📄 যাদেরকে তওবা ছাড়া ক্ষমা করা হয় না
এ কথা সঠিক যে, আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। যে-ই তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে তাকেই তিনি ক্ষমা করতে পারেন। তবে এটা হয় গুনাহের স্তর অনুযায়ী। যার গুনাহ যত বড় হবে তাকে সেভাবেই তওবা করতে হবে। কতক গুনাহ আছে নেক আমলের মাধ্যমে আপনা-আপনিই ক্ষমা হয়ে যায়। কতক গুনাহ আছে খালিস তওবা ছাড়া সেগুলো ক্ষমা হয় না। আবার এমনও গুনাহ আছে তওবা ছাড়া মারা গেলে পরকালে আল্লাহ তা'আলা ঐ গুনাহ ক্ষমা করবেন না। যেমন-
শিরকের গুনাহ:
গুনাহের মধ্যে একটি বড় গুনাহ হচ্ছে শিরক। এটা এমন একটি গুনাহ যা আল্লাহ তা'আলা খালিস তওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না। কেননা এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার একত্বাবাদকে অস্বীকার করা হয়। তাই আল্লাহ তা'আলা খালিস তওবা ছাড়া এটা ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক স্থাপনের পাপ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।” (সূরা নিসা- ৪৮)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যারা তওবা না করে মৃত্যুবরণ করবে। তারা যখন শিরকের গুনাহ নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ তা'আলা এ গুনাহের কারণে তাদের অন্যসব গুনাহ তিনি ক্ষমা করবেন না। তবে মুশরিক ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে অনুতপ্ত হয়ে খালিস নিয়তে তওবা করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক চলে এবং সৎ আমল করে তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।
যারা মুনাফিকী করে :
سَوَاءٌ عَلَيْهِمُ اسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“তুমি তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।” (সূরা মুনাফিকূন- ৬)
অত্র আয়াত আল্লাহ তা'আলা মদীনার সবচেয়ে বড় মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই সম্পর্কে অবর্তীন করেছেন। আয়াতটি ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হলেও যারাই মুনাফিকী করবে তাদের প্রত্যেকেই এ আয়াতের আওতায় পড়বে। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাসূল ﷺ ও মুমিনদের সাথে এমন আচরণ করত যে, তার চেয়ে বড় মুমিন আর কেউ নেই। আবার তাদের থেকে একটু আড়াল হলে কাফেরদের সাথে মিলিত হয়ে কুফুরীতে লিপ্ত হয়ে পড়ত। যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, সে মূলত কুফুরীতে লিপ্ত ছিল, আর উপরে উপরে মুমিন বলে পরিচয় দিত। তাই রাসূল ﷺ তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তার আবেদন নাকচ করে দেন। এমনকি এ কথাও বলে দেন যে, তুমি যদি ৭০ বার তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কর তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে না।
সুতরাং বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকীর গুনাহ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!
যারা বিদ'আত করে :
আনাস বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিদআতীর তওবা স্থগিত করে রেখেছেন, যতক্ষণ না সে তার বিদআতকে পরিত্যাগ করবে। (তাবরানী, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত্তারহীব হা: ৫৪)
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, বিদআতী যতক্ষণ পর্যন্ত বিদআত পরিত্যাগ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার তওবা কবুল হবে না। বিদআত অত্যন্ত মন্দকাজ। রাসূল ﷺ আমাদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন উপহার দিয়েছেন। সুতরাং এ দ্বীনের মধ্যে কোনকিছু কমানো বা বাড়ানোর অধিকার কারো নেই। যে ব্যক্তি কোন বিদআত প্রচলন করে, সে যেন এটা প্রকাশ করে যে, রাসূল ﷺ আমাদের নিকট পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পৌঁছিয়ে যাননি। ইসলামের মধ্যে যে অভাব থেকে গিয়েছিল, এটাকে সে পূর্ণ করছে। (নাউযু বিল্লাহ)। এটা বিরাট গোমরাহী। এ গোমরাহীর মধ্যে অনেক লোকই লিপ্ত রয়েছে। তারা বিদআতের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, শত বুঝালেও তারা তা থেকে ফিরে আসে না। যার কারণে তাদের তওবা করারও সুযোগ হয় না। এ জন্য তাদের কোন আমল কাজে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا - الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
