চিরবিদায়' বলে।

হিজরী দশম বছরের কথা বলি। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন আবার মক্কায়। আগে এসেছিলেন মক্কা বিজয় করতে এখন এলেন মক্কায় হজ্ব করতে। কা'বা তাওয়াফ করতে। সাফা-মারওয়া সাঈ করতে। আরাফায় 'ওকূফ'-অবস্থান করতে। মিনা-মুযদালিফায় ছুটে যেতে। জামারায় শয়তানকে পাথর মারতে। তৃপ্তিভরে জমজম পান করতে। আমি তাঁর শেষ ভাষণের সময়-বিদায় হজ্বের ভাষণের সময় পতপত করে ইসলামের মহিমা ও গৌরবগাথা ছড়িয়ে দিচ্ছিলাম আকাশের নিঃসীমতায়.. মহা শূন্যতায়। আমার আনন্দের তখন কোনো সীমা ছিলো না। যদিও সেদিন প্রিয় নবীর কথায় বারবার বিরহের সুর বেজে উঠছিলো, তবুও লক্ষাধিক সাহাবীর মাথার উপরে আমার উড়তে পারা পেছনের সব আনন্দকে বুঝি ম্লান করে দিলো! আহা, কী আনন্দ! মক্কা থেকে মাত্র দশ বছর আগে-না আল-আমীনকে সঙ্গোপনে মদীনায় গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো- ঈমান নিয়ে, আমল নিয়ে! আজ এখানে দশ বছর আগের সেই নিষ্ঠুরতাকে হার মানিয়ে কী ছায়া, কী মায়া! কী দরদ-ভালোবাসা!

আরো কতো স্মৃতি এখন আমার মাঝে তোলপাড় করছে! আমাকে নিয়ে বাঁকে বাঁকে ঘুরছে! কোথাও বা থমকে দাঁড়াচ্ছে! শহীদানের কবরের পাশে অশ্রু ফেলছে! আমি নবীজীর কাছ-ছাড়া হই নি মুহূর্তের জন্যেও। যেখানে তিনি গেছেন সেখানে আমিও গেছি। হোক তা জিহাদের ময়দানে কিংবা কা'বার আঙ্গিনায়। আমি জানি- কেমন ছিলো তাঁর সকাল-সন্ধ্যা ও দিবস-রজনী! আমি দেখেছি তাঁর আমল। আমি শুনেছি তাঁর কথা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে- তিনি ছিলেন মহান, সবকিছুতে মহান। তিনি ছিলেন মহা মানব। সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা। বিশ্বস্ত পথিকৃৎ। কল্যাণকামী, বিশ্বস্ত। অকৃত্রিম জনদরদি। বীর সিপাহসালার। শ্রেষ্ঠ দয়ালু। অতুলনীয় দাতা। শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞ। শ্রেষ্ঠ প্রাজ্ঞ। মানবিকতার পূর্ণ আধার। অদ্বিতীয় ভদ্র সভ্য মার্জিত অভিজাত। না, এভাবে গোনে গোনে আমি তাঁর অফুরন্ত গুণভাণ্ডার ফুরোতে পারবো না। বরং আল্লাহ তাঁর সম্পর্কে এক কথায় যেমন স-ব বলে দিয়েছেন- এখন সে বাণীই আমি তিলাওয়াত করছি আনন্দোদ্বেল কণ্ঠে-

وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ

নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী।

আমি তাঁকে ভীষণ ভালোবেসে ফেলেছিলাম। যেমন অন্যরা তাঁকে ভালোবাসেন। হৃদয় দিয়ে ভালোবাসেন। জীবন দিয়ে ভালোবাসেন। নিজের চেয়ে ভালোবাসেন। পরিবার-পরিজন- সবার চেয়ে ভালোবাসেন। বিদায় হজ্বের পর একেকটি দিন যাচ্ছিলো আর মুসলমানদের সংখ্যা কী মজা কেবলই বাড়ছিলো। দলে দলে ছুটে আসছিলেন আলোর সন্ধানীরা। এসে এসে দিয়ে যাচ্ছিলেন ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা। এ যেনো এক উৎসব— আঁধার থেকে আলোয় ফিরে আসার। তাঁরা আবেগ-প্লাবিত কণ্ঠে নবীজীর হাতে হাত রেখে বাইয়াত গ্রহণ করছিলেন। সবখানে ইসলামকে ছড়িয়ে দেয়ার শপথ করছিলেন আমাকে—ইসলামের পতাকাকে— চির উন্নত রাখতে।

