📘 গীবত ও তওবা > 📄 কথা বলার আদব

📄 কথা বলার আদব


কথা বলার কিছু আদব বা নিয়ম আছে যা মেনে চললে কথার মধ্যে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। নিম্নে এসব নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করা হল :
১. যেসব কথার দ্বারা দ্বীন ও দুনিয়ার কোন লাভ নেই সেসব কথা মুখ দিয়ে বের করা উচিত নয়।
২. সর্বাবস্থায় উত্তেজনামূলক কথা পরিহার করতে হবে।
৩. কথা বলার আগে চিন্তা করে নিতে হবে যে, আমি কী বলছি আর এর প্রভাব কী হবে? কেননা, কোন কোন সময় হালকাভাবে এমন কথা মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়, যার কারণে ফাসাদ সৃষ্টি হয়। সবসময় পরিবেশ ও পরিস্থিতি বুঝে কথা বলতে হবে।
৪. যাচাই বাছাই ও প্রমাণ ব্যতীত কোন কথা বলা উচিত নয়। কেননা এর প্রভাব বহুদূর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছতে পারে।
৫. কোন প্রসঙ্গ বুঝাতে গিয়ে অতিরিক্ত কথা বলা পরিহার করতে হবে।
৬. কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন কথা এত দীর্ঘ না হয়, যাতে শ্রোতা বিরক্ত হয় আবার এত সংক্ষিপ্ত যেন না হয় যে, শ্রোতা কথার অর্থই বুঝবে না।
৭. কথা পরিপূর্ণ ও স্পষ্ট করে বলতে হবে। যাতে অন্যরা সহজে বুঝতে পারে।
৮. কেউ কেউ কিছু কথা খুব জোরে বলে, আবার কিছু কথা আস্তে বলে। এতে কোনটা শুনা যায় আবার কোনটা শুনা যায় না, শ্রোতারা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে যায়। তাই কথার প্রতিটি অংশকেই স্পষ্ট করে বলতে হবে।
আনাস বলেছেন, রাসূল ﷺ যখন কথা বলতেন তখন তিন বার পুনরাবৃত্তি করতেন (যেন সবাই বুঝতে পারে)। (বুখারী হা: ৯৪)
৯. গীবত, চোগলখোরী ও মুনাফিকী পরিহার করতে হবে।
১০. যদি কেউ গালি দেয় বা কটু কথা বলে তাহলে তার জওয়াব সেভাবে দেয়া যাবে না বরং উত্তম কথায় তার জওয়াব দিতে হবে, যাতে সে আরো উত্তেজিত না হয় এবং নিজের ভুল বুঝতে পারে।
১১. কারো সাথে অহেতুক বিতর্কে জড়ানো যাবে না। যদি প্রতিপক্ষ যুক্তিপ্রমাণ না মানে তাহলে সেখানে চুপ থাকতে হবে।
১২. কেউ কথা বলার সময় তার কথার মাঝখানে কথা বলবে না বরং শ্রবণ করবে, পরে সুন্দর ভাষায় এর উত্তর দেবে।
১৩. আস্তে কথা বলতে হবে। কেননা আস্তে কথা বলা তাকওয়ার পরিচয় বহন করে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَاقْصِدُ فِي مَشْيِكَ وَاغْضُضْ مِنْ صَوْتِكَ إِنَّ أَنْكَرَ الْأَصْوَاتِ لَصَوْتُ الْحَمِيرِ
“তোমার চলাফেরায় মধ্যম পন্থা অবলম্বণ কর এবং তোমার স্বরকে নীচু কর। নিশ্চয় স্বরের মধ্যে গাঁধার স্বরই সবচেয়ে অপছন্দনীয়।” (সূরা লুকমান- ১৯)
১৪. মেয়েরা পুরুষদের সাথে নরম ভাষায় কথা বলবে না। কারণ এতে ফিতনার আশংকা রয়েছে। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي في قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
“হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা কোন সাধারণ স্ত্রীলোকের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে (পরপুরুষের সাথে) কথা বলার সময় এমনভাবে কোমল কন্ঠে কথা বল না যাতে যার অন্তরে (কু-প্রবৃত্তির) রোগ রয়েছে সে লালায়িত হয়। আর তোমরা ন্যায়সঙ্গত কথা বলবে।” (সূরা আহযাব- ৩২)
১৫. মন্দ কথা পরিহার করতে হবে। কেননা শয়তান মন্দ কথার উস্কানি দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَقُلْ لِعِبَادِي يَقُولُوا الَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ الشَّيْطَانَ يَنْزَغُ بَيْنَهُمْ إِنَّ الشَّيْطَانَ كَانَ لِلْإِنْسَانِ عَدُوًّا مُّبِينًا
"আমার বান্দাদেরকে উত্তম কথা বলতে বলো। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।” (সূরা বনী ইসরাঈল- ৫৩)
১৬. অশ্লীল কথাবার্তা পরিহার করতে হবে। কেননা অশ্লীল কথাবার্তা বলা মুনাফিকদের কাজ। আবু উমামা বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, লজ্জা ও কম কথা বলা ঈমানের দু'টি শাখা। আর অশ্লীল ও অপ্রয়োজনীয় কথা বলা মুনাফিকীর দু'টি শাখা। (তিরমিযী হা: ২০২৭)
১৭. সর্বদা সত্য কথা বলতে হবে, কখনও মিথ্যা বলা যাবে না। কেননা সকল পাপের উৎস হচ্ছে মিথ্যা। যে মিথ্যা বলতে পারে পাপের এমন কোন কাজ নেই যা সে করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّوْرِ
“সুতরাং তোমরা মূর্তিদের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাক।” (সূরা হাজ্জ- ৩০)
সর্বোপরি, কথা বলার পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। সর্বদা ভাল কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। আর এমনসব কথা বলা থেকে দূরে থাকতে হবে, যা দ্বারা আল্লাহ রাগান্বিত হন।
১৮. কানাকানি করে কথা বলবে না। কানাকানি কু-ধারণার জন্ম দেয়। তাই রাসূল ﷺ এটা নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন-
إِذَا كُنْتُمْ ثَلَاثَةً فَلَا يَتَنَاجِي رَجُلَانِ دُونَ الْآخَرِ حَتَّى تَخْتَلِطُوا بِالنَّاسِ أَجْلَ أَنْ يُحْزِنَهُ
“যদি তিনজন লোক একসাথে থাকে, তবে দু'জন যেন অপরজনকে বাদ দিয়ে গোপন আলাপ না করে। তাদের উচিত হবে একত্রে মিলে কথা বলা নতুবা যাকে বিচ্ছিন্ন করা হবে সে চিন্তিত হবে।” (বুখারী হা: ৫৮৪৪)
অত্র হাদীসে রাসূল ﷺ কানাকানি করার ব্যাপারে সর্বনিম্ন তিনজন লোক নির্ধারণ করেছেন। সর্বোচ্চের কথা কিছুই বলেননি। তাই তিন বা তিনের অধিক সংখ্যক লোক উপস্থিত থাকা অবস্থায় দু'জন আলাদা হয়ে চুপে চুপে কথা বলা নিষেধ। কারণ, তৃতীয়জন ভাববে তারা হয়ত আমার সম্পর্কে কিছু বলছে। এতে তার কষ্ট হবে এবং তাদের প্রতি বিরূপ ধারণা করার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে যদি প্রয়োজন হয় তাহলে তৃতীয় জনের অনুমতি নিয়ে কথা বলবে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 কথা বলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা

