📘 গীবত ও তওবা > 📄 অনুমতি না নিয়ে কারো জিনিস ব্যবহার করা

📄 অনুমতি না নিয়ে কারো জিনিস ব্যবহার করা


কেউ কেউ বিষয়টি হালকা মনে করে কারো জিনিসপত্র নিয়ে যায়, পরে ফেরত দেয় না। অথচ জিনিসটির মালিক সন্তুষ্টচিত্তে তা প্রদান করতে ইচ্ছুক নয়। এভাবে কারো কোন জিনিস গ্রহণ করা হারাম। যদিও এর মালিক ভদ্রতার খাতিরে নীরব থাকেন।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ مُسْلِمٍ إِلَّا بِطِيْبِ نَفْسِهِ
আনাস হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, কোন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের মাল ভোগ করা হালাল নয় যতক্ষণ না সে মনের খুশিতে তা দিতে প্রস্তুত হয়। (সুনান দার কুতনী হা: ২৮৮৫)

📘 গীবত ও তওবা > 📄 মান-সম্মানের হক

📄 মান-সম্মানের হক


মান-সম্মানের হক সম্পর্কিত ক্ষতিপূরণের অর্থ এই যে, কেউ কাউকে বিনা দোষে প্রহার করে থাকে, গালি দিয়ে থাকে, অথবা পরনিন্দা করে থাকে, মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকে, অথবা যেকোন প্রকারে দৈহিক অথবা মানসিক কষ্ট দিয়ে থাকে। কেউ এমনটি করে থাকলে প্রতিপক্ষের নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করিয়ে নেয়া কর্তব্য। নতুবা কিয়ামতের দিন তার নেকী পাওনাদাররা নিয়ে যাবে আর সে নিঃস্ব ব্যক্তিতে পরিণত হবে। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ « اَتَدْرُونَ مَا الْمُفْلِسُ ». قَالُوا الْمُفْلِسُ فِيْنَا مَنْ لَا دِرْهَمَ لَهُ وَلَا مَتَاعَ فَقَالَ « إِنَّ الْمُفْلِسَ مِنْ أُمَّتِي يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِصَلَاةٍ وَصِيَامٍ وَزَكَاةٍ وَيَأْتِي قَدْ شَتَمَ هُذَا وَقَذَفَ هُذَا وَأَكَلَ مَالَ هُذَا وَسَفَكَ دَمَ هُذَا وَضَرَبَ هُذَا فَيُعْطَى هُذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ وَهُذَا مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ فَنِيَتُ حَسَنَاتُهُ قَبْلَ أَنْ يُقْضَى مَا عَلَيْهِ أُخِذَ مِنْ خَطَايَاهُمْ فَطُرِحَتْ عَلَيْهِ ثُمَّ طُرِحَ فِي النَّارِ »
আবূ হুরায়রা হতে বর্ণিত, নবী ﷺ জিজ্ঞেস করলেন- তোমরা কি জান গরীব কে? সাহাবাগণ উত্তরে বললেন, আমরা তো সে লোককেই গরীব মনে করি, যার নিকট দিরহাম অথবা মাল-সামানা নেই। তখন নবী ﷺ বললেন (না), নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে সে লোক (প্রকৃত) গরীব, যে কিয়ামতের দিন নামায, রোযা ও যাকাত নিয়ে আগমন করবে। অর্থাৎ সে নামায পড়েছে, রোযা রেখেছে এবং যাকাতও আদায় করেছে; কিন্তু সে হাশরের ময়দানে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যে, কাউকে সে গালি দিয়েছে, কাউকে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, কারো সম্পদ আত্মসাত করেছে, কারো রক্ত প্রবাহিত করেছে এবং কাউকে প্রহার করেছে।
(আর কিয়ামতের দিন তার ফায়সালা এভাবে করা হবে যে,) যাকে সে কষ্ট দিয়েছিল অথবা যার হক মেরে খেয়েছিল, তাদের মধ্যে তার নেকী বণ্টন করে দেয়া হবে। তারপরও যদি মানুষের হক আদায় হওয়ার পূর্বেই তার নেকী শেষ হয়ে যায়, তবে হকদারদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। অতঃপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (মুসলিম হা: ৬৭৪৪)
উক্ত হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, শুধুমাত্র টাকা-পয়সা মেরে দেয়ার নামই যুলুম নয়। বরং গালি দেয়া, মিথ্যা অপবাদ দেয়া, অনর্থক প্রহার করা, সম্মান নষ্ট করা- এগুলোও যুলুম এবং হক নষ্ট করার অন্তর্ভুক্ত। অনেক লোক মনে করে যে, তারা ধর্মপরায়ণ অথচ এসব বিষয় হতে আদৌ বিরত থাকে না। এটা স্মরণ রাখতে হবে যে, আল্লাহ তা'আলা তাঁর হক তওবা ও ইস্তেগফার দ্বারা ক্ষমা করেন কিন্তু বান্দার হক তখনই ক্ষমা হবে যখন তা আদায় করে দেয়া হবে অথবা ক্ষমা চেয়ে নেয়া হবে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 পরকালে টাকা-পয়সার বিনিময় চলবে না