(হে নবী!) আপনি বলে দিন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে সংবাদ দেব? (তারা হচ্ছে) যাদের দুনিয়ার জীবনের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে অথচ তারা ধারণা করছে যে, তারা উত্তম কাজ করছে। (সূরা কাহফ- ১০৩, ১০৪)
যারা ঈমান এনেও বারবার কুফরী করে :
যারা ঈমান আনার পরও কুফরী কাজে লিপ্ত হয়, এমনকি বার বার কুফরী করে আর এ অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করে, তাদের তওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولئِكَ هُمُ الضَّالُونَ
নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পরও কুফরী করে, এরপর সেই কুফরীকে বৃদ্ধি করে তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই হবে পথভ্রষ্ট। (সূরা আলে ইমরান- ৯০)
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيهُمْ سَبِيلًا
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও পরে কুফরী করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে; অতঃপর তাদের কুফরী বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে (ক্ষমার) কোন পথও দেখাবেন না।” (সূরা নিসা- ১৩৭)
📄 তওবার শেষ সময়
মৃত্যু এসে গেলে (মুমূর্ষ অবস্থায়) তওবা কবুল হয় না :
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْآنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوْتُوْنَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا
তাদের জন্য কোন তওবা নেই যারা পাপ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলে আমি এখন তওবা করছি এবং তাদেরও তওবা নেই যারা কাফের অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। এদের জন্য আমি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রেখেছি। (সূরা নিসা- ১৮)
সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হলে তওবা কবুল হবে না:
সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হওয়া কিয়ামতের একটি বিশেষ আলামত। যে কারণে মৃত্যু এসে গেলে আল্লাহ তা'আলা বান্দার তওবা কবুল করবেন না, ঠিক সে কারণেই তিনি সূর্য পশ্চিম দিকে উদিত হওয়ার পর কারো তওবা কবুল করবেন না।
📄 তওবা করার উপকারিতা
তওবার অনেক উপকারীতা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তা বর্ণনা করেছেন। যেমন-
তওবাকারীদের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন:
وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِهَا وَامَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَحِيمٌ
“যারা অসৎকার্য করে তারা পরে তওবা করলে ও ঈমান আনলে তোমার প্রতিপালক তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা আরাফ ১৫৩)
ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِنْ بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“যারা অজ্ঞতাবশত মন্দকর্ম করে অতঃপর তওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধন করে তাদের জন্য তোমার প্রতিপালক অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, ও পরম দয়ালু।” (সূরা নাহল- ১১৯)
তাদের গুনাহ আল্লাহ নেকী দ্বারা বদলে দেন :
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللَّهُ سَيِّئَاتِهِمْ حَسَنَاتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَّحِيمًا
“যারা তওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ তাদের পাপসমুহ্ পুর্ণের দ্বারা পরিবর্তন করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা ফুরকান- ৭০)
তাদেরকে আল্লাহ মহাপুরস্কার দেবেন :
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَاخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا
“যারা তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করে, আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে অবলম্বন করে এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাদের দ্বীনে একনিষ্ট থাকে, তারা মুমিনদের সঙ্গে থাকবে এবং মুমিনগণকে আল্লাহ অচিরেই মহাপুরস্কার দেবেন। (সূরা নিসা- ১৪৬, ১৪৭)
পাপ থেকে ফিরে আসলে আল্লাহ আযাব দেয়া থেকে ফিরে যান :
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ
“অতঃপর যে তওবা করে নিজের উপর যুলুম করার পর এবং নিজেকে শুধরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তো অধিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা- ৩৯)
