📘 গীবত ও তওবা > 📄 বান্দার হক সম্পর্কে কতিপয় সতর্কবাণী

📄 বান্দার হক সম্পর্কে কতিপয় সতর্কবাণী


সমাজে এমন কিছু নীতির প্রচলন রয়েছে, যা সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী। আরো একটু যাচাই করলে দেখা যাবে তা মানবতা বিরোধী। কিন্তু সমাজে এমনভাবে এগুলোর প্রচলন হয়েছে যে, মানুষ এগুলেকে গুনাহ হিসেবে মনে করে না। যার কারণে তারা নিজেদের এসব ভুল বুঝতে পারছে না এবং এসব গুনাহ থেকে ফিরে আসারও প্রয়োজন মনে করছে না; অথচ এ বিষয়গুলো মারাত্মক গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এগুলো সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা হল :

📘 গীবত ও তওবা > 📄 চাঁদার টাকা

📄 চাঁদার টাকা


সমাজে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের হাতে জনকল্যাণমূলক কিছু ফান্ড বা তহবিল রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ করার জন্য মানুষের নিকট থেকে চাঁদা তুলে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় তারা সে ফান্ডের কিছু অংশ নিজেদের প্রয়োজনেও ব্যবহার করছে, যা মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়।
যারা কোন মসজিদ-মাদরাসা অথবা কোন ওয়াকফ্ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদেরকে নিজেদের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অতীব জরুরি। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেকেই জেনে বা না জেনে উদাসীনতা করে থাকেন এবং হিসাবে গরমিল করে ফেলেন। এটা তাদের জন্য পরকালের শাস্তির কারণ হবে।
আবার কেউ কেউ প্রতিনিধিরূপে মসজিদ-মাদরাসার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক লোক টাকা-পয়সা দিয়ে দেন; কিন্তু প্রতিনিধিদের ধর্মপরায়ণতার উপর নির্ভর করে তারা প্রমাণস্বরূপ কোন রসিদ চান না। এ প্রক্রিয়ায় যে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তা হতে আত্মসাৎ করা খুবই সহজ। যদি কারো পরকালের জবাবদিহির দৃঢ় বিশ্বাস না থাকে তাহলে প্রবৃত্তি ও শয়তান আত্মসাৎ করিয়েই ছাড়ে।
আবার অনেককেই দেখা যায় চাঁদার টাকা ও নিজের টাকা এক করে ফেলেন এবং তা হতে খরচ করতে থাকেন। কত টাকা চাঁদা থেকে খরচ হল আর কত টাকা নিজের থেকে খরচ হল তারা তা ভাবেন না। যখন হিসাব করা হয় তখন কাট-ছাট করে মিলিয়ে নেন। চাঁদা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা এসব পদ্ধতির দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হচ্ছে, অথচ বান্দা তা জানতে পারছে না। বান্দার কাছ থেকে সহজেই নজর এড়ানো যাচ্ছে। কিন্তু যিনি সর্বদ্রষ্টা বা সবকিছু দেখেন তার চোখ এড়ানো যায় না। তিনি একে ঠিকই ধরে ফেলবেন।
এ ধরনের খেয়ানত কোন একক ব্যক্তির অর্থসম্পদ আত্মসাৎ করা থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর। কেননা একক ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নেয়া অথবা আদায় করে দেয়া সহজ, কিন্তু সর্বসাধারণের প্রদত্ত চাঁদা আত্মসাৎ করার পর ক্ষতিপূরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। যদি আল্লাহ তা'আলা তওবার তাওফীক দেন তবুও হকদারগণের নাম অজ্ঞাত থাকার কারণে তাদের নিকট তাদের হক পৌঁছানোর কোন উপায় থাকে না। তাই এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 এতিমের মাল

📄 এতিমের মাল


এতিমের মাল ভক্ষণ করা এবং শরীয়তের নীতিমালা লঙ্ঘন করে তাদের মাল স্বীয় মালিকানাভুক্ত করে নেয়া হারাম এবং অত্যন্ত কঠিন গুনাহ। কুরআনুল কারীমে বলা হয়েছে-
إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْمًا إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَارًا وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيرًا
“নিশ্চয়, যেসব লোক অন্যায়ভাবে এতিমদের মাল গ্রাস করে, তারা মূলত আগুন দ্বারাই নিজেদের উদর পূর্ণ করে এবং অতি শীঘ্রই তারা জাহান্নামের জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষিপ্ত হবে।” (সূরা নিসা: ১০)
অনেকে মনে করেন যে, এতিমের মাল ভক্ষণ করার পাপ সেসব লোকদেরই হতে পারে, যারা এতিমখানা চালাচ্ছে। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। যেকোন ব্যক্তি এতিমের মাল গ্রাস করলে সে অপরাধী সাব্যস্ত হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে এতিম সন্তানদের চাচা বা অন্যান্য অভিভাবকরা নামমাত্র তাদের উপকার করে থাকেন। আর বাকি সম্পদ তারা নিজেরা ভোগ করেন। আবার কেউ কেউ এতিমদের উপর কিছুই খরচ করে না; বরং সবটুকু সম্পত্তি নিজেই গ্রাস করে ফেলে। যখন এ এতিম বাচ্চারা প্রাপ্তবয়স্ক হয় তখন তারা পিতৃ-সম্পত্তি হতে কিছুই পায় না। এসবই এতিমের মাল ভক্ষণ করার অন্তর্ভুক্ত। যারা এসব কাজে জড়িত তাদেরকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং এতিমদের মাল তাদের কাছে ফেরত দিতে হবে, নতুবা আখেরাতের আদালতে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 বিধবার মাল

📄 বিধবার মাল


অনেকে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি হতে তার স্ত্রীকে কোন অংশ প্রদান করে না। এটা বড় ধরনের অন্যায়। বিধবার মাল আত্মসাৎ করলে পরকালের শাস্তি হতে রেহাই পাওয়া যাবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00