📘 গীবত ও তওবা > 📄 যেভাবে গীবত হয়ে থাকে

📄 যেভাবে গীবত হয়ে থাকে


১. যবানের মাধ্যমে গীবত :
যবানই হচ্ছে গীবত করার সবচেয়ে বড় মাধ্যম। বর্তমান সমাজে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গীবত সংঘটিত হয় এ যবান দ্বারাই। এজন্য নিজেদের যবানের হেফাযত করা প্রতিটি মুমিনের একান্ত কর্তব্য। রাসূল ﷺ বলেন-
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لِحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجُلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
“যে ব্যক্তি তার দু'পা ও দু'চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থানের দায়িত্ব নিতে পারবে অর্থাৎ মুখ ও লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, আমি তার জন্য জান্নাতের যামিনদার হব।” (বুখারী হা: ৬৪৭৪)
অপর হাদীসে তিনি বলেন-
مَنْ صَمَتَ نَجَا
“যে ব্যক্তি চুপ থাকল সে মুক্তি পেল।” (তিরমিযী হা: ২৫০১)
অন্য হাদীসে নবী ﷺ বলেন-
مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتُ
“যে আল্লাহ এবং পরকালকে বিশ্বাস করে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা নিরবতা পালন করে।” (বুখারী হা: ৬০১৮, মুসলিম হা: ৪৭)

২. শারীরিক অভিনয়ের মাধ্যমে গীবত করা :
কোন ব্যক্তি যদি অপর কোন ব্যক্তির দোষণীয় অবস্থা বুঝাতে শরীরের কোন অঙ্গ-প্রতঙ্গ ব্যবহার করে, তবে তাও গীবত বলে গণ্য হবে। যেমন কেউ কোন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে নিজের শরীরের অঙ্গ-প্রতঙ্গ ব্যবহার করে বলল, অমুক ব্যক্তি এ রকম করে হাঁটে বা এভাবে কথা বলে। এরূপ করাটাও গীবত। রাসূল ﷺ বলেছেন-
مَا يَسُرُّنِي أَنِّي حَكَيْتُ رَجُلًا وَأَنَّ لِي كَذَا وَكَذَا
“আমি এত এত সম্পদের বিনিময়ে হলেও অপরের অনুকরণ পছন্দ করি না।” (তিরমিযী হা: ২৫০২)

৩. ইশারা-ইঙ্গিতে গীবত করা :
ইশারা-ইঙ্গিতের মাধ্যমে অন্যের দোষ প্রকাশ করাও গীবত। যে কোন কারণে সরাসরি নাম উল্লেখ না করে যদি এমনভাবে ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করা হয় যাতে বুঝা যায় যে, সে অমুক ব্যক্তির সমালোচনা করছে তবে তা গীবত বলে গণ্য হবে। যেমন- কাল তার নিকট এই এই স্বভাবের লোক এসেছিল, আর শ্রবণকারী ব্যক্তিও চিনে নিল যে, সে কোন ব্যক্তি; তখন এটাও ঐ ব্যক্তির জন্য গীবত হয়ে যাবে। কোন মুসলমানের জন্য জায়েয নয় যে, সে তার অন্য ভাইয়ের দিকে এমনভাবে ইঙ্গিত করবে যা তাকে কষ্ট দেয়।

৪. অন্তরের মাধ্যমে গীবত করা :
কোন প্রমাণ ছাড়াই সন্দেহ বা অন্য কোন কিছুর ভিত্তিতে কারো সম্পর্কে অহেতুক খারাপ ধারণা করা ইসলামী শরীয়তে হারাম। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে এটা নিষেধ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اجْتَنِبُوا كَثِيرًا مِّنَ الظَّنِّ إِنَّ بَعْضَ الظَّنِّ إِثْمٌ
“হে ঈমানদারগণ! তোমরা অধিক ধারণা হতে বিরত থাক। নিশ্চয় কতক ধারণা এমন রয়েছে যা গুনাহ।” (সূরা হুজরাত : ১২)

