📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 আমাদের বুযুর্গানে দ্বীনের বিনয়

📄 আমাদের বুযুর্গানে দ্বীনের বিনয়


একবার হযরত ডাক্তার হাফিজাহুল্লাহ সাহেব রহ. দারুল-উলুমে তাশরীফ আনেন। তার মুখে শুনেছি যে, হযরত মাওলানা খায়র মুহাম্মাদ সাহেব (জামিআ খায়রুল মাদারিস মুলতান এর প্রতিষ্ঠাতা) বলতেন, আমি যখন হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে যেতাম, কোনো রকম অতিরঞ্জন ছাড়াই বলছি, তখন আমার মনে হত এই মজলিসে যত লোক আছে, তার মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধম ও নিকৃষ্ট ব্যক্তি আমিই। সকলে আমার চেয়ে উত্তম; বরং মনে হত এরাই তো মানুষ, আর আমি একটা গরু।
পরে আমার চিন্তা হলো, আমার মনের এ অবস্থাটা সঠিক কিনা তা কি করে বুঝব। সুতরাং আমি 'জামিআ আশরাফিয়া লাহোর'-এর প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুফতি মুহাম্মাদ হাসান সাহেব রহ.-এর খেদমমাতে উপস্থিত হলাম। গিয়ে আরয করলাম যে, আমার মনের অবস্থা হলো, যখন হযরত থানভী রহ.-এর মজলিসে উপস্থিত হই তখন মনে হয় এ মজলিসে সর্বাপেক্ষা হীন ও নিকৃষ্ট আমিই। আমার চেয়ে নিম্নস্তরের কোনো লোক এখানে নেই। একথা শুনে হযরত মুফতি সাহেব বলে উঠলেন, ভাই, এ অবস্থা তো আমারও। আমি যখন হযরতের মজলিসে উপস্থিত থাকি তখন অনুভব হয় যে, উপস্থিত লোকদের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ও দুরাবস্থা সম্পন্ন। তাঁর কথা শুনে হযরত মাওলানা খায়ের মুহাম্মাদ সাহেব রহ. বলেন, তাহলে তো দেখছি আপনার অবস্থাও আমারই মত। চলুন আমরা আমাদের এ অবস্থার কথা হযরতকে জানাই।
সুতরাং তারা উভয়ে হযরত থানভী রহ.-এর খেদমতে হাজির হলেন এবং আরয করলেন, আমরা যখন আপনার মজলিসে বসি, তখন অনুভব হয় যে, এই মজলিসে যত লোক উপস্থিত আছে তারা সকলেই আমার চেয়ে উত্তম এবং আমরা সকলের অধম। সকলের চেয়ে হীন ও দুরবস্থাসম্পন্ন। হযরত থানভী রহ. বললেন, কোনো চিন্তা করো না। আরে ভাই, আমার নিজের অবস্থাও তো এরকমই। যখন মজলিসে বসি, মনে হয় এরা সকলেই আমার চেয়ে উত্তম, আমি সকলের চেয়ে নিচু।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবতের মূলোৎপাটনকারী বস্তু বিনয়

📄 গীবতের মূলোৎপাটনকারী বস্তু বিনয়


তাওয়াযু বা বিনয় অর্থ এই নয় যে, কেউ মুখে বললো যে, আমি একজন অকর্মন্য, আমি একজন অধম ইত্যাদি। বরং নিজ দোষ-ত্রুটির দিকে এমন সতর্ক দৃষ্টি রাখা যে, নিজের দোষ-ত্রুটির বিপরীতে অন্যের দোষ-ত্রুটি চোখেই পড়বে না। এটাই প্রকৃত তাওয়াযু, এটাই বিনয়। যেদিন অন্তরে এ গুণ জন্ম নিবে, সেদিন থেকে ইনশাআল্লাহ গীবত ধারে কাছেও আসবে না। কেননা, যে ব্যক্তি নিজেকে অন্যের চেয়ে ক্ষুদ্র ভাবে এবং নিজের দোষ-ত্রুটির কথা স্মরণ রাখে, সে অন্যের দোষ-ত্রুটি দেখবে কখন? কাজেই গীবতের মূলোৎপাটন করতে চাইলে নিজের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করুন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নিজ দোষ-ত্রুটির হিসাব রাখুন

📄 নিজ দোষ-ত্রুটির হিসাব রাখুন


নিজের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করার উপায় হলো, নিজ দোষ-ত্রুটির চিন্তা করা ও সর্বদা তা স্মরণ রাখা। আমরা প্রত্যেকে নিজেকে বড় মনে করি। ভাবি আমার মত কেউ নেই। আমি বড় জ্ঞানী। অনেক বড় মুত্তাকী, পরহেযগার। আমার অনেক টাকা-পয়সা আছে। আমি সবল-স্বাস্থ্যবান। আমার চেহারা-সুরাত অনেক ভালো। এভাবে একেকজন একেকটা জিনিস নিয়ে গর্বিত। এই গর্ব ও অহঙ্কার মানুষকে ধ্বংস করছে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 মানুষের প্রকৃত অবস্থা কী?

📄 মানুষের প্রকৃত অবস্থা কী?


একবার এক যুবক জনৈক বুযুর্গকে লক্ষ্য করে বললো, আপনি জানেন আমি কে? বুযুর্গ বললেন, কেন জানব না? অবশ্যই জানি তুমি কে? যদি চাও তাহলে বলে দেই। অতঃপর বললেন-
اُولَئِكَ نُطْفَةٌ قَذِرَةٌ وَاخِرُكَ جِيْفَةً قَذِرَةٌ وَأَنْتَ فِيمَا بَيْنَ ذَلِكَ تَحْمِلُ الْعُذْرَةَ
'অর্থাৎ, তোমার শুরুটা হলো নাপাক পানি, শেষটা হলো পঁচা লাশ আর এ দু'য়ের মাঝখানে তুমি মলমূত্র বয়ে বেড়াচ্ছ'।
আল্লাহ তায়ালা মেহেরবান। তিনি মানবদেহের উপরে চামড়া বিছিয়ে তার সব দোষ ঢেকে দিয়েছেন। এ চামড়া সরিয়ে দিলে ভেতরে দেখা যাবে শুধু নাপাকী। তার রক্ত নাপাক, পেশাব নাপাক, পায়খানা নাপাক, পুঁজ নাপাক। এতসব অপবিত্রতা মানুষের ভেতর। সে সর্বক্ষণ এগুলো বয়ে বেড়াচ্ছে। এই হলো মানুষের স্বরূপ। তা সত্ত্বেও সে নিজেকে বড় মনে করে। এই বড়ত্ববোধই মানুষকে পরনিন্দায় প্ররোচিত করছে। কাজেই গীবত ও পরনিন্দার মূলোৎপাটন করতে চাইলে নিজের মধ্যে বিনয় সৃষ্টি করতে হবে। বিনয় সৃষ্টি হয়ে গেলে ইনশাআল্লাহ কখনো মুখে কারো গীবত আসবে না। হ্যাঁ, দ্বীনি কোনো প্রয়োজন দেখা দিলে ভিন্ন কথা।
সেক্ষেত্রে গীবত জায়েয। উদাহরণত কাউকে কারো ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে চাইলে বলে দিন, অমুক ব্যক্তির ব্যাপারে সাবধান থেক। তার লেনদেন স্বচ্ছ নয়। এটা নিষিদ্ধ গীবত হবে না। এতে গুনাহ নেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00