📄 পরকালে টাকা-পয়সার বিনিময় চলবে না
হাদীসে রয়েছে, নবী ﷺ বলেছেন-
مَنْ كَانَتْ عِنْدَةً مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلَهُ مِنْهَا ، فَإِنَّهُ لَيْسَ ثَمَّ دِيْنَارُ ، وَلَا دِرْهَمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُؤْخَذَ لِأَخِيهِ مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ أَخِيهِ فَطْرِ حَتْ عَلَيْهِ.
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার কোন ভাইয়ের উপর অত্যাচার করেছে, (যেমন তার সম্মান নষ্ট করেছে অথবা...তার হক নষ্ট করেছে) সে যেন সেদিন আসার পূর্বেই নিজেকে মুক্ত করে নেয় অর্থাৎ তার হক আদায় করে দেয় অথবা ক্ষমা চেয়ে নেয়, যেদিন দিনার অথবা দিরহাম অর্থাৎ টাকা-পয়সা কোন কাজে আসবে না। যদি তার কোন নেক আমল থাকে তাহলে অত্যাচার পরিমাণ তার নিকট হতে কেটে নেয়া হবে। আর যদি তার কোন নেকী না থাকে তাহলে অত্যাচারিত ব্যক্তির পাপ এনে তার মাথায় চাপিয়ে দেয়া হবে।” (বুখারী হা: ৬৫৩৪)
وَذَكِّرْ بِهِ أَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِنْ تَعْدِلُ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذُ مِنْهَا
“এ কুরআন দ্বারা ভয় দেখাতে থাকুন যাতে মানুষ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয় যে, আল্লাহ ছাড়া তার কোন সাহায্যকারী নেই এবং কোন সুপারিশকারীও নেই। আর আযাব থেকে বাঁচার জন্য বিনিময় হিসেবে যাই দেবে কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।” (সূরা আনআম- ৭০)
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نَاصِرِينَ
“যারা কুফরী করে এবং কাফির অবস্থায় মারা যায় তারা এ পৃথিবীর সমপরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহকে দিয়ে যদি বলে এর বিনিময়ে আমাকে শাস্তি থেকে মুক্তি দিন তবুও একজনের পক্ষ থেকেও তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থাকবে। আর তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।” (সূরা আলে ইমরান- ৯১)
إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا لَوْ أَنَّ لَكَ مَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ كُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَقَدْ سَأَلْتُكَ مَا هُوَ أَهْوَنُ مِنْ هُذَا وَأَنْتَ فِي صُلْبِ أَدَمَ أَنْ لَّا تُشْرِكَ بِي فَأَبَيْتَ إِلَّا الشَّرْكَ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে হালকা শাস্তির উপযুক্ত যে হবে তাকে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে বান্দা! দুনিয়ার সবকিছু যদি তোমার হত তাহলে এ আযাব থেকে বাঁচার জন্য তা দিতে রাজি হবে কি? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি আদমের হাড্ডির ভেতরে থাকতে আমি তোমার কাছে তার চেয়ে হালকা জিনিস চেয়েছিলাম যে, তুমি আমার সাথে শিরক করবে না। কিন্তু তা অমান্য করেছ। (বুখারী হা: ৩৩৩৪)
সে দিন কোন বন্ধু পাবে না, কোন সুপারিশকারীও পাবে না:
مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ
“যালিমদের জন্য কোন আপন বন্ধু থাকবে না আর এমন কোন সুপারিশকারীও থাকবে না যার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হয়।” (সূরা মুমিন- ১৮)
يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَلْ لَّنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
যারা দুনিয়াতে আযাবের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলগণ আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলেন। অতএব এখন আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী আছে কি? অথবা আমরা পুনরায় দুনিয়াতে যাওয়ার সুযোগ পাব কি? যাতে খারাপ কাজের পরিবর্তে ভাল কাজ করতে পারি। আসলে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর তাদের সকল মিথ্যা প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়েছে। (সূরা আরাফ- ৫৩)