৫. লেখনীর মাধ্যমে :
মানুষের মনের ভাব প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে লেখনী। অনেক সময় এ লেখনীর দ্বারাও গীবত সংঘটিত হয়ে থাকে। লেখনীর দ্বারা যদি কারো দোষ বর্ণনা করা হয় তবে তা ব্যক্তির মনে বড় ধরণের প্রভাব ফেলে। লেখনীর মাধ্যমে যে গীবত করা হয় তার স্থায়িত্ব অনেক বেশি হয়। কেননা লিখিত বস্তু অনেক দিন টিকে থাকে।

৬. কানের মাধ্যমে গীবত করা :
শুধুমাত্র অন্যের দোষ বলে বেড়ানোকেই গীবত বলে না বরং অন্যের দোষ শুনে প্রতিবাদ না করাটাও এক ধরণের গীবত। গীবত করা যেমন গর্হিত কাজ তেমনি তা শ্রবণ করাও গর্হিত কাজ। কেননা গীবত শ্রবণকারী গীবত না শুনলে পাপ সংঘঠিত হত না। তাই দু'জনেই অপরাধি। মুমিনের উচিত কানের হেফাযত করা। কারণ আল্লাহ বান্দার কান সম্পর্কে কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। মহান আল্লাহ বলেন-
إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْئُولًا
“কর্ণ, চক্ষু ও অন্তর এগুলোর প্রত্যেকটির বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।” (সূরা বনী ইসরাঈল- ৩৬)

📘 গীবত ও তওবা > 📄 গীবতের ব্যাপারে মহিলাদের সাবধানতা

📄 গীবতের ব্যাপারে মহিলাদের সাবধানতা


গীবত হচ্ছে মহিলাদের চারণভূমি। মহিলারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে অধিক হারে গীবতে জড়িয়ে পড়ে। যেমন- যখনই কয়েকজন মহিলা একত্রিত হয়, তখন তারা প্রায়ই সমালোচনা বা গীবতে লিপ্ত হয়ে যায়। তারা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে সমালোচনা করে। বিশেষ করে তাদের স্বামীদের ব্যাপারেও তারা নানা মন্তব্য করে থাকে। যেমন- একে অপরকে বলতে থাকে আমার স্বামী এরকম এরকম, আমাকে এটা দিয়েছে ওটা দেয়নি ইত্যাদি ইত্যাদি। এমনকি অনেক মহিলা তাদের স্বামীদের গোপনীয় বিষয় পর্যন্ত বলাবলি করতে লজ্জাবোধ করে না। এ কাজের পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। স্বামীর অকৃতজ্ঞ হওয়া এবং বেশি বেশি অভিশাপ দেয়া, এটা মহিলাদের জাহান্নামী হওয়ার প্রধান কারণ।
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ ، قَالَ : خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي أَضْحَى أَوْ فِطْرٍ - إِلَى الْمُصَلَّى، فَمَرَّ عَلَى النِّسَاءِ فَقَالَ: يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ، فَإِنِّي أُرِيتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ ، فَقُلْنَ : وَبِمَ يَا رَسُولَ اللهِ ؟ قَالَ : تُكْثِرْنَ اللَّعْنَ، وَتَكْفُرْنَ الْعَشِيرَ
আবূ সাঈদ খুদরী হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহে গেলেন। তিনি মহিলাদের নিকট আগমন করলেন, অতঃপর তাদেরকে সম্বোধন করে বললেন, হে মহিলারা! তোমরা সদকা কর, কারণ তোমাদেরকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামী হিসেবে আমাকে দেখানো হয়েছে। তখন তাঁরা আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে আমাদের এ অবস্থা? নবী ﷺ বললেন, তোমরা বেশি বেশি লানত (অভিশাপ) কর এবং স্বামীদের অকৃজ্ঞতা প্রকাশ কর। (বুখারী হা: ৩০৪)
বর্তমান সময়ে দেখা যায় যে, মহিলা অভিভাবকরা যখন ছেলে-মেয়েদেরকে নিয়ে স্কুলে যায় তখন তারা অনেকে একত্রে জমা হয় এবং তারা গীবতের মত জঘন্য কাজে লিপ্ত হয়ে থাকে। এভাবে তারা জীবনের অনেক মূল্যবান সময়কে গুনাহের কাজে ব্যয় করে থাকে। তাই এক্ষেত্রে মহিলাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। তারা যখন অবসর পায় তখন তাদের উচিত ইসলামী বই-পুস্তক পড়ে দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা এবং নেক আমলে লিপ্ত থাকা। তাহলে তারা অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারবে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 গীবতে লিপ্ত হওয়ার কারণ