তারপর এলো সেই দিনটি। আমার জীবনের সবচে' কালো দিনটি। সবচে' শোকের দিনটি। সবচে' অশ্রুময় দিনটি। আমি যেনো কাঁপতে ভুলে গেলাম। আমি যেনো পতপত করতে ভুলে গেলাম। আমার কাছে যখন পৌঁছলো এই মহা শোকবার্তা- নবীজী আর নেই, তখন মনে হলো, আমি যেনো নিজের অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলেছি! আমি শোক-স্তব্ধতায় বিমূঢ় হয়ে গেলাম! নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না! আমার মতো অন্যরাও শোকে স্তব্ধ হয়ে গেলেন! হযরত উমর রা. তো শোকের আতিশয্যে নবীজীর ওফাতকে মানতেই পারলেন না, তরবারি উঁচিয়ে ঘোষণা দিলেন:
-যে বলবে মুহাম্মদ নেই, আমি তাকে আস্ত রাখবো না!

সাহাবায়ে কেরাম সবাই শোকে মুহ্যমান। কিংকর্তব্যবিমূঢ়। পিতৃহারা এতিমের বোবা দৃষ্টি নিয়ে সবাই তাকিয়ে আছেন। কেউ কেউ অঝরে কেঁদে চলেছেন। একটা কঠিন শোকাবহ পরিস্থিতির ভিতরে সময় যেনো আটকে আছে। পৃথিবী যেনো থমকে আছে। সূর্যটাও যেনো অস্তাচলের দিকে অগ্রসর হতে ভুলে গেছে। স-বই যেনো থেমে আছে। চলছে শুধু শোকের গতি। শোকের নদী। শোকের বন্যা। কিন্তু এ অবস্থা তো বেশিক্ষণ চলতে পারে না! হযরত উমর রা.-এর মতো নতুন করে কেউ যদি শোক-পরাস্ত হয়ে তরবারি খাপমুক্ত করে বসেন? উমরের এমন হলে অন্য কারো এমন হবে না কেনো? হতেই পারে!

এ শোক-সাগর থেকে শোক-ডুবন্ত সাহাবীদেরকে উদ্ধার করতে অবশেষে এগিয়ে এলেন সবচে' বড় সাহাবী সিদ্দীকে আকবার হযরত আবু বকর রা.! তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে, বিশেষত উমর রা.-এর শোক-কাতরতা ভেঙে দিতে ঘোষণা করলেন-

يَا أَيُّهَا النَّاسُ! مَنْ كَانَ يَعْبُدُ مُحَمَّدًا فَإِنَّ مُحَمَّدًا قَدْ مَاتَ. وَ مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ فَإِنَّ اللَّهَ حَيَّ لَا يَمُوْتُ.

হে লোকেরা! যারা মুহাম্মদ-পূজা করতে তারা কান খুলে শোনো- মুহাম্মদ চলে গেছেন! আর যারা আল্লাহ্র ইবাদত করো তাদেরকে বলছি- আল্লাহ্র কোনো মৃত্যু নেই, তিনি চিরন্তন চিরঞ্জীব। এরপর তিনি এ-আয়াত পড়লেন-

( وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ মَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللَّهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ )

'আর মুহাম্মদ একজন রাসূল বৈ তো নয়। তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়ে গেছেন। তাহলে তিনি যদি মৃত্যুবরণ করেন অথবা নিহত হন, তবে কি তোমরা পশ্চাদপসরণ করবে? বস্তুত: কেউ যদি পশ্চাদপসরণ করে, তবে তাতে আল্লাহ্ কিছুই ক্ষতি-বৃদ্ধি হবে না। আর যারা কৃতজ্ঞ, আল্লাহ তাদের সওয়াব দান করবেন।' -সূরা আলে ইমরান।

এই আয়াত শোনে হযরত উমরের ঘোর কাটলো। তিনি বললেন: -মনে হচ্ছিলো আমি যেনো কখনো এই আয়াত তিলাওয়াত করি নি!

