📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 এক গ্রাম্য লোকের গল্প

📄 এক গ্রাম্য লোকের গল্প


হযরত থানভী রহ. একজন গ্রাম্য লোকের ঘটনা লিখেছেন। সে বসে বসে গ্রাম্য ভাষায় বলছিল, 'হতো যদি এক কলসি দুধ, আর হতো এক কলসি গুড়, সেই দুধে আঙ্গুল দিয়ে গুড় মিশিয়ে মজা করে খেতাম'। কেউ তার কাছে এসে বললো, তা হতে তো কোনো বাধা নেই। কিন্তু তোমার কাছে আছে কি? সে বললো, এই যে আঙ্গুল আছে। অর্থাৎ দুধ ও গুড় কিছুই নেই। কেবল আঙ্গুল আছে। সেই আঙ্গুলের সামর্থ নিয়ে তার এতটা আশা।
হযরত থানভী রহ. বলেন, ঐ নির্বোধ লোকটা যেমন কেবল আঙ্গুলের পুঁজি নিয়ে এত বড় আশা করছে, তেমনি আমরাও ইসলাহ ও আত্মশুদ্ধির আশা নিয়ে বসে আছি, অথচ এর জন্য কোনো রকম প্রস্তুতি নেই। মূলত আশা দিয়ে কিছুই হয় না। ভাই এটাও দেখুন যে, আপনার কোনো মেহনত ও আমল আছে কি না। তা যদি না থাকে, তবে প্রথমে সেই চেষ্টাই করুন। তবেই না এক সময় উদ্দেশ্য পূরণ হবে ও আশায় সফলতা আসবে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 প্রকৃত অক্ষম কোন্ ব্যক্তি?

📄 প্রকৃত অক্ষম কোন্ ব্যক্তি?


কাজেই কেবল আশা করলে চলবে না যে, আমি যদি নেককার হয়ে যেতাম! আমি যদি মুত্তাকী হয়ে যেতাম! আমি যদি গীবত ছাড়তে পারতাম! আমি যদি সত্যবাদী হয়ে যেতাম ইত্যাদি। এজন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
وَالْعَاجِزُ مَنِ اتَّبَعَ نَفْسَهُ هَوَاهَا ثُمَّ تَمَنَّى عَلَى اللَّهِ
অর্থাৎ, নির্বোধ সেই ব্যক্তি, যে স্বীয় নফসের কু-প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, আবার আল্লাহর কাছেও ভালো কিছুর প্রত্যাশা করে। (তিরমিযী-২৪৫৯, ইবনে মাজাহ-৪২৬০, হাদীসটি হাসান, হাদীসের শব্দাবলী ইবনে মাজার)
অর্থাৎ, মনে যখন যা চায় তাই করে। মনের ইচ্ছা মত চলে। মনের বিরুদ্ধে চলার চেষ্টা করে না। খেয়াল-খুশিকে নিয়ন্ত্রণ করার মত কোনো ইচ্ছাবোধ জাগে না। তা সত্ত্বেও রহমত ও মাগফিরাতের আশা করে এবং মনে করে এভাবেই সে জান্নাতে চলে যাবে! এই ব্যক্তিই প্রকৃত অক্ষম। আশা তো থাকতেই হবে, কিন্তু কেবল আশাই যথেষ্ট না। প্রচেষ্টাও করতে হবে। সামনে পা ফেলতে হবে। মেহনত ও সাধনার সাথে আমলে রত থাকতে হবে। সেই সাথে আল্লাহ তায়ালাকে বলবে, হে আল্লাহ! আমার যতটুকু সাধ্য ছিল তা করেছি। এখন একে পূর্ণ করা আপনার কাজ। আপনি নিজ কুদরতে পূর্ণতা দান করুন। আমার চেষ্টাকে সফল করুন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবতের একটি ব্যবহারিক চিকিৎসা