📄 কথা বলা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা


১. আল্লাহ তা'আলা ভাল কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِیْنَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا - يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। আর তোমরা সঠিক কথা বল। তিনি তোমাদের কাজকর্ম সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দেবেন। আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসরণ করল সে মহাসফলতা অর্জন করল।” (সূরা আহযাব- ৭০, ৭১)

২. আল্লাহ মন্দ কথা পছন্দ করেন না :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
لَا يُحِبُّ اللَّهُ الْجَهْرَ بِالسُّوْءِ مِنَ الْقَوْلِ إِلَّا مَنْ ظُلِمَ وَكَانَ اللهُ سَمِيعًا عَلِيمًا
“মন্দ কথার প্রচারণা আল্লাহ পছন্দ করেন না; তবে যার উপর জুলুম করা হয়েছে সে ব্যতীত। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।” (সূরা নিসা- ১৪৮)

৩. না জেনে কথা বলা নিষেধ :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
“যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; কর্ণ, চক্ষু, হৃদয়, তাদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল- ৩৬)

৪. ভাল কথা ছাড়া অন্য কথায় ফায়দা নেই :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاتِ اللَّهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا
“তাদের অধিকাংশের গোপন পরামর্শে কোন কল্যাণ নেই, তবে কল্যাণ আছে- যে দান-খয়রাতের, সৎকমের ও মানুষের মধ্যে শান্তি স্থাপনের নির্দেশ দেয়; আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আকাঙ্ক্ষায় কেউ তা করলে তাকে অবশ্যই আমি মহাপুরস্কার দেব।” (সূরা নিসা: ১১৪)

৫. গোপন আলোচনাও আল্লাহ শুনতে পান :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلَاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلَا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلَا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْثَرَ إِلَّا هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
“তিন জনের এমন কোন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি তাদের চতুর্থজন না হন; আর পাঁচ জনেরও এমন কোন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি তাদের ষষ্ঠজন না হন। অথবা তার চেয়ে কম হোক কিংবা বেশি হোক তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথে আছেন। অতঃপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে জানিয়ে দেবেন তারা যা করেছে। নিশ্চয় আল্লাহ সবকিছুই জানেন।” (সূরা মুজাদালা- ৭)

৬. মন্দ কাজে কানাকানি করা যাবে না:
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا تَنَاجَيْتُمْ فَلَا تَتَنَاجَوْا بِالْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَمَعْصِيَتِ الرَّسُوْلِ وَتَنَاجَوْا بِالْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন কানে কানে কথা বল তখন পাপকার্য, উৎপীড়ন ও রাসূলের অবাধ্যতার বিষয়ে কানাকানি করো না বরং সৎকাজ ও তাকওয়া সম্পর্কে কানাকানি করো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর যার কাছে তোমাদের একত্রিত করা হবে।” (সূরা মুজাদালা- ৯)

৭. বাজে প্রশ্ন করা নিষেধ :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا عَنْهَا حِيْنَ يُنَزِّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللهُ عَنْهَا وَاللهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ - قَدْ سَأَلَهَا قَوْمٌ مِنْ قَبْلِكُمْ ثُمَّ أَصْبَحُوا بِهَا كَافِرِينَ
“হে মুমিনগণ! তোমরা সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের নিকট প্রকাশ হলে তা তোমাদেরকে কষ্ট দেবে। কুরআন নাযিলের সময় তোমরা যদি সেসব বিষয়ে প্রশ্ন কর তবে তা তোমাদের নিকট প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেসব ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল ও সহনশীল। তোমাদের পূর্বেও এক সম্প্রদায় এ ধরণের প্রশ্ন করেছিল; অতঃপর তারা তা প্রত্যাখ্যান করে।” (সূরা মায়েদা- ১০১, ১০২)

৮. অনর্থক কথা ও কাজ ছাড়তে হবে :
আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের গুণ বর্ণনা করে বলেন-
وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ
“যারা অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকে।” (সূরা মুমিনূন- ৩)
রাসূল ﷺ বলেন-
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَالَا يَعْنِيهِ
“কোন মুসলিমের ইসলামের সৌন্দর্য হল- সে অনর্থক বিষয় থেকে দূরে থাকবে।” (তিরমিযী হা: ২৩১৭)

