📘 গীবত ও তওবা > 📄 আল্লাহর ক্ষমাপরায়ণতা

📄 আল্লাহর ক্ষমাপরায়ণতা


আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল। তাঁর ক্ষমা ও দয়া মানুষ কল্পনাও করতে পারে না। কুরআনের মধ্যে আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَإِنْ تَعُدُوا نِعْمَةَ اللَّهِ لَا تُحْصُوهَا إِنَّ اللَّهَ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ গণনা করলে এর সংখ্যা নির্ণয় করতে পারবে না। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক ক্ষমাপরায়ণ ও পরম দয়ালু।” (সূরা নাহল- ১৮)
نَبِي عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيم - وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ
“আমার বান্দাদেরকে বলে দাও যে, আমি তো অধিক ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। আর নিশ্চয় আমার শাস্তিও যন্ত্রণাদায়ক” (সূরা হিজর- ৪৯)
وَإِنَّ رَبَّكَ لَذُو مَغْفِرَةٍ لِلنَّاسِ عَلَى ظُلْمِهِمْ وَإِنَّ رَبَّكَ لَشَدِيدُ الْعِقَابِ
“মানুষের সীমালঙ্ঘন সত্ত্বেও তোমার প্রতিপালক মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল এবং তোমার প্রতিপালক শাস্তি দানেও কঠোর।” (সূরা রা'দ-৬)
وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ لَوْ يُؤَاخِذُهُمْ بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ بَلْ لَهُمْ مَوْعِدٌ لَّنْ يَجِدُوا مِنْ دُونِهِ مَوْثِلًا
“তোমার প্রতিপালক পরম ক্ষমাশীল ও দয়াবান। তাদের (মানুষের) কৃতকর্মের জন্য যদি তিনি তাদেরকে পাকড়াও করতে চাইতেন, তবে তিনি অবশ্যই তাদের শাস্তি ত্বরান্বিত করতেন। কিন্তু তাদের জন্য রয়েছে এক প্রতিশ্রুতি মুহুর্ত, যা হতে তারা কখনই কোন আশ্রয়স্থল পাবে না।” (সূরা কাহ্ফ্ফ- ৫৮)
إِنَّ رَبَّكَ وَاسِعُ الْمَغْفِرَةِ هُوَ أَعْلَمُ بِكُمْ إِذْ أَنْشَاكُمْ مِنَ الْأَرْضِ وَإِذْ أَنْتُمْ أَجِنَّةٌ فِي بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ فَلَا تُرَكُوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقُى
“তোমার প্রতিপালকের ক্ষমা অপরিসীম; তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত, যখন তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলেন মাটি হতে এবং এক সময় তোমরা মাতৃগর্ভে ভ্রুণরূপে ছিলে। অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না; তিনিই ভাল জানেন কে মুত্তাকী।” (সূরা নাজম- ৩২)

আল্লাহর ক্ষমা সীমাহীন :
حَدَّثَنَا أَنَسُ bْنُ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ قَالَ اللهُ يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ مَا دَعَوْتَنِي وَرَجَوْتَنِي غَفَرْتُ لَكَ عَلَى مَا كَانَ فِيكَ وَلَا أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ لَوْ بَلَغَتْ ذُنُوبُكَ عَنَانَ السَّمَاءِ ثُمَّ اسْتَغْفَرْ تَنِي غَفَرْتُ لَكَ وَلَا أُبَالِي يَا ابْنَ آدَمَ إِنَّكَ لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكْ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَا بِهَا مَغْفِرَةٌ
আনাস বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, হে আদমসন্তান! তুমি যতক্ষণ আমার নিকট প্রার্থনা করতে থাকবে এবং আমার প্রতি আশা পোষণ করতে থাকবে, আমি তোমাকে ক্ষমা করতে থাকব। তোমার পাপের পরিমাণ যতই হোক না কেন আমি পরোওয়া করি না। হে আদমসন্তান! যদি তোমার পাপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর তুমি আমার নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা কর তাহলেও আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব। হে আদমসন্তান! তুমি যদি আমার নিকট এতবেশি পাপ নিয়ে আগমন কর যে, তার দ্বারা সমগ্র পৃথিবী ভরেও যায়, আর তুমি কাউকে আমার সাথে শরীক না কর, তা হলে আমিও পৃথিবী পরিমাণ ক্ষমা নিয়ে তোমার দিকে আসব। (তিরমিযী: ৩৫৪০)

