📄 কোন গুনাহ হয়ে গেলে তা প্রচার করা ঠিক নয়
যদি কারো দ্বারা কোন গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়, তবে তা অন্য কারো কাছে প্রকাশ করবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللهُ فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, “আমার সকল উম্মত নিরাপদে রয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু সেসব লোক ব্যতীত যারা প্রকাশ্যে পাপ করে বেড়ায়। সে রাত্রিবেলা কোন পাপকর্ম করে তারপর সকালে বলে বেড়ায় যে, হে অমুক! আমি গত রাতে অমুক অমুক পাপকর্ম করেছি। অথচ আল্লাহ তা'আলা তার পাপ গোপন রেখেছিলেন।” (বুখারী হা: ৬০৬৯, মুসলিম হা: ৭৬৭৬)
অতএব কোন মুমিন বান্দার জন্য নিজ গুনাহ অন্যের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। সে যদি নিজ গুনাহ মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখে, তবে আল্লাহ তা'আলাও তার গুনাহ গোপন রাখবেন।
📄 কোন পাপকে হালকা মনে করা যাবে না
অত্যন্ত নগণ্য ও সূক্ষ্ম গুনাহ থেকেও নিজেকে বিরত রাখা কর্তব্য। কেননা এসব গুনাহ পর্যবেক্ষণ করার জন্যও আল্লাহর পক্ষ থেকে ফেরেশতা নিয়োজিত আছে, যারা আমাদের গুনাহসমূহ লিখে রাখেন। অতএব আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত যে, আমি আজকে যেসব গুনাহকে হালকা মনে করছি তা যদি একটি একটি করে জমা হতে থাকে তবে ভবিষ্যতে বড় আকার ধারণ করবে।
দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজকাল অনেকেই পাপকে অবহেলা করে সর্বদা বিভিন্ন ধরনের গুনাহে লিপ্ত রয়েছে। তাদেরকে যদি বলা হয়, তুমি এ কাজ করলে কেন? তখন তারা উত্তর দেয় যে, এতে খারাপের কী আছে? এটা তো সকলেই করে থাকে। এভাবে তারা পাপকে হালকা মনে করে উল্টো আরো নানা যুক্তি দাঁড় করায়।
গুনাহ ছোট হলেও এর প্রভাব মারাত্মক। যেমন-
প্রথমত:
মানুষ সগীরা গুনাহকে স্বাভাবিক ব্যাপার মনে করে গুনাহ করতে থাকে। এমনকি এক সময় তার মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং তার পক্ষে এসব গুনাহ থেকে তওবা করার সুযোগ হয় না।
দ্বিতীয়ত:
এসব সগীরা গুনাহ অন্য আরো কবীরা গুনাহকে আকর্ষণ করতে থাকে। যেমন, আজ যদি কোন মেয়ের সাথে নিয়মিত দেখা করা হয় তবে কাল তার হাত ধরা হবে। এরপর অন্যদিন তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা শুরু হবে। তারপর একদিন তার সাথে খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাবে। এভাবে যে গুনাহকে এক সময় ছোট মনে করা হত, তা এক সময় তাকে বড় গুনাহে লিপ্ত করে দেবে।
তৃতীয়তঃ
সগীরা গুনাহ করতে করতে একসময় আর তা থেকে ফিরে আসা সম্ভব হয়ে উঠে না। সুতরাং প্রতিটি মুমিন বান্দার আবশ্যকীয় কর্তব্য যে, যথাসম্ভব নিজেকে সগীরা গুনাহ হতে বিরত রাখা এবং গুনাহ হয়ে গেলে নিয়মানুযায়ী তওবা করে নেয়া। আর এ কথা মনে রাখা যে, আগুন যত অল্পই হোক না কেন তা সুযোগ পেলেই বিশালাকার ধারণ করতে পারে। ঠিক তেমনিভাবে গুনাহ যতই ছোট হোক না কেন তা মারাত্মক ক্ষতি সাধন করতে পারে। পাপের ক্ষুদ্রতার দিকে না তাকিয়ে যার নাফারমানী করা হচ্ছে তাঁর শাস্তির দিকে তাকাতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদের সকল পাপ থেকে বিরত থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!
