📘 গীবত ও তওবা > 📄 ক্ষমাপ্রার্থনার কতিপয় দো'আ

📄 ক্ষমাপ্রার্থনার কতিপয় দো'আ


এমন কতগুলো দো'আ রয়েছে যেগুলো উচ্চারণ করার মাধ্যমে তওবা করলে আল্লাহ তা'আলা খুশি হন। যেমন-
رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِنَا رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنْتَ مَوْلَانَا فَانْصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ
“হে আমাদের রব! যদি আমরা ভুল করি অথবা ভুলে যায় তবে আমাদেরকে পাকড়াও করো না। হে আমাদের রব! আমাদের উপর এমন বোঝা চাপিয়ে দেবেন না যা আমাদের পূর্ববর্তীদের দিয়েছেন। আর আমাদের উপর এমন ভার দেবেন না যা বহন করার শক্তি আমাদের নেই। আমাদেরকে মুক্তি দান করুন, ক্ষমা করুন এবং দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। সুতরাং আমাদেরকে কাফিরদের উপর সাহায্য করুন।” (সূরা বাক্বারা- ২৮৬)
رَبَّنَا إِنَّنَا سَمِعْنَا مُنَادِيًا يَنَادِي لِلْإِيْمَانِ أَنْ آمِنُوا بِرَبِّكُمْ فَأَمَنَّا رَبَّنَا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَكَفِّرْ عَنَّا سَيِّئَاتِنَا وَتَوَفَّنَا مَعَ الْأَبْرَارِ
“হে আমাদের রব! নিশ্চয় আমরা এক আহ্বানকারীকে আহবান করতে শুনেছিলাম যে, তোমরা স্বীয় প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তাতেই আমরা ঈমান এনেছি; হে আমাদের রব! অতএব আমাদের অপরাধসমূহ ক্ষমা করুন আর আমাদের গুনাহগুলো মুছে দিন এবং পুণ্যবানদের সাথে আমাদেরকে মৃত্যুদান করুন।” (সূরা আলে ইমরান- ১৯৩)
رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ
বল, 'হে আমার প্রতিপালক! ক্ষমা কর ও দয়া কর, তুমিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।' (সূরা মু'মিনূন- ১১৮)
আদম ও হাওয়া (আ:) যে দো'আ করে ক্ষমা চেয়েছিলেন :
رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنْفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
তারা বলল, 'হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, যদি তুমি আমাদেবকে ক্ষমা না কর এবং দয়া না কর তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।' (সূরা আ'রাফ- ২৩)
মহানবী ﷺ বলেন, কোন ব্যক্তি নিম্নোক্ত বাক্যে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করলে তিনি তার গুনাহসমূহ মাফ করেন, এমনকি তা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নের মতো গুনাহ হলেও।
اسْتَغْفِرُ اللهَ الَّذِي لَا الهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ
“আসতাগফিরুল্লাহাল্লাযী লা-ইলা-হা ইল্লা- হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম ওয়া আতুবু ইলাইহি।”
“আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করি, যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী এবং আমি তাঁর নিকট তওবা করি।” (আবু দাউদ হা: ১৫১৯, তিরমিযী হা: ৩৫৭৭)

📘 গীবত ও তওবা > 📄 তওবার উপর অটল থাকার পদ্ধতি

📄 তওবার উপর অটল থাকার পদ্ধতি


১. সর্বদা পাপের প্রতি ঘৃণাবোধ জাগ্রত রাখা।
২. পাপ ও তার কুফলের কদর্যতা অনুভব করা।
৩. তাহাজ্জুদের নামায পড়ে সর্বদা আল্লাহর কাছে দু'আ করা, যাতে করে পুনরায় পাপে জড়িয়ে না পড়তে হয়।
৪. হারাম দ্রব্যাদি যা সংগ্রহে আছে তা নষ্ট করে ফেলা। যেমন, মাদকদ্রব্য, বাদ্যযন্ত্র, মূর্তি ও প্রাণীর ছবি এবং ইসলাম বিরোধী সাহিত্য ও ভাস্কর্য ইত্যাদি। এগুলো ভেঙ্গে ফেলা, নষ্ট করা অথবা পুড়িয়ে ফেলা জরুরি।
৫. ভাল ও উপকারী কাজে নিজের সময় ব্যয় করা- যাতে শয়তানী কাজের সুযোগ হাতে না থাকে।
৬. সৎপথে অবিচল থাকার জন্য সহায়ক বন্ধু নির্বাচন করা- যারা দুষ্ট বন্ধুদের বিকল্প হবে।
৭. যে পাপ কাজে সহযোগিতা করে বা উৎসাহ দেয় তার থেকে দূরে থাকা। কেননা যে পাপ কাজে সহযোগিতা করে সে কখনো প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। মূলত সে-ই হচ্ছে প্রকৃত শত্রু। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
الْآخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ
“পরহেযগার বন্ধু ছাড়া অন্য সকল বন্ধু সেদিন শত্রু হয়ে যাবে।” (সূরা যুখরুফ- ৬৭)
এসব বন্ধুরা কিয়ামতের দিন একে অপরকে অভিশাপ দেবে আর উক্ত সৎ বন্ধুদের দেখে আফসোস করবে। অতএব আল্লাহর পথের পথিক হিসেবে আমাদের উচিত সেসব বন্ধুদের অনিষ্ট থেকে নিজেকে যথাসম্ভব বিরত রাখা এবং অপরকে সতর্ক করা। সম্ভব হলে তাদেরকে সংশোধন করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা। আর শয়তানের প্ররোচণা থেকে সতর্ক থাকা। কেননা অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেকে পুরনো বন্ধুর সাথে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে আবার পাপের পথে ফিরে গেছে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 বান্দার হক সম্পর্কে কতিপয় সতর্কবাণী