📘 গীবত ও তওবা > 📄 আল্লাহ যেকোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে পারেন

📄 আল্লাহ যেকোন ব্যক্তিকে ক্ষমা করতে পারেন


আল্লাহ তা'আলার ঘোষণা অনুযায়ী তিনি যেকোন ব্যক্তির তওবাই কবুল করতে পারেন। বান্দা যখনই নিজ অপরাধ স্বীকার করে আল্লাহর কাছে তওবা করে তখনই আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ جُنْدَبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدَّثَ أَنَّ رَجُلا قَالَ وَاللَّهِ لَا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلَانٍ وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَى أَن لَّا أَغْفِرَ لِفُلَانٍ فَإِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِفُلَانٍ وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ
জুনদুব বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, জনৈক ব্যক্তি কোন এক গুনাহগার ব্যক্তি সম্পর্কে বলল যে, আল্লাহর কসম! অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। অথচ আল্লাহ তা'আলা বলেন, কে সেই ব্যক্তি যে আমার সম্পর্কে শপথ করে বলছে যে, আমি অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করব না? তুমি জেনে রাখ, আমি অমুক ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছি, আর তোমার আমলকে বরবাদ করে দিয়েছি। (মুসলিম হা: ৬৮৪৭)
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, আল্লাহ ও তাঁর বান্দার মাঝখানে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। ব্যক্তি যখন বিধি মোতাবেক তওবা করবে, আল্লাহ তা'আলা তার তওবা কবুল করবেন। কেউ কেউ বলে বসে যে, অমুক ব্যক্তিকে কেমন করে ক্ষমা করা হবে? এসব কথা ঈমানের পরিপন্থি। প্রত্যেকেরই তার নিজ সম্পর্কে চিন্তা করা আবশ্যক। নিজের ইবাদাত ও তাকওয়ার উপর অহংকার করা এবং স্বীয় মাগফেরাত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া, আর অন্যের পাপের প্রতি দৃষ্টিপাত করা এবং এরূপ মনে করা যে, অমুক ব্যক্তিকে কেমন করে ক্ষমা করা হবে, এসব মুমিনের কাজ নয়।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 আল্লাহ যাদেরকে বেশি বেশি ক্ষমা করেন

📄 আল্লাহ যাদেরকে বেশি বেশি ক্ষমা করেন


মহান আল্লাহর ক্ষমার হাত সকলের জন্য প্রসারিত থাকার পরও কিছু কিছু বিশেষ ব্যক্তি আছেন যাদের তওবা আল্লাহ তা'আলা আরো বেশি এবং খুব দ্রুত কবুল করে থাকেন। নিম্নে সে সম্পর্কে আলোকপাত করা হল :

যারা গুনাহের পর দ্রুত ক্ষমা চায় :
وَمَنْ يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمُ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللَّهَ يَجِدِ اللَّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا
“কেউ কোন মন্দকাজ করে অথবা নিজের প্রতি যুলুম করে পরে আল্লাহর নিকট ক্ষমাপ্রার্থনা করলে আল্লাহকে সে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু হিসেবেই পাবে।” (সূরা নিসা- ১১০)

যারা মুর্খতাবশত পাপ করে বসে তারপর তওবা করে নেয় :
مَنْ عَمِلَ مِنْكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তোমাদের মধ্যে কেউ অজ্ঞতাবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর তওবা করে এবং সংশোধন করে তবে তো আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা আন'আম- ৫৪)
فَمَنْ تَابَ مِنْ بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“নিজের প্রতি অত্যাচার করার পর যে তওবা করে নেয় এবং নিজেকে সংশোধন করে নেয়, নিশ্চয় আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। আল্লাহ তো অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা মায়িদা- ৩৯)

যারা পাপ থেকে বিরত থাকে :
فَإِنِ انْتَهَوْا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“অতঃপর যদি তারা (পাপ থেকে) বিরত হয় তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়।” (সূরা বাকারা- ১৯২)

যারা নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয় :
إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ وَأَصْلَحُوْا فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তবে যারা পাপ করার পর তওবা করে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেয়, তাদের ক্ষেত্রে নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়াময়।” (সূরা আলে ইমরান- ৮৯)