📄 পাপ সম্পর্কে মুমিনের অনুভূতি
প্রতিটি মুমিনের পাপকে ভয় করা উচিত। যেকোন পাপ কাজকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। যদি পাপ সংঘটিত হয়েই যায়, তবে তার মাঝে আল্লাহভীতির অনুভূতি জাগ্রত হওয়া উচিত। কিন্তু যারা এ অনুভূতিটুকুও অনুভব করে না তারা বড় ধরনের পাপীষ্ঠ।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ حَدِيثَيْنِ أَحَدُهُمَا ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْآخَرُ عَنْ نَفْسِهِ قَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَأَنَّهُ قَاعِدٌ تَحْتَ جَبَلٍ يَخَافُ أَنْ يَقَعَ عَلَيْهِ وَإِنَّ الْفَاجِرَ يَرَى ذُنُوبَهُ كَذَّبَابٍ مَرَّ عَلَى انْفِهِ
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ এ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুমিন ব্যক্তি তার পাপসমূহকে এরূপ মনে করে, যেন সে পাহাড়ের নিচে বসে আছে এবং এমন ভয় পাচ্ছে যে, পাহাড়টি ভেঙ্গে তার উপর পড়ে যায় কি না! আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার পাপসমূহকে এরূপ মনে করে, যেন তার নাকের উপর মাছি বসে আছে এবং সে এটাকে হাত দ্বারা তাড়িয়ে দিল। (বুখারী হা: ৬৩০৮)
আলোচ্য হাদীস দ্বারা বুঝা গেল যে, পাপীষ্ঠ ব্যক্তি গুনাহকে সাধারণ বিষয় মনে করে থাকে। এটা তার মধ্যে কোন ভয় সৃষ্টি করে না। পক্ষান্তরে মুমিন ব্যক্তির পাপ সংঘটিত হয়ে গেলে অস্থির হয়ে পড়ে এবং এত ভয় পায় যে, সে মনে করে, এখনই তার উপর পাহাড় ভেঙ্গে পড়বে। প্রকৃতপক্ষে মুমিনদের গুণ এগুলোই যা সাহাবাগণের মধ্যে পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান ছিল।
সাহাবাগণ যেকোন পাপকে এমনভাবে ভয় করতেন যে, তাঁদের দ্বারা যদি কোন পাপকর্ম সংঘটিত হয়েই যেত তখন তাঁরা অস্থির হয়ে পড়তেন। এমনকি তাঁরা নবী ﷺ এর কাছে গিয়ে পাপের প্রতিকার না পাওয়া পর্যন্ত শান্তি পেতেন না।
عَنْ جَابِرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَجُلاً مِنْ أَسْلَمَ جَاءَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاعْتَرَفَ بِالزِّنَا فَأَعْرَضَ عَنْهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى شَهِدَ عَلَى نَفْسِهِ أَرْبَعَ مَرَّاتٍ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَبِكَ جُنُونٌ قَالَ : لا قَالَ أَحْصَنْتَ قَالَ نَعَمْ فَأَمَرَ بِهِ فَرُحِمَ بِالْمُصَلَّى فَلَمَّا أَذْلَقَتْهُ الْحِجَارَةُ فَرَّ فَأُدْرِكَ فَرُجِمَ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرًا وَصَلَّى عَلَيْهِ
জাবির হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আসলাম সম্প্রদায়ের এক লোক নবী ﷺ এর কাছে এসে বলল যে, সে ব্যভিচার করেছে। (এ কথা শুনে) তিনি মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে ঘুরে গিয়ে নবী ﷺ এর সম্মুখে এসে নিজের বিরুদ্ধে চারবার (ব্যভিচারের) সাক্ষ্য দিল। তিনি লোকটিকে ডেকে বলেন, তুমি কি পাগল হয়েছ? সে বলল, না। নবী ﷺ বললেন, তুমি কি বিবাহিত? সে বলল, হ্যাঁ! অতঃপর নবী ﷺ লোকটিকে পাথর মেরে হত্যা করার নির্দেশ দিলেন। যখন লোকটি মারা গেল তখন নবী ﷺ বললেন, এটাই তার জন্য মঙ্গল জনক। অতঃপর তিনি তার জানাযা পড়লেন। (বুখারী হা: ৬৮২০)