📄 পরকালে টাকা-পয়সার বিনিময় চলবে না


হাদীসে রয়েছে, নবী ﷺ বলেছেন-
مَنْ كَانَتْ عِنْدَةً مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ فَلْيَتَحَلَّلَهُ مِنْهَا ، فَإِنَّهُ لَيْسَ ثَمَّ دِيْنَارُ ، وَلَا دِرْهَمْ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُؤْخَذَ لِأَخِيهِ مِنْ حَسَنَاتِهِ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ حَسَنَاتٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ أَخِيهِ فَطْرِ حَتْ عَلَيْهِ.
নবী ﷺ বলেছেন, “যে ব্যক্তি তার কোন ভাইয়ের উপর অত্যাচার করেছে, (যেমন তার সম্মান নষ্ট করেছে অথবা...তার হক নষ্ট করেছে) সে যেন সেদিন আসার পূর্বেই নিজেকে মুক্ত করে নেয় অর্থাৎ তার হক আদায় করে দেয় অথবা ক্ষমা চেয়ে নেয়, যেদিন দিনার অথবা দিরহাম অর্থাৎ টাকা-পয়সা কোন কাজে আসবে না। যদি তার কোন নেক আমল থাকে তাহলে অত্যাচার পরিমাণ তার নিকট হতে কেটে নেয়া হবে। আর যদি তার কোন নেকী না থাকে তাহলে অত্যাচারিত ব্যক্তির পাপ এনে তার মাথায় চাপিয়ে দেয়া হবে।” (বুখারী হা: ৬৫৩৪)
وَذَكِّرْ بِهِ أَنْ تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِنْ تَعْدِلُ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذُ مِنْهَا
“এ কুরআন দ্বারা ভয় দেখাতে থাকুন যাতে মানুষ এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন না হয় যে, আল্লাহ ছাড়া তার কোন সাহায্যকারী নেই এবং কোন সুপারিশকারীও নেই। আর আযাব থেকে বাঁচার জন্য বিনিময় হিসেবে যাই দেবে কিছুই গ্রহণযোগ্য হবে না।” (সূরা আনআম- ৭০)
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَمَاتُوا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْ أَحَدِهِمْ مِلْءُ الْأَرْضِ ذَهَبًا وَلَوِ افْتَدَى بِهِ أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ وَمَا لَهُمْ مِّنْ نَاصِرِينَ
“যারা কুফরী করে এবং কাফির অবস্থায় মারা যায় তারা এ পৃথিবীর সমপরিমাণ স্বর্ণ আল্লাহকে দিয়ে যদি বলে এর বিনিময়ে আমাকে শাস্তি থেকে মুক্তি দিন তবুও একজনের পক্ষ থেকেও তা গ্রহণ করা হবে না। তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থাকবে। আর তাদের কোন সাহায্যকারীও থাকবে না।” (সূরা আলে ইমরান- ৯১)
إِنَّ اللَّهَ يَقُولُ لِأَهْوَنِ أَهْلِ النَّارِ عَذَابًا لَوْ أَنَّ لَكَ مَا فِي الْأَرْضِ مِنْ شَيْءٍ كُنْتَ تَفْتَدِي بِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَقَدْ سَأَلْتُكَ مَا هُوَ أَهْوَنُ مِنْ هُذَا وَأَنْتَ فِي صُلْبِ أَدَمَ أَنْ لَّا تُشْرِكَ بِي فَأَبَيْتَ إِلَّا الشَّرْكَ
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কিয়ামতের দিন সবচেয়ে হালকা শাস্তির উপযুক্ত যে হবে তাকে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে বান্দা! দুনিয়ার সবকিছু যদি তোমার হত তাহলে এ আযাব থেকে বাঁচার জন্য তা দিতে রাজি হবে কি? সে বলবে, হ্যাঁ। তখন আল্লাহ বলবেন, তুমি আদমের হাড্ডির ভেতরে থাকতে আমি তোমার কাছে তার চেয়ে হালকা জিনিস চেয়েছিলাম যে, তুমি আমার সাথে শিরক করবে না। কিন্তু তা অমান্য করেছ। (বুখারী হা: ৩৩৩৪)

সে দিন কোন বন্ধু পাবে না, কোন সুপারিশকারীও পাবে না:
مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ
“যালিমদের জন্য কোন আপন বন্ধু থাকবে না আর এমন কোন সুপারিশকারীও থাকবে না যার সুপারিশ গ্রহণযোগ্য হয়।” (সূরা মুমিন- ১৮)
يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَلْ لَّنَا مِنْ شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ قَدْ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُمْ مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
যারা দুনিয়াতে আযাবের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবে, আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলগণ আমাদের কাছে সত্য নিয়ে এসেছিলেন। অতএব এখন আমাদের জন্য কোন সুপারিশকারী আছে কি? অথবা আমরা পুনরায় দুনিয়াতে যাওয়ার সুযোগ পাব কি? যাতে খারাপ কাজের পরিবর্তে ভাল কাজ করতে পারি। আসলে তারা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর তাদের সকল মিথ্যা প্রচেষ্টা নিষ্ফল হয়েছে। (সূরা আরাফ- ৫৩)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00