যারা পাপ ছেড়ে নেক আমল শুরু করে দেয়:
إِلَّا مَنْ ظَلَمَ ثُمَّ بَدَّلَ حُسْنًا بَعْدَ سُوءٍ فَإِنِّي غَفُورٌ رَحِيمٌ
“তবে যারা যুলুম করার পর মন্দকর্মের পরিবর্তে সৎকর্ম করে, তাদের প্রতি আমি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা নামল- ১১)
وَإِنِّي لَغَفَّارٌ لِمَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا ثُمَّ اهْتَدَى
“আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ঈমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎপথে অবিচল থাকে।” (সূরা ত্বা-হা- ৮২)

যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে:
فَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَهُمْ مَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
“যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের জন্য আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।” (সূরা হাজ্জ-৫০)
وَأَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَ فِي النَّhَارِ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ ذَلِكَ ذِكْرَى لِلذَّاكِرِينَ
“তুমি সালাত কায়েম কর দিনের দু'প্রান্তভাগে ও রাতের প্রথমাংশে। সৎকর্ম অবশ্যই অসৎকর্ম মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ গ্রহণ করে, এটা তাদের জন্য এক উপদেশ।” (সূরা হৃদ- ১১৪)

যাদের মধ্যে তাকওয়া আছে :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَّحْمَتِهِ وَيَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তার রাসূল ﷺ এর প্রতি ঈমান আন, তিনি তার অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দেবেন এবং তিনি তোমাদেরকে দেবেন আলো, যার সাহায্যে তোমরা চলবে এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা হাদীদ- ২৮)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَتَّقُوا اللَّهَ يَجْعَلْ لَكُمْ فُرْقَانًا وَيُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
“হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে আল্লাহ তোমাদেরকে ন্যায়-অন্যায় পার্থক্য করার শক্তি দেবেন, তোমাদের পাপ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন, আর আল্লাহ অতিশয় মঙ্গলময়।” (সূরা আনফাল- ২৯)

যারা উপদেশ মেনে চলে :
إِنَّمَا تُنْذِرُ مَنِ اتَّبَعَ الذِّكْرَ وَخَشِيَ الرَّحْمَنَ بِالْغَيْبِ فَبَشِّرْهُ بِمَغْفِرَةٍ وَأَجْرٍ كَرِيمٍ
“আপনি কেবল তাকেই সতর্ক করতে পারেন, যে উপদেশ মেনে চলে এবং না দেখে দয়াময় আল্লাহকে ভয় করে। অতএব আপনি তাকে সুসংবাদ শুনিয়ে দিন ক্ষমা ও উত্তম পুরস্কারের।” (সূরা ইয়াসীন- ১১)

যারা জান-মাল দিয়ে জিহাদ করে:
فَالَّذِينَ هَاجَرُوا وَأُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأُوذُوا فِي سَبِيلِي وَقَاتَلُوا وَقُتِلُوا لَا كَفِّرَنَّ عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأُdْخِلَنَّهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ثَوَابًا مِنْ عِنْدِ اللَّهِ وَاللَّهُ عِنْدَةً حُسْنُ الثَّوَابِ
“যারা হিজরত করেছে ও তাদের ঘর-বাড়ি হতে বিতাড়িত হয়েছে, আমার পথে নির্যাতিত হয়েছে এবং হত্যা করেছে ও নিহত হয়েছে, নিশ্চয় আমি তাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করব এবং তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাব যার নিচ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত। এটা আল্লাহর নিকট হতে প্রতিদান এবং আল্লাহর নিকট উত্তম প্রতিদান রয়েছে।” (সূরা আলে ইমরান- ১৯৫)
تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنْفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ - يَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَيُدْخِلْكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
“তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ ও জীবন দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম যদি তোমরা জানতে! (আল্লাহ) তোমাদের পাপ রাশি ক্ষমা করে দেবেন এবং তোমাদেরকে প্রবেশ করাবেন এমন জান্নাতে যার তলদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত এবং স্থায়ী জান্নাতের উত্তম বাসগৃহে। এটাই হচ্ছে মহাসাফল্য।” (সূরা সাফ- ১১,১২)

যারা আল্লাহর পথে দান করে:
إِنْ تُقْرِصُوا اللهَ قَرْضًا حَسَنًا يُضَاعِفُهُ لَكُمْ وَيَغْfِرْ لَكُمْ وَاللَّهُ شَكُورٌ حَلِيمٌ
“যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দান কর, তবে তিনি তোমাদের জন্য এটা বহু গুণে বৃদ্ধি করবেন এবং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করবেন। আল্লাহ গুণগ্রাহী ও সহনশীল।” (সূরা তাগাবুন- ১৭)