📄 গীবতে লিপ্ত হওয়ার কারণ


গীবত মূলত শয়তানের ওয়াসওয়াসা। এ কারণে মানুষ অনিচ্ছায় গীবতে লিপ্ত হয়। কিন্তু খুব কম লোকই তা ধরতে পারে। তাছাড়া মানুষ সাধারণভাবে যেসব কারণে গীবতে লিপ্ত হয়ে থাকে তা হল :

১. ক্রোধের কারণে:
গীবতের সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে ক্রোধ। মানুষ যখন কোন কারণে কারো উপর রাগান্বিত হয় তখনই তার গীবত শুরু করে দেয়। কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির প্রতি রুষ্ট হলে উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে মনের ঝাল মিটানোর জন্য অপরের দোষচর্চা করে থাকে।

২. শত্রুতার কারণে :
শত্রুতা হচ্ছে গীবত সংঘটিত হওয়ার অন্যতম কারণ। যখন কেউ কারো উপর শত্রুতা পোষণ করে তখনই সে তার শত্রুর গীবতে লিপ্ত হয়।

৩. কাউকে অপমান করার জন্য :
যখন কোন ব্যক্তি কারো উপর নাখোশ হয় তখনই তাকে সে অপমান করার ইচ্ছা পোষণ করে। কোন ব্যক্তিকে অপমান করার উদ্দেশ্যে মানুষ গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

৪. কথার তাল মিলানোর জন্য :
কাউকে গীবত করতে দেখলে অনেক সময় কথার তাল মিলাতে গিয়ে অন্যরাও গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

৫. অহংকার ও আত্মগর্বের কারণে :
গীবতের আরেকটি বড় উৎস হচ্ছে গর্ব ও অহংকার। অহংকারের কারণেই মানুষ নিজেকে বড় ও অন্যকে ছোট ভাবতে শুরু করে। নিজের সব কিছুকেই মনে করে গুণ, আর অন্যের সবকিছুই মনে করে দোষ। যেমন কারো এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি একবারেই মূর্খ, তার কোন বোধশক্তি নেই। এ কথার দ্বারা সে বুঝাতে চায় যে, সেই সত্যিকারের জ্ঞানী এবং অন্যরা খুব কমই জ্ঞাত। এভাবে ব্যক্তি নিজের এহেন অহংকার ও আত্মগর্বের কারণে গীবতের মত নিকৃষ্ট কাজে জড়িয়ে পড়ে।

৬. হিংসার কারণে :
হিংসার কারণেও মানুষ গীবত করে থাকে। কোন ব্যক্তির মধ্যে যখন কোন ভাল গুণ থাকে এবং এর মাধ্যমে সে সমাজে খ্যাতি লাভ করে তখন তার হিংসুকরা তার সমালোচনা শুরু করে দেয়।

৯. হাসি-তামাশা ও ঠাট্টাচ্ছলে :
হাসি-তামাশা ও ঠাট্টাচ্ছলে মানুষ গীবতে লিপ্ত হতে পারে। তবে সময় কাটানোই এর মূল লক্ষ্য হয়ে থাকে।

১০. অন্যের কাজকে খারাপ মনে করার কারণে :
অন্যের কোন কাজ খারাপ লাগলে মানুষ ঐ কাজের সমালোচানা করতে গিয়ে গীবতে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

১১. পার্থিব সম্মান লাভের আশায় :
কারো কাছে প্রিয় পাত্র হওয়ার জন্যও মানুষ অনেক সময় অন্যের গীবতে লিপ্ত হয়ে থাকে।

📘 গীবত ও তওবা > 📄 গীবত করার পরিণাম

📄 গীবত করার পরিণাম


আল্লাহ তা'আলার কাছে গীবত একটি বড় ধরণের অপরাধ। তাই এর পরিণামও বড় ভয়াবহ। এর পরিণাম উভয় জগতেই হয়ে থাকে। গীবতের কারণে ব্যক্তি যেভাবে দুনিয়ার জীবনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরকালের জীবনেও তার চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মানুষ গীবতের মাধ্যমে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। যেমন :