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেন, এক ব্যক্তি কোন একজন অপরিচিতা নারীকে চুম্বন করে ফেলেন। তারপর রাসূল ﷺ এর নিকট এসে তার কৃতকর্মের কথা জানালে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি নাযিল করেন-
اقِمِ الصَّلَاةَ طَرَ فِي النَّهَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
“আর তুমি দিনের দু'প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম কর, নিশ্চয় সৎকর্ম পাপকর্মকে মিটিয়ে দেয়। উপদেশ গ্রহণকারীদের জন্য এটি একটি মহাউপদেশ।” (সূরা হৃদ- ১১৪)
এ আয়াতটি নাযিল হওয়ার পর সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এ উপহার কি শুধু আমার জন্য? তখন রাসূল ﷺ বললেন, আমার উম্মতের সকলের জন্য। (বুখারী হা: ৪৬৮৭, মুসলিম হা: ৭১৮০)
এ হাদীসে যার কথা বলা হয়েছে, তিনি ছিলেন একজন ঈমানদার লোক। স্বেচ্ছায় তিনি কোন পাপ কাজ করতেন না। তারপরও মানুষ হিসেবে স্বাভাবিক প্রবৃত্তির তাড়নায় একদিন পথিমধ্যে একটি পাপকর্ম করে ফেলেন। এ পাপকর্ম ঘটে যাওয়ার পর তাঁর অনুভূতি ফিরে এল। তিনি তীব্র অনুশোচনা করতে লাগলেন। আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচার উপায় বের করার আশায় রাসূল ﷺ এর নিকট এসে বললেন, “আমি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। আমার শাস্তি হওয়া চাই।” তাঁর পাপের বিবরণ শুনে রাসূল ﷺ সূরা হুদের এ আয়াতটি পাঠ করে শুনালেন। আয়াতের মধ্যে মুমিন ব্যক্তিকে দিনে রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায কায়েমের হুকুম দেয়া হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে, “নিশ্চয় সৎকর্ম পাপকে মিটিয়ে দেয়।” এ কথা শুনার পর তাঁর মনে শান্তি ফিরে এল এবং উদ্বেগ দূর হয়ে গেল।
এ হাদীস দ্বারা এটা পরিমাপ করা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ সাহাবাগণকে কত উন্নতমানের প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। যার ফলে তারা কোন পাপকাজ করে ফেললে অস্থির হয়ে যেতেন।
কতিপয় পাপের পার্থিব শাস্তি:
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ قَالَ مَا ظَهَرَ الْغُلُولُ فِي قَوْمٍ قَطُّ إِلَّا أُلْقِيَ فِي قُلُوبِهِمُ الرُّعْبُ وَلَا فَشَا الزِّنَا فِي قَوْمٍ قَطُّ إِلَّا كَثُرَ فِيهِمُ الْمَوْتُ وَلَا نَقَصَ قَوْمُ الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ إِلَّا قُطِعَ عَنْهُمُ الرِّزْقُ وَلَا حَكَمَ قَوْمٌ بِغَيْرِ الْحَقِّ إِلَّا فَشَافِيهِمُ الدَّمُ وَلَا خَتَرَ قَوْمٌ بِالْعَهْدِ إِلَّا سَلَّطَ اللَّهُ عَلَيْهِمُ الْعَدُوَّ
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
১. কোন জাতির মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাতের প্রবণতা বেড়ে গেলে আল্লাহ তা'আলা ঐ জাতির অন্তরে শত্রুর ভয় সঞ্চারিত করে দেন।
২. কোন জাতির মধ্যে যদি ব্যভিচার ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে তাদের মধ্যে মৃত্যু বেড়ে যায়।
৩. যখন কোন জাতি মাপে ও ওজনে কম দেয় তখন আল্লাহ তাদের রিযিক কমিয়ে দেন।
৪. যে জাতি অন্যায়ভাবে শাসন ও বিচারকার্য চালায় তাদের মধ্যে খুন বেড়ে যায়।
৫. আর কোন জাতি বিশ্বাসঘাতকতা করলে আল্লাহ তা'আলা তাদের শত্রুকে তাদের উপর চাপিয়ে দেন। (মুয়াত্তা মালেক হা: ১৩২৩)