যারা নবী ﷺ এর অনুসরণ করে :
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللهُ وَيَغْفِرُ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“তুমি বলে দাও, যদি তোমরা আল্লাহর ভালবাসা পেতে চাও তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আলে ইমরান- ৩১)

যারা সত্য ও সঠিক কথা বলে :
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحُ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সঠিক কথা বল। আল্লাহ তোমাদের 'আমলগুলোকে সংশোধন করবেন এবং তোমাদের গুনাহ সমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে তো মহাসাফল্য লাভ করবে।” (সূরা আহযাব- ৭০,৭১)

যারা মানুষের ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দেয়:
وَلْيَعْفُوا وَلْيَصْفَحُوا اَلَا تُحِبُّونَ أَنْ يَغْfِرَ اللَّهُ لَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
“মানুষকে ক্ষমা কর এবং তাদের দোষ-ত্রুটি উপেক্ষা করে। তোমরা কি চাও না যে, আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করুন? আর আল্লাহ ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।” (সূরা নূর- ২২)

যারা কবীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকে :
إِنْ تَجْتَنِبُوا كَبَائِرَ مَا تُنْهَوْنَ عَنْهُ نُكَفِّرْ عَنْكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَنُدْخِلْكُمْ مُدْخَلًا كَرِيمًا
“তোমাদেরকে যে সকল কবীরা গুনাহ হতে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকলে আমি তোমাদের (অতীতের) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেব এবং তোমাদেরকে সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাব।” (সূরা নিসা- ৩১)

📘 গীবত ও তওবা > 📄 যাদেরকে তওবা ছাড়া ক্ষমা করা হয় না

📄 যাদেরকে তওবা ছাড়া ক্ষমা করা হয় না


এ কথা সঠিক যে, আল্লাহ তা'আলা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু। যে-ই তাঁর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে তাকেই তিনি ক্ষমা করতে পারেন। তবে এটা হয় গুনাহের স্তর অনুযায়ী। যার গুনাহ যত বড় হবে তাকে সেভাবেই তওবা করতে হবে। কতক গুনাহ আছে নেক আমলের মাধ্যমে আপনা-আপনিই ক্ষমা হয়ে যায়। কতক গুনাহ আছে খালিস তওবা ছাড়া সেগুলো ক্ষমা হয় না। আবার এমনও গুনাহ আছে তওবা ছাড়া মারা গেলে পরকালে আল্লাহ তা'আলা ঐ গুনাহ ক্ষমা করবেন না। যেমন-

শিরকের গুনাহ:
গুনাহের মধ্যে একটি বড় গুনাহ হচ্ছে শিরক। এটা এমন একটি গুনাহ যা আল্লাহ তা'আলা খালিস তওবা ছাড়া ক্ষমা করেন না। কেননা এর দ্বারা আল্লাহ তা'আলার একত্বাবাদকে অস্বীকার করা হয়। তাই আল্লাহ তা'আলা খালিস তওবা ছাড়া এটা ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَى إِثْمًا عَظِيمًا
“নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শিরক স্থাপনের পাপ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে সে এক মহাপাপ করে।” (সূরা নিসা- ৪৮)
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, যারা তওবা না করে মৃত্যুবরণ করবে। তারা যখন শিরকের গুনাহ নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হবে তখন আল্লাহ তা'আলা এ গুনাহের কারণে তাদের অন্যসব গুনাহ তিনি ক্ষমা করবেন না। তবে মুশরিক ব্যক্তি যদি দুনিয়াতে অনুতপ্ত হয়ে খালিস নিয়তে তওবা করে আল্লাহর নির্দেশ মোতাবেক চলে এবং সৎ আমল করে তবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