১. গীবতের ফলে বিদ্বেষ ও বিভেদ সৃষ্টি হয়
গীবতের অন্যতম বড় কুফল হচ্ছে, এর ফলে মুসলমানদের একতা বিনষ্ট হয়ে যায়। প্রত্যেকের অন্তরে অন্যের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস সৃষ্টি হয়। ভালবাসা ও প্রীতি বিলুপ্ত হয়।

২. গীবতের কারণে গীবতকৃত ব্যক্তির প্রতি অনাস্থা জন্মে :
যার গীবত করা হয় তার দোষগুলো মানুষের মাঝে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ফলে তার প্রতি মানুষের অনাস্থা জন্ম নেয়। তাছাড়া অপরের দোষ বর্ণনা করার কারণে গীবতকারীর প্রতিও মানুষের অনাস্থা তৈরি হয়।

৩. গীবতকারী মানুষের নিকট আস্থা হারিয়ে ফেলে :
দুনিয়াতে গীবতের একটা বড় কুফল হচ্ছে গীবতকারী সকলের আস্থা হারিয়ে ফেলে। কেউ তার উপর আস্থা স্থাপন করতে ভরসা পায় না। কেননা সকলেই একথা মনে করে যে, আজ যেমন সে আমাদের সামনে অন্য মানুষের দোষ আলোচনা করছে তেমনি সে যে কাল অন্যের সামনে আমাদের দোষ আলোচনা করবে না তার কি নিশ্চয়তা আছে?
যে ব্যক্তি তোমার সামনে অন্যের নিন্দা করছে তার কাছে এ আশা তুমি করো না যে, অন্যের কাছে সে তোমার সুনাম করবে। কেননা দোষচর্চা করাটাই হচ্ছে তার মজ্জাগত পেশা।
এক জ্ঞানী ব্যক্তির সামনে এক মূর্খ ব্যক্তি মানুষের গীবত ও দোষচর্চা শুরু করল। জ্ঞানী ব্যক্তিটি তখন তাকে উপদেশ দিয়ে বললেন, “দেখ ভাই! মানুষের গীবত করে তুমি তোমার প্রতি আমার আস্থা নষ্ট করে দিও না।”

৪. গীবত করলে শয়তান আনন্দিত হয় :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا
“নিশ্চয় শয়তান তোমাদের শত্রু। অতএব তাকে তোমরা শত্রুই মনে করো।” (সূরা ফাতির- ৬)
পাপ কাজ মাত্রই শয়তানকে আনন্দ দেয়। কিন্তু শয়তান এ কথা নিজেই স্বীকার করেছে যে, গীবতেই তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।
যারা গীবত করে শয়তান তাদের মুখে মধু মিশিয়ে দেয়।

৫. গীবত করলে আল্লাহ ও তার নবীর অবাধ্যতা করা হয় :
আল্লাহ তা'আলা বলেন-
وَمَا أَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا
“রাসূল তোমাদের নিকট যা কিছু নিয়ে আসেন তোমরা তা গ্রহণ কর, আর যা কিছু নিষেধ করেন তা হতে তোমরা বিরত থাক।” (সূরা হাশর- ৭)
সুতরাং যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ অমান্য করে গীবত করা হয়, তবে তা আল্লাহর ও নবীর অবাধ্যতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

৬. পাপের দিকে মন আকৃষ্ট হয় :
কিছু কিছু পাপ আছে যা সংঘটিত হওয়ার কারণে আরো কতগুলো পাপ সংঘটিত হয়ে পাপকে আরো শক্তিশালী করে। গীবত তার মধ্যে একটি।
চারটি জিনিস হচ্ছে পাপের মূল :
(১) গীবত,
(২) মিথ্যা,
(৩) চোগলখোরি,
(৪) কোন নারীর সতীত্বের দিকে তাকানো।

৭. গীবতকারীর শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় :
গীবতকারী ব্যক্তি যতজন লোকের গীবত করে ততজন লোকের ঘৃণার পাত্র ও শত্রুতে পরিণত হয়। তাই তার শত্রুর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