৯. কেউ মন্দ কথা বললে তার উত্তরে ভাল কথা বলতে হবে :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تَسْتَوِي الْحَسَنَةُ وَلَا السَّيِّئَةُ ادْفَعْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ فَإِذَا الَّذِي بَيْنَكَ وَبَيْنَهُ عَدَاوَةٌ كَأَنَّهُ وَلِيٌّ حَمِيمٌ
“ভাল ও মন্দ সমান হতে পারে না। মন্দকে প্রতিহত কর উত্তম দ্বারা। তাহলে দেখবে তোমার এবং তোমার শত্রুর মাঝে ঘনিষ্টতা সৃষ্টি হয়ে যাবে।” (সূরা হা-মীম সিজদা- ৩৪)

১০. জিহ্বার হেফাযত নাজাতের ওসীলা :
عَنْ عُقْبَةَ بْنَ عَامِرٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : لَقِيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمًا ، فَقُلْتُ: مَا النَّجَاةُ؟ قَالَ: يَا عُقْبَةُ أَمْسِكْ عَلَيْكَ لِسَانَكَ ، وَلْيَسَعُكَ بَيْتُكَ ، وَابْكِ عَلَى خَطِيئَتِكَ
উকবা ইবনে আমের বলেন, আমি রাসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! মুক্তির উপায় কী? তখন রাসূল ﷺ বললেন,
১. তুমি তোমার জিহ্বা নিয়ন্ত্রনে রাখ,
২. ঘরে অবস্থান কর এবং
৩. গুনাহের জন্য কান্না-কাটি কর। (তিরমিযী হা: ২৪০৬)

১১. মানুষকে হাসানোর জন্য কথা বলা ধ্বংস ডেকে আনে :
রাসূল ﷺ বলে-
وَيْلٌ لِلَّذِي يُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ لِيُضْحِكَ بِهِ الْقَوْمَ فَيَكْذِبُ وَيْلٌ لَهُ وَيْلٌ لَهُ
ধ্বংস তার জন্য যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বলে মানুষকে হাসায়। ধ্বংস তার জন্যই, ধ্বংস তার জন্যই। (তিরমিযী হা: ১৩১৫)

১২. সকালে সকল অঙ্গ মুখের কাছে ফরিয়াদ জানায় :
রাসূল ﷺ বলেন-
إِذَا أَصْبَحَ ابْنُ آدَمَ فَإِنَّ الْأَعْضَاءَ كُلَّهَا تُكَفِّرُ النِّسَانَ فَتَقُولُ اتَّقِ اللَّهَ فِيْنَا فَإِنَّمَا نَحْنُ بِكَ فَإِنِ اسْتَقَمْتَ اسْتَقَمْنَا وَإِنِ اعْوَجَجْتَ اعْوَجَجْنَا
যখন কোন আদমসন্তান সকালে উপণীত হয়, তখন সকল অঙ্গ মুখের কাছে ফরিয়াদ করে বলে, আমাদের ব্যাপারে তুমি আল্লাহকে ভয় কর, কেননা আমরা তোমার উপর নির্ভরশীল। তুমি যদি সঠিক থাক, তবে আমরাও সঠিক থাকব। আর তুমি যদি বক্র হয়ে যাও, তবে আমরাও বক্র হয়ে যাব। (তিরমিযী হা: ২৪০৭)