তওবাকারীরা সফল হবে
فَأَمَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَعَسَى أَنْ يَكُونَ مِنَ الْمُفْلِحِينَ
“যে ব্যক্তি তওবা করবে এবং ঈমান আনবে ও সৎকর্ম করবে, সে তো সাফল্য অর্জনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে।” (সূরা কাসাস- ৬৭)
তওবাকারীদের জন্য ফেরেশতারা দো'আ করে:
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
“যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুর্পাশ্বে রয়েছে, তারা প্রশংসার সাথে তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে এবং তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করে (বলে) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি জ্ঞান ও রহমত দ্বারা সকল কিছুকেই পরিবেষ্টন করে আছেন। অতএব যারা তওবা করে এবং আপনার পথের অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।” (সূরা মু'মিন- ৭)
তওবাকারীরা জান্নাতে প্রবেশ করবে :
إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَأُولَئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَلَا يُظْلَمُونَ شَيْئًا
“যারা তওবা করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদের প্রতি কোন যুলুম করা হবে না।” (সূরা মারইয়াম- ৬০)
তাদের জন্য কিয়ামতের দিন বিশেষ নূর থাকবে :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا تُوبُوا إِلَى اللَّهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا أَتْمِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
“হে মুমিনগণ! তোমরা একান্ত বিশুদ্ধভাবে আল্লাহর নিকট তওবা কর; এতে আশা করা যায়, তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের গুনাহগুলোকে ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত। সেই দিন আল্লাহ নবী ও তাঁর মুমিন বান্দাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন না। তাদের নূর তাদের সম্মুখে ও ডান পার্শ্বে ধাবিত হবে, তাঁরা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।” (সূরা তাহরীম- ৮)
তওবা আল্লাহর আযাব থেকে মুক্তি দেয়:
وَمَا كَانَ اللهُ لِيُعَذِّبَهُمْ وَأَنْتَ فِيهِمْ وَمَا كَانَ اللهُ مُعَذِّبَهُمْ وَهُمْ يَسْتَغْفِرُونَ
“আল্লাহ এমন নন যে, তুমি তাদের মধ্যে থাকবে অথচ তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন। আর আল্লাহ এমনও নন যে, তারা ক্ষমাপ্রার্থনা করবে আর তিনি তাদেরকে শাস্তি দেবেন।” (সূরা আনফাল- ৩৩)
📄 তওবা না করার পরিণাম
তওবা আল্লাহর পক্ষ হতে বান্দার জন্য এক বিশেষ নিয়ামত, যা তিনি স্বেচ্ছায় নিজ বান্দাদেরকে দান করেছেন। তাই বান্দা যদি আল্লাহর দেয়া এ নিয়ামতকে গ্রহণ না করে তবে আল্লাহ তা'আলা অসন্তুষ্ট হন।
আর বান্দা যেহেতু ভুলের উর্ধ্বে নয়। সেহেতু সে যদি তওবা না করে তবে তার সে গুনাহ তো থেকেই যাবে এবং এজন্য তাকে পরকালে ভয়াবহ শাস্তি ভোগ করতে হবে। আল্লাহ তা'আলা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তওবা না করার পরিণাম সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। যেমন-
যারা তওবা করে না তারা যালিম :
وَمَن لَّمْ يَتُبْ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
“আর যারা পাপকর্ম থেকে ফিরে আসে না (তওবা করে না) তারাই যালিম।” (সূরা হুজুরাত- ১১)
এরা কঠিন শাস্তি ভোগ করবে :
إِنَّ الَّذِينَ فَتَنُوا الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَتُوبُوا فَلَهُمْ عَذَابٌ جَهَنَّمَ وَلَهُمْ عَذَابٌ الْحَرِيقِ
“যারা ঈমানদার নর-নারীর উপর যুলুম করেছে এবং পরে তওবাও করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের আযাব ও দহন যন্ত্রণা।” (সূরা বুরূজ- ১০)
তওবা না করাতে আল্লাহর তিরস্কার :
أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তবে কি তারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না ও তাঁর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করবে না? আল্লাহ তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা- ৭৪)
أَوَلَا يَرَوْنَ أَنَّهُمْ يُفْتَنُونَ فِي كُلِّ عَامٍ مَرَّةً أَوْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ لَا يَتُوبُونَ وَلَا هُمْ يَذَّكَّرُونَ
“তারা কি দেখে না যে, তাদেরকে প্রতি বৎসর একবার বা দু'বার বিপর্যস্ত করা হয়? এরপরও তারা তওবা করে না এবং উপদেশ গ্রহণ করে না।” (সূরা তওবা- ১২৬)