📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 জ্ঞানের ‘শূকর’ বের হতে সময় লাগে

📄 জ্ঞানের ‘শূকর’ বের হতে সময় লাগে


অনুরূপ জ্ঞানের শূকর আছে। তা হচ্ছে আমি জ্ঞানী, আমি একজন আলেম এই অহমিকা। এটাও অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটাও অনেক দেরিতে দূর হয়। নিজেকে অন্য কারো সামনে ফানা করে না দেয়া পর্যন্ত এটা বের হয় না। কারো মধ্যে এই দুই শূকর একত্র হয়ে গেলে তার তো মহা বিপদ। ইলম বা জ্ঞানও অর্জন করেছে, আবার সাহেবজাদাও আছে। এ দুইয়ের গৌরব যাকে পেয়ে বসে তার চিকিৎসা সহজ নয়। তাকে অবশ্যই কারো হাতে দলন-নিপীড়ন সহ্য করতে হবে এবং নিজেকে তাঁর পায়ে পিষ্ট করতে হবে। মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
قال را بگزار مرد حال شو
پیش مرد کا ملے پامال شو
‘কথা বলা ছাড়, ভাবের মানুষ হও। দলিত হয়ে যাও কোন কামেল ব্যক্তির পায়ে’।
কামেল ব্যক্তির পায়ে দলিত পিষ্ট হওয়ার অর্থ হলো, নিজেকে তাঁর কাছে সমর্পণ করা এবং তিনি যখন যা বলেন তা করতে থাকা। তাতে তাঁর কথা বুঝে আসুক বা নাই আসুক। এমনকি বোধ-বুদ্ধির পরিপন্থীই মনে হোক না কেন। সর্বাবস্থায় তাঁর কথা এমনভাবে মেনে চলবে, যেন তোমাকে পা দ্বারা পিষ্ট করা হচ্ছে। এরকম না হওয়া পর্যন্ত মন-মস্তিস্ক থেকে এ শূকর কখনো বের হওয়ার নয়। তাকাব্বুর ও অহঙ্কার দূর হওয়ার নয়।
তাকাব্বুর যতদিন মন-মস্তিস্কে সাওয়ার থাকবে, ততদিন এর পাশাপাশি হিংসা, বিদ্বেষ, গীবত, পরশ্রীকাতরতা, ক্রোধ সবই থাকবে। আর যখন এ ব্যাধি দূর হবে এবং বিনয় জন্ম নেবে, তখন এসব রোগও চলে যাবে।
গীবত হয়ে গেলে তার ক্ষতিপূরণ
তাওয়াযু ও বিনয় রাতারাতি জন্ম নেয় না। এর জন্য মেহনত ও অনুশীলনের প্রয়োজন। কামেল শায়েখের সাহচর্য অবলম্বনের জরুরী। তারপরই এ গুণ অর্জিত হয়। এ কারনেই হযরত থানভী রহ. বলেন, যতদিন পর্যন্ত তাওয়াযু অর্জিত না হবে, ততদিন প্রতিটি কথা চিন্তা-ভাবনা করে বলবে। যা মুখে আসবে তাই বলে ফেলবে না। তারপরও যদি কখনো গীবত হয়ে যায়, তবে নিজের উপর জরিমানা আরোপ করবে। পূর্বে একটা জরিমানার কথা বলা হয়েছে। তা ছিল একবেলা না খেয়ে থাকা। এ স্থলে আরেক জরিমানার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন যে, তাওবার নিয়তে দুই রাকআত নামায পড়ে নিবে। ইনশাআল্লাহ এভাবে ক্রমান্বয়ে রোগের অবসান ঘটবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00