📄 তওবা কবুলের বিশেষ বিশেষ সময়
তওবার দরজা আল্লাহ তা'আলা বান্দার জন্য সবসময়ই খোলা রেখেছেন। কাজেই বান্দা যেকোন সময় আল্লাহর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারবে। তবে বিশেষ কিছু সময় রয়েছে যে সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তার বান্দার প্রতি বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেন। সে সময়গুলোতে তওবা ও ইস্তেগফার করলে কবুল হওয়ার সম্ভবনা বেশি থাকে। যেমন,
১. লাইলাতুল কদরে তওবা করা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ইবাদাত বন্দেগী করে, তার গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। (বুখারী হা: ১৯০১)
২. আরাফার দিনে তওবা করা:
রাসূল ﷺ বলেছেন,
مَا مِنْ يَوْمٍ أَكْثَرَ مِنْ أَنْ يُعْتِقَ اللَّهُ فِيهِ عَبْدًا مِنَ النَّارِ مِنْ يَوْمِ عَرَفَةً وَإِنَّهُ لَيَدْنُو ثُمَّ يُبَاهِي بِهِمُ الْمَلَائِكَةَ فَيَقُولُ مَا أَرَادَ هَؤُلاءِ
আরাফার দিন আল্লাহ তা'আলা বান্দাকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন এবং ফেরেশতাদের সাথে গর্ব করে বলেন, এ সকল মানুষ (আরাফার মাঠের) কী চায়? অর্থাৎ যা চায় তা-ই প্রদান করা হবে। (মুসলিম হা: ৩৩৫৪, ইবনে মাজাহ হা: ২৪৫৮)
৩. রাতের শেষ ভাগে তওবা করা :
وَبِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
“রাতের শেষাংশে তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করত।” (সূরা যারিয়াত- ১৮)
আল্লাহ তা'আলা জান্নাতী ব্যক্তিদের প্রশংসা করতে গিয়ে বলেন,
اَلصَّابِرِينَ وَالصَّادِقِينَ وَالْقَانِتِينَ وَالْمُنْفِقِينَ وَالْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَارِ
“তারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অগানুগত্যশীল, (আল্লাহ্র পথে) দানশীল এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী।” (সূরা আলে ইমরান : ১৭)
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন-
يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الْآخِرُ فَيَقُولُ مَنْ يَدْعُونِي فَاسْتَجِيبَ لَهُ وَمَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ وَمَنْ يَسْتَغْfِرُنِي فَأَغْfِرَ لَهُ
“প্রত্যেক রাতের যখন এক-তৃতীয়াংশ বাকি থাকে, তখন আমাদের মহান প্রতিপালক নিকটবর্তী আসমানে নেমে আসেন এবং বলতে থাকেন, কে আছে যে আমার নিকট দো'আ করবে, আমি তার দো'আ কবুল করব? কে আছে যে আমার নিকট যা চাইবে, আমি তাকে তা দান করব? কে আছে যে আমার নিকট ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব?” (বুখারী হা: ১১৪৫, মুসলিম হা: ১৮০৮)
আলোচ্য হাদীসে রজনীর শেষাংশে দো'আ ও ক্ষমাপ্রার্থনার গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে। যারা তাহাজ্জুদ নামায পড়ে থাকেন, তারা তো প্রতি রাতে এ সময়ে দো'আ করার এবং তওবা-ইস্তেগফার করার সুযোগ লাভ করে থাকেন। কিন্তু যারা তাহাজ্জুদের জন্য জাগ্রত হন না, তারাও যদি দো'আ ও তওবার জন্য মাঝে মাঝে উঠে পড়েন তবে কতই না ভাল হয়। যখন আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এ মর্মে আহ্বান পাওয়া যায় যে, এমন কে আছ যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব? তাই সে বিশেষ সময়টি হাতছাড়া করা কোন মুমিনের জন্য উচিত নয়।