📄 গীবতের একটি ব্যবহারিক চিকিৎসা


হযরত থানভী রহ. গীবত থেকে বাঁচার এক চমৎকার ব্যবহারিক চিকিৎসা দিয়েছেন। ব্যবস্থাটি তিক্ত, কিন্তু খুবই কার্যকর। আল্লাহ তায়ালা কাউকে এ ব্যবস্থা গ্রহণের তাওফিক দিলে অল্পদিনের মধ্যেই সে গীবতের রোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তিনি বলেন- 'কারো গীবত করে ফেললে তার কাছে গিয়ে জানিয়ে দিবে যে, ভাই আমি আপনার গীবত করে ফেলেছি। নিয়মিত কিছুদিন এ ব্যবস্থা মেনে চললে ইনশাআল্লাহ এ রোগ বিলকুল খতম হয়ে যাবে।'
অর্থাৎ, কখনো কারো গীবত করে ফেললে তাকে জানিয়ে দিবে যে, আজ আমি আপনার এই গীবত করে ফেলেছি। যখন তাকে একথা জানাবে তখন মনের উপর করাত চালু হয়ে যাবে। এই করাত চালু হওয়ার দ্বারাই রোগের অপারেশন হয়ে যাবে। কয়েকবার এ কাজ করতে পারলে ইনশাআল্লাহ রোগের শিকড় উপড়ে যাবে। তাছাড়া কেউ যখন অন্যের কাছে গিয়ে বলবে, আমি আপনার এই নিন্দা করেছিলাম, তখন সেই ব্যক্তির অন্তর বিগলিত হবে। সে ভাববে লোকটি খুবই লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়েছে। তা না হলে আমার কাছে এসে দোষ স্বীকার করতো না। সুতরাং তাকে ক্ষমা করে দেয়া উচিত। অন্তর থেকে সে তাকে ক্ষমা করে দিবে। এভাবে গীবত দ্বারা যে বিদ্বেষ ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়, এক্ষেত্রে তা সৃষ্টি হবে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এসব কথার উপর আমল করার তাওফিক দান করুন। আমীন

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 একটু হিম্মত করুন, আল্লাহ পথ দেখাবেন

📄 একটু হিম্মত করুন, আল্লাহ পথ দেখাবেন


আল্লাহ তায়ালা কখনোই আমাদেরকে কষ্টে ফেলতে চান না; বরং তিনি চান, বান্দা আমার দিকে একটু অগ্রসর হোক। যখন সে চলতে শুরু করবে, তখন আমি নিজেই তাকে সঠিক পথ দেখিয়ে দেবো। তিনি বলেছেন-
وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِيْنَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا وَإِنَّ اللَّهَ لَمَعَ الْمُحْسِنِينَ
অর্থাৎ, যারা আমার রাস্তায় চেষ্টা-সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করবো। আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মশীলদের সঙ্গে থাকেন। (সূরা আনকাবুত-৬৯)
ব্যাখ্যা : جهاد ও مجاهدة এর অর্থ হচ্ছে দ্বীনের পথে বাধা বিপত্তি দূর করার জন্যে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করা। এখানে এ নিশ্চয়তা দান করা হয়েছে যে, কেউ যদি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার জন্য আন্তরিকতার সাথে পূর্ণ শক্তি ব্যয় করে, তবে অবশ্যই আল্লাহ তাকে বেঁচে থাকার রাস্তা বের করে দেন। এমনিভাবে কেউ যদি আল্লাহকে পাওয়ার জন্য পূর্ণমাত্রায় চেষ্টা-সাধনা করে, তবে আল্লাহ অবশ্যই তার জন্য রাস্তা খুলে দেন। এমর্মে হাদীসে কুদসীতে স্বয়ং আল্লাহ পাক বলেছেন-
وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ بِشِبْرٍ تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً
অর্থাৎ, আমার বান্দা যদি আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই। সে যদি আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, তবে তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে হেঁটে আসে, তখন আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। (বুখারী-৭৪০৫, ৭৫০৫, ৭৫৩৭, ইফা.-৬৯০১, মুসলিম-১৬৭৫, ২৬৭৫, ২৬৭৬, ৭০০৮, তিরমিযী-২৩৮৮, ৩৬০০, ৬৩০৩, ইবনে মাজাহ-৩৮২২, আহমাদ- ৭৩৭৪, ৭৪২৬, ৮৪৩৬, ৮৮৩৩, ৯০০১, ৯৩৩৪, ৯৩৫১, ৯৪৫৭, ১০১২০, ১০২৪১, ১০৩০৬, মিশকাত- ২২৬৪, হাদীসের শব্দাবলী সকলের)
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00