৮. গীবতকারী আল্লাহর অসন্তুষ্টির শিকার হয় :
আল্লাহ তা'আলা বান্দাদেরকে গীবত করতে নিষেধ করা সত্ত্বেও বান্দা যদি তাঁর নিষেধ অমান্য করে গীবতের মত ঘৃণিত অপরাধ করে বেড়ায় তবে আল্লাহ তা'আলা তার উপর খুবই অসন্তুষ্ট হন।

৯. গীবত বড় ধরনের সুদ :
আমরা মনে করি যে, শুধু টাকা-পয়সাতেই সুদ রয়েছে, কিন্তু তা নয়। গীবতের মাধ্যমেও সুদের সমান অপরাধ হয়ে থাকে। নবী ﷺ বলেন-
إِنَّ مِنْ أَرْبَيَ الرِّبَا الْاِسْتِطَالَةُ فِي عِرْضِ الْمُسْلِمِ بِغَيْرِ حَقٍ
সবচেয়ে বড় সুদ হচ্ছে অন্যায়ভাবে কোন মানুষের মান-সম্মানের উপর আঘাত করা। (আবু দাউদ হা: ৪৮৭৮)

১০. গীবতের কারণে আমল নষ্ট হয়ে যায় :
রাসূল ﷺ একবার সাহাবাগণকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি জানো, প্রকৃত দরিদ্র ও নিঃস্ব কে? সাহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা তো মনে করি যার কাছে অর্থ-কড়ি নেই, সে-ই নিঃস্ব ও দরিদ্র। তখন রাসূল ﷺ বললেন, নিঃস্ব ও দরিদ্র ঐ ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন অনেক নেক আমল নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু একদল লোক আল্লাহর দরবারে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করবে। কারো অর্থ সে আত্মসাৎ করেছে, কাউকে গালি দিয়েছে, কারো গীবত ও দোষচর্চা করেছে। কিংবা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়েছে ইত্যাদি। আল্লাহ সকলের মধ্যে তার নেক আমল বণ্টন করা শুরু করবেন। তার নেক আমল শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যদি অভিযোগকারীদের পাওনা শেষ না হয় তখন সকলের গুনাহ ও বদ-আমলের বোঝা তার উপর চাপিয়ে দেবেন। সে সকলের বদ-আমলের বোঝা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে। সে-ই হল সত্যিকারের দরিদ্র ও নিঃস্ব ব্যক্তি। (মুসলিম হা: ৬৭৪৪)
দুনিয়াতে কেউ বিপদে পড়লে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ছুটে আসে সাহায্যের জন্য। কিন্তু কিয়ামতের দিন তার উল্টা হবে, পিতা-মাতা সন্তান থেকে আর সন্তান পিতা-মাতা থেকে পালিয়ে যাবে। স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে দেখে পালিয়ে যাবে। প্রত্যেকেই সেদিন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। শুধু ইয়া নাফসী, ইয়া নাফসী বলবে।

১২. পরকালে গীবতকারীদের করুণ পরিণতি :
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ « لَمَّا عُرِجَ بِي مَرَرْتُ بِقَوْمٍ لَهُمْ أَظْفَارٌ مِنْ نُحَاسٍ يَخْمِشُونَ وُجُوهَهُمْ وَصُدُورَهُمْ فَقُلْتُ مَنْ هَؤُلاَءِ يَا جِبْرِيلُ قَالَ هَؤُلاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيَقَعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ
আনাস বিন মালিক বলেন, রাসূল ﷺ বলেন, যখন আমার প্রতিপালক আমাকে মেরাজে নিয়েছিলেন, তখন আমি এমন এক শ্রেণীর লোকদের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম যাদের নখগুলো ছিল পিতলের নখের মত। যা দ্বারা তারা নিজেদের চেহারা ও বক্ষ খামচাচ্ছিল। আমি তাদের সম্পর্কে জিবরাঈল কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, এরা সেসব ব্যক্তি যারা দুনিয়াতে মানুষের গোশত খেত এবং তাদের ইজ্জত নষ্ট করত। অর্থ্যাৎ তারা গীবত করত। (আবু দাউদ হা: ৪৮৭৮)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00