📄 তওবার শেষ সময়
মৃত্যু এসে গেলে (মুমূর্ষ অবস্থায়) তওবা কবুল হয় না :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তাদের জন্য কোন তওবা নেই যারা পাপ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে আমি এখন তওবা করছি এবং তাদেরও তওবা নেই যারা কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৮)
সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হলে তওবা কবুল হবে না:
সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হওয়া কিয়ামতের একটি বিশেষ আলামত। যে কারণে মৃত্যু এসে গেলে আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবা কবুল করবেন না, ঠিক সে কারণেই তিনি সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হওয়ার পর কারো তওবা কবুল করবেন না।
📄 তওবা করার উপকারিতা
তওবার অনেক উপকারীতা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তা বর্ণনা করেছেন। যেমন-
তওবাকারীদের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন:
وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَامَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ
“যারা অসৎকার্য করে তারা পরে তওবা করলে ও ঈমান আনলে তোমার প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা আরাফ ১৫৩)
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“যারা অজ্ঞতাবশত মন্দকর্ম করে অতঃপর তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে তাদের জন্য তোমার প্রতিপালক অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, ও পরম দয়ালু।” (সূরা নাহল- ১১৯)
তাদের গুনাহ আল্লাহ নেকী দ্বারা বদলে দেন :
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের পাপসমুহ্ পুর্ণের দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা ফুরকান- ৭০)
তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরস্কার দেবেন :
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَاخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
“যারা তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করে, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাদের দ্বীনে একনিষ্ট থাকে, তারা মুমিনদের সঙ্গে থাকবে এবং মুমিনগণকে আল্লাহ অচিরেই মহাপুরস্কার দেবেন। (সূরা নিসা- ১৪৬, ১৪৭)
পাপ থেকে ফিরে আসলে আল্লাহ আযাব দেয়া থেকে ফিরে যান :
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“অতঃপর যে তওবা করে নিজের উপর যুলুম করার পর এবং নিজেকে শুধরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তো অধিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা- ৩৯)
তওবাকারীরা সফল হবে
فَأَمَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
“যে ব্যক্তি তওবা করবে এবং ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, সে তো সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা কাসাস- ৬৭)
তওবাকারীদের জন্য ফেরেশতারা দো'আ করে:
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
“যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুর্পাশ্বে রয়েছে, তারা প্রশংসার সাথে তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে (বলে) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি জ্ঞান ও রহমত দ্বারা সকল কিছুকেই পরিবেষ্টন করে আছেন। অতএব যারা তওবা করে এবং আপনার পথের অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।” (সূরা মু'মিন- ৭)
তওবাকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে :
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا
“যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” (সূরা মারইয়াম- ৬০)
তাদের জন্য কিয়ামতের দিন বিশেষ নূর থাকবে :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে মুমিনগণ! তোমরা একান্ত বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর নিকট তওবা কর; এতে আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেই দিন আল্লাহ নবী ও তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের নূর তাদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে ধাবিত হবে, তাঁরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।” (সূরা তাহরীম- ৮)
তওবা আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি দেয়:
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
“আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আর তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।” (সূরা আনফাল- ৩৩)
📄 তওবা না করার পরিণাম
তওবা আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত, যা তিনি স্বেচ্ছায় নিজ বান্দাদেরকে দান করেছেন। তাই বান্দা যদি আল্লাহর দেয়া এ নিয়ামতকে গ্রহণ না করে তবে আল্লাহ তা'আলা অসন্তুষ্ট হন।
আর বান্দা যেহেতু ভুলের উর্ধ্বে নয়। সেহেতু সে যদি তওবা না করে তবে তার সে গুনাহ তো থেকেই যাবে এবং এজন্য তাকে পরকালে ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তওবা না করার পরিণাম সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। যেমন-
যারা তওবা করে না তারা যালিম :
وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“আর যারা পাপকর্ম থেকে ফিরে আসে না (তওবা করে না) তারাই যালিম।” (সূরা হুজুরাত- ১১)
এরা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :
إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابٌ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ الْحَرِيقِ
“যারা ঈমানদার নর-নারীর উপর যুলুম করেছে এবং পরে তওবাও করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব ও দহন যন্ত্রণা।” (সূরা বুরূজ- ১০)
তওবা না করাতে আল্লাহর তিরস্কার :
أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তবে কি তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না ও তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করবে না? আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা- ৭৪)
أَوَلَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ
“তারা কি দেখে না যে, তাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দু'বার বিপর্যস্ত করা হয়? এরপরও তারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।” (সূরা তওবা- ১২৬)
📄 কোন গুনাহ হয়ে গেলে তা প্রচার করা ঠিক নয়
যদি কারো দ্বারা কোন গুনাহ সংঘটিত হয়ে যায়, তবে তা অন্য কারো কাছে প্রকাশ করবে না।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ يَقُولُ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ : كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللهُ فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ বলেছেন, “আমার সকল উম্মত নিরাপদে রয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য, কিন্তু সেসব লোক ব্যতীত যারা প্রকাশ্যে পাপ করে বেড়ায়। সে রাত্রিবেলা কোন পাপকর্ম করে তারপর সকালে বলে বেড়ায় যে, হে অমুক! আমি গত রাতে অমুক অমুক পাপকর্ম করেছি। অথচ আল্লাহ তা'আলা তার পাপ গোপন রেখেছিলেন।” (বুখারী হা: ৬০৬৯, মুসলিম হা: ৭৬৭৬)
অতএব কোন মুমিন বান্দার জন্য নিজ গুনাহ অন্যের কাছে প্রকাশ করা উচিত নয়। সে যদি নিজ গুনাহ মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখে, তবে আল্লাহ তা'আলাও তার গুনাহ গোপন রাখবেন।