১৩. মুখের কথা মানুষকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবে:
عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كُنْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَصْبَحْتُ قَرِيبًا مِنْهُ وَنَحْنُ نَسِيرُ ، فَقُلْتُ : يَا نَبِيَّ اللهِ ، أَخْبِرْنِي بِعَمَلٍ يُدْخِلُنِي الْجَنَّةَ ، وَيُبْعِدُنِي عَنِ النَّارِ ، قَالَ : لَقَدْ سَأَلْتَ عَنْ عَظِيمٍ ، وَإِنَّهُ لَيَسِيرٌ عَلَى مَنْ يَسَّرَهُ اللَّهُ عَلَيْهِ ، تُقِيمُ الصَّلَاةَ . وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ ، وَتَصُومُ رَمَضَانَ ، وَتَحُجُّ الْبَيْتَ, ثُمَّ قَالَ : أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى أَبْوَابِ الْخَيْرِ ؟ الصَّوْمُ جُنَّةٌ ، وَالصَّدَقَةُ تُطْفِئُ الْخَطِيئَةَ كَمَا يُطْفِئُ الْمَاءُ النَّارَ ، وَصَلَاةُ الرَّجُلِ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ, ثُمَّ تَلَا تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ حَتَّى { يَعْمَلُونَ} ثُمَّ قَالَ : أَلَا أُخْبِرُكَ بِرَأْسِ الْأَمْرِ وَعَمُودِهِ وَذِرْوَةِ سَنَامِهِ ؟ قُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ ، قَالَ : رَأْسُ الْأَمْرِ الْإِسْلَامُ . وَعَمُودُهُ الصَّلَاةُ ، وَذِرْوَةُ سَنَامِهِ الْجِهَادُ ثُمَّ قَالَ : أَلَا أُخْبِرُكَ بِمِلَاكِ ذَلِكَ كُلِهِ؟ قُلْتُ : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ فَقَالَ : كُفَّ عَلَيْكَ هُذَا قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَإِنَّا لَمُؤَاخَذُونَ بِمَا نَتَكَلَّمُ بِهِ ؟ قَالَ : ثَكِلَتُكَ أُمُّكَ يَا مُعَاذُ ، وَهَلْ يَكُبُّ النَّاسَ فِي النَّارِ عَلَى وُجُوهِهِمْ . أَوْ قَالَ : عَلَى مَنَاخِرِهِمْ ، إِلَّا حَصَائِدُ الْسِنَتِهِمْ ؟.
মুয়াজ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী ﷺ এর সাথে ছিলাম এবং আমি তার কাছাকাছি অবস্থান করছিলাম। আমরা তখন সফররত অবস্থায় ছিলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহর নবী! আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলে দিন যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং জাহান্নাম থেকে দূরে রাখবে। তিনি বললেন, তুমি অনেক বড় একটি বিষয়ে প্রশ্ন করেছ। তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন সেটা তার জন্য খুবই সহজ। তুমি নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাযান মাসে রোযা রাখবে, বাইতুল্লায় হজ্জ করবে। অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে কল্যাণের দরজাসমূহের কথা বলে দেব না? তা হল,
১. সিয়াম (রোযা), এটা ঢালস্বরূপ।
২. সাদকা, এটা ঐভাবে গুনাহকে মিটিয়ে দেয় যেভাবে পানি আগুনকে নিভিয়ে দেয়।
৩. রাতের গভীরে নামায পড়া।
অতঃপর তিনি এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন-
تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ خَوْفًا وَطَمَعًا وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ - فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَّا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
“তাদের দেহ-পার্শ্ব বিছানা থেকে এমনভাবে আলাদা হয়ে যায় যে, তারা তাদের প্রতিপালককে আহ্বান করতে থাকে ভয়ে ও আশায় এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন জুড়ানো কী কী সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদানস্বরূপ?” (সূরা সিজদা- ১৫-১৭)
অতঃপর বললেন, আমি কি তোমাকে সকল কাজের মাথা, ভিত্তি এবং চুড়ান্ত শিখরের কথা বলব? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বলুন। তিনি বললেন,
১. সবকিছুর মূল হচ্ছে ইসলাম।
২. আর তার ভিত্তি হচ্ছে নামায।
৩. আর তার চুড়ান্ত শিখর হচ্ছে জিহাদ।
অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি এসব কিছুর সারকথা তোমাকে বলব? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি বলুন। অতঃপর তিনি তার জিহ্বা ধরে বললেন, তুমি এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখবে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা যেসব কথা বলি তার জন্যও কি পাকড়াও হব? তিনি বললেন, হে মুয়াজ! তোমার মায়ের সর্বনাশ হোক (এটা আক্ষেপসূচক কথা), মানুষ উপুড় হয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করবে কেবল তার মুখের কথার কারণে। (নাসাঈ হা: ১১৩৯৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00