ধীরে ধীরে শুকিয়ে এলো শোক-নদী। ধীরে ধীরে শান্ত হলো সবার অশান্ত মন। নবীজী চলে গেছেন কিন্তু তাঁর কাজ তো রেখে গেছেন! এই নবীওয়ালা কাম- কে আদায় করবে সবাই এগিয়ে না-এলে? সবাই এগিয়ে এলেন। পরবর্তী খলীফা মনোনীত করলেন। তিনি আর কেউ নন- গারে সাওরের সাথী হযরত আবু বকর রা.! হযরত আবু বকর খিলাফতের দায়িত্ব নিয়েই নবীজীর রেখে যাওয়া কাজ একে একে আঞ্জাম দিয়ে যেতে লাগলেন। সবার আগে উসামা বিন যায়দের নেতৃত্বাধীন সেনাদলকে তিনি সিরিয়া পাঠিয়ে দিলেন। ওফাতের আগ মুহূর্তে নবীজীই এই বাহিনী প্রস্তুত করেছিলেন।

এদিকে নবীজীর ওফাতের পর মুনাফিক ও দুর্বল ঈমানের লোকেরা বেশ গোলমাল শুরু করে দিলো। তারা দলে দলে ইসলাম ত্যাগ করে পূর্ব-ধর্মে ফিরে যেতে লাগলো। কেউ-বা যাকাত দিতে অস্বীকার করলো। কেউ-বা আবার নিজেকে নয়া নবী বলে দাবি করে বসলো। এরা এই জোটবদ্ধ মুরতাদরা আমাকে -ইসলামের পতাকাকে- নীচে নামিয়ে ফেলার জন্যে তোড়জোড় শুরু করে দিলো। কিন্তু আমি তো চির উন্নত। নত হতে ঊর্দ্ধমুখী হই নি! তাই যে যে-করেই আমার পতন চাইলো, তাদের চাওয়া চাওয়াই রইলো, আমি যেমন ছিলাম উন্নত, তেমনি আছি উন্নত। আমি চির উন্নত ‘শির’! নবীজীর ওফাতের পর তাই দুশমনের চাওয়া আর পাওয়া হলো না। আমি উড়তে লাগলাম পতপত করে মক্কায় মদীনায়—সবখানে! মহাবীর খালিদের হাতে আমি পৌঁছে গেলাম এক শহর থেকে আরেক শহরে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে। এমন করেই আমি আরো ছড়িয়ে পড়লাম দেশে দেশে, ইসলামের মহিমা ছড়াতে ছড়াতে। কখনো হযরত আবু উবায়দাহ ইবনুল জাররাহ রা.-এর হাতে। কখনো সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাত ধরে। কখনো আমর ইবনুল আ’স রা., উসামা বিন যায়দ রা.সহ আরো অসংখ্য বীর সেনাপতির হাত ধরে। এভাবে যেতে যেতে রোম পারস্যের আকাশকেও আমি স্পর্শ করেছি। ইসলামী বিজয়ধারা যেদিকে ছুটে গেছে সেদিকেই আমি ছুটে গিয়েছি। আন্দালুস ও চীনের আকাশও তন্ময়চিত্তে দেখেছে আমার আনন্দোদ্বেল কম্পন! বর্তমানে আমার ছায়ায় যারা আশ্রয় নিয়েছে তাদের সংখ্যা সাতশ মিলিয়ন! এ সংখ্যা দিনে দিনে বাড়ছেই। বাড়বেই। আমার ছায়া অনেক বড়! অনেক শীতল! অনেক মায়াময়!

সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00