📄 বান্দার হক সম্পর্কে কতিপয় সতর্কবাণী


সমাজে এমন কিছু নীতির প্রচলন রয়েছে, যা সম্পূর্ণ শরীয়ত বিরোধী। আরো একটু যাচাই করলে দেখা যাবে তা মানবতা বিরোধী। কিন্তু সমাজে এমনভাবে এগুলোর প্রচলন হয়েছে যে, মানুষ এগুলেকে গুনাহ হিসেবে মনে করে না। যার কারণে তারা নিজেদের এসব ভুল বুঝতে পারছে না এবং এসব গুনাহ থেকে ফিরে আসারও প্রয়োজন মনে করছে না; অথচ এ বিষয়গুলো মারাত্মক গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নে এগুলো সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করা হল :

📘 গীবত ও তওবা > 📄 চাঁদার টাকা

📄 চাঁদার টাকা


সমাজে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদের হাতে জনকল্যাণমূলক কিছু ফান্ড বা তহবিল রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ করার জন্য মানুষের নিকট থেকে চাঁদা তুলে থাকে। অনেক সময় দেখা যায় তারা সে ফান্ডের কিছু অংশ নিজেদের প্রয়োজনেও ব্যবহার করছে, যা মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়।
যারা কোন মসজিদ-মাদরাসা অথবা কোন ওয়াকফ্ সম্পত্তির মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাদেরকে নিজেদের কাজকর্মে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অতীব জরুরি। এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে অনেকেই জেনে বা না জেনে উদাসীনতা করে থাকেন এবং হিসাবে গরমিল করে ফেলেন। এটা তাদের জন্য পরকালের শাস্তির কারণ হবে।
আবার কেউ কেউ প্রতিনিধিরূপে মসজিদ-মাদরাসার জন্য চাঁদা সংগ্রহ করে থাকেন। এক্ষেত্রে অনেক লোক টাকা-পয়সা দিয়ে দেন; কিন্তু প্রতিনিধিদের ধর্মপরায়ণতার উপর নির্ভর করে তারা প্রমাণস্বরূপ কোন রসিদ চান না। এ প্রক্রিয়ায় যে চাঁদা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তা হতে আত্মসাৎ করা খুবই সহজ। যদি কারো পরকালের জবাবদিহির দৃঢ় বিশ্বাস না থাকে তাহলে প্রবৃত্তি ও শয়তান আত্মসাৎ করিয়েই ছাড়ে।
আবার অনেককেই দেখা যায় চাঁদার টাকা ও নিজের টাকা এক করে ফেলেন এবং তা হতে খরচ করতে থাকেন। কত টাকা চাঁদা থেকে খরচ হল আর কত টাকা নিজের থেকে খরচ হল তারা তা ভাবেন না। যখন হিসাব করা হয় তখন কাট-ছাট করে মিলিয়ে নেন। চাঁদা গ্রহণের ক্ষেত্রে এসব পদ্ধতি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা এসব পদ্ধতির দ্বারা বান্দার হক নষ্ট হচ্ছে, অথচ বান্দা তা জানতে পারছে না। বান্দার কাছ থেকে সহজেই নজর এড়ানো যাচ্ছে। কিন্তু যিনি সর্বদ্রষ্টা বা সবকিছু দেখেন তার চোখ এড়ানো যায় না। তিনি একে ঠিকই ধরে ফেলবেন।
এ ধরনের খেয়ানত কোন একক ব্যক্তির অর্থসম্পদ আত্মসাৎ করা থেকেও বেশি ভয়ঙ্কর। কেননা একক ব্যক্তির নিকট হতে ক্ষমা চেয়ে নেয়া অথবা আদায় করে দেয়া সহজ, কিন্তু সর্বসাধারণের প্রদত্ত চাঁদা আত্মসাৎ করার পর ক্ষতিপূরণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। যদি আল্লাহ তা'আলা তওবার তাওফীক দেন তবুও হকদারগণের নাম অজ্ঞাত থাকার কারণে তাদের নিকট তাদের হক পৌঁছানোর কোন উপায় থাকে না। তাই এক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা একান্ত জরুরি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00