📄 গীবতকারীকে ক্ষমা করা
কেউ ক্ষমা চাইলে তকে ক্ষমা করা উচিত। যেহেতু তিনটি গুণ খুবই উত্তম :
تُعْطِي مَنْ حَرَمَكَ، وَتَعْفُو عَمَّنْ ظَلَمَكَ، وَتَصِلُ مَنْ قَطَعَكَ
১. যে তোমাকে বঞ্চিত করে তুমি তাকে দেবে।
২. যে তোমার প্রতি যুলুম করে তুমি তাকে ক্ষমা করবে।
৩. যে তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তুমি তার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখবে। (বায়হাকী- ৭৫৮৪)
📄 চোগলখোরি কাকে বলে?
“চোগলখোরি হচ্ছে বিবাদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তির দোষ অপর ব্যক্তির নিকট বর্ণনা করা।”
ইমাম নববী (রহ.) বর্ণনা করেন, “ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টির জন্য একের কথা অপরের নিকট পৌঁছানোকেই চোগলখোরি বলে।”
গীবতের মত চোগলখোরিও একটি মারাত্মক অপরাধ। যে ব্যক্তি ক্ষতিসাধন ও শত্রুতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অপরজনের নিকট বলে বেড়ায় তাকে চোগলখোর বলে।
📄 গীবত ও চোগলখোরির মধ্যে পার্থক্য
গীবত ও চোগলখোরির মধ্যে পার্থক্য এই যে, কোন ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তার দোষ বলে বেড়ানোকে গীবত বলে। আর দু'ব্যক্তির মধ্যে সংঘাত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে একজনের কথা অপরজনের নিকট বলাকে চোগলখোরি বলে। অতএব যেখানে চোগলখোরি হয় সেখানে গীবতও রয়েছে।
📄 চোগলখোরির ভয়াবহ পরিণাম
চোগলখোরের অনুসরণ করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন :
যারা চোগলখোরি করে বেড়ায়, বন্ধুদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে তারা আল্লাহর নিকট নিকৃষ্ট বান্দা। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَلَا تُطِعْ كُلَّ حَلَّافٍ مَّهِينٍ - هَمَّازٍ مَشَاءٍ بِنَمِيمٍ
“তার অনুসরণ করো না যে কথায় কথায় শপথ করে, যে অতি নগণ্য, দোষারোপকারী ও চোগলখোরি করে বেড়ায়।” (সূরা কালাম- ১০, ১১)
চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না :
قَالَ حُذَيْفَةُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَتَاتْ
হুযায়ফা বললেন, আমি রাসূল ﷺ কে বলতে শুনেছি, চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (বুখারী হা: ৫৬২১, মুসলিম হা: ২০০)
চোগলখোরির কারণে কবরে ভয়াবহ শাস্তি হবে :
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ ، وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةً فَشَقَهَا نِصْفَيْنِ فَغَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةً قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَ فَعَلْتَ هُذَا قَالَ لَعَلَّهُ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا
ইবনে আব্বাস হতে বর্ণিত, রাসূল ﷺ দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, কবরের এ দু'ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে কোন মারাত্মক গুনাহের কারণে তারা শাস্তি ভোগ করছে না। তাদের একজনের অপরাধ হল, সে প্রস্রাব থেকে পর্দা করত না অথবা প্রস্রাবের ছিটা থেকে সর্তক থাকত না এবং অপরজনের অপরাধ হল, সে চোগলখোরি করে বেড়াত। অতঃপর নবী ﷺ একটি তাজা খেজুরের ডাল হাতে নিলেন এবং এটাকে দু'ভাগে ভাগ করে দু'কবরে পুঁতে দিলেন। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এমনটি কেন করলেন? তখন তিনি বললেন, আমি আশা রাখি যতক্ষণ পর্যন্ত এ দু'টি ডাল তাজা থাকবে ততক্ষণ কবরের শাস্তি হালকা থাকবে।” (বুখারী হা: ২১৮)