যারা মুনাফিকী করে :
سَوَاءٌ عَلَيْهِمُ اسْتَغْفَرْتَ لَهُمْ أَمْ لَمْ تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ لَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
“তুমি তাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দান করেন না।” (সূরা মুনাফিকূন- ৬)
অত্র আয়াত আল্লাহ তা'আলা মদীনার সবচেয়ে বড় মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই সম্পর্কে অবর্তীন করেছেন। আয়াতটি ব্যক্তি সম্পর্কে অবতীর্ণ হলেও যারাই মুনাফিকী করবে তাদের প্রত্যেকেই এ আয়াতের আওতায় পড়বে। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাসূল ﷺ ও মুমিনদের সাথে এমন আচরণ করত যে, তার চেয়ে বড় মুমিন আর কেউ নেই। আবার তাদের থেকে একটু আড়াল হলে কাফেরদের সাথে মিলিত হয়ে কুফুরীতে লিপ্ত হয়ে পড়ত। যার দ্বারা প্রমাণ হয় যে, সে মূলত কুফুরীতে লিপ্ত ছিল, আর উপরে উপরে মুমিন বলে পরিচয় দিত। তাই রাসূল ﷺ তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করলে মহান আল্লাহ তার আবেদন নাকচ করে দেন। এমনকি এ কথাও বলে দেন যে, তুমি যদি ৭০ বার তার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা কর তবুও তাকে ক্ষমা করা হবে না।
সুতরাং বুঝা গেল যে, আল্লাহ তা'আলা মুনাফিকীর গুনাহ ক্ষমা করেন না। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে এ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন!

যারা বিদ'আত করে :
আনাস বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেক বিদআতীর তওবা স্থগিত করে রেখেছেন, যতক্ষণ না সে তার বিদআতকে পরিত্যাগ করবে। (তাবরানী, সহীহ আত-তারগীব ওয়াত্তারহীব হা: ৫৪)
এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, বিদআতী যতক্ষণ পর্যন্ত বিদআত পরিত্যাগ না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত তার তওবা কবুল হবে না। বিদআত অত্যন্ত মন্দকাজ। রাসূল ﷺ আমাদেরকে একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বীন উপহার দিয়েছেন। সুতরাং এ দ্বীনের মধ্যে কোনকিছু কমানো বা বাড়ানোর অধিকার কারো নেই। যে ব্যক্তি কোন বিদআত প্রচলন করে, সে যেন এটা প্রকাশ করে যে, রাসূল ﷺ আমাদের নিকট পূর্ণাঙ্গ দ্বীন পৌঁছিয়ে যাননি। ইসলামের মধ্যে যে অভাব থেকে গিয়েছিল, এটাকে সে পূর্ণ করছে। (নাউযু বিল্লাহ)। এটা বিরাট গোমরাহী। এ গোমরাহীর মধ্যে অনেক লোকই লিপ্ত রয়েছে। তারা বিদআতের সাথে এমনভাবে জড়িত যে, শত বুঝালেও তারা তা থেকে ফিরে আসে না। যার কারণে তাদের তওবা করারও সুযোগ হয় না। এ জন্য তাদের কোন আমল কাজে আসবে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا - الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا
(হে নবী!) আপনি বলে দিন, আমি কি তোমাদেরকে আমলের দিক থেকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ব্যাপারে সংবাদ দেব? (তারা হচ্ছে) যাদের দুনিয়ার জীবনের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে অথচ তারা ধারণা করছে যে, তারা উত্তম কাজ করছে। (সূরা কাহফ- ১০৩, ১০৪)

যারা ঈমান এনেও বারবার কুফরী করে :
যারা ঈমান আনার পরও কুফরী কাজে লিপ্ত হয়, এমনকি বার বার কুফরী করে আর এ অবস্থায়ই মৃত্যু বরণ করে, তাদের তওবা আল্লাহ তা'আলা কবুল করেন না। তাদের ঠিকানা হবে জাহান্নাম। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بَعْدَ إِيمَانِهِمْ ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّنْ تُقْبَلَ تَوْبَتُهُمْ وَأُولئِكَ هُمُ الضَّالُونَ
নিশ্চয় যারা ঈমান আনার পরও কুফরী করে, এরপর সেই কুফরীকে বৃদ্ধি করে তাদের তওবা কখনো কবুল করা হবে না। আর তারাই হবে পথভ্রষ্ট। (সূরা আলে ইমরান- ৯০)
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ آمَنُوا ثُمَّ كَفَرُوا ثُمَّ ازْدَادُوا كُفْرًا لَّمْ يَكُنِ اللَّهُ لِيَغْفِرَ لَهُمْ وَلَا لِيَهْدِيهُمْ سَبِيلًا
“নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও পরে কুফরী করে এবং আবার ঈমান আনে, আবার কুফরী করে; অতঃপর তাদের কুফরী বৃদ্ধি পায়, আল্লাহ তাদেরকে কিছুতেই ক্ষমা করবেন না এবং তাদেরকে (ক্ষমার) কোন পথও দেখাবেন না।” (সূরা নিসা- ১৩৭)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00