📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 আমাদের উদাসীনতার অবস্থা

📄 আমাদের উদাসীনতার অবস্থা


অন্যদিকে আমাদের অবস্থাও দেখুন, জামাত ছুটে যায়। অধিকাংশ নামাযীরই রাকআত ছুটে যায় এবং সালামের পর অবশিষ্ট নামায একাকি পূর্ণ করে নেয়। কিন্তু এ জন্য কি আমাদের কোনো দুঃখ বোধ হয়? এর কারণ এটা ছাড়া আর কি যে, আমরা অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের এই অনুভূতিহীনতাকে দূর করে দিন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী রহ.-এর ঘটনা

📄 মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী রহ.-এর ঘটনা


হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার সন্দেহযুক্ত একটি লোকমা খেয়ে ফেলা হয়েছিল। লোকমাটি হালাল নাকি হারাম সে ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। সেই লোকমাটির যুলুমাত আমি একমাস পর্যন্ত অনুভব করতে থাকি। এই ছিল তাদের বোধশক্তির সক্ষমতা। আমাদের বোধশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে। তাই গুনাহের কদর্যতা আমরা অনুভব করতে পারিনা। মনে করি যেন একটা মাছি নাকের ডগায় বসেছে আর আঙ্গুল দিয়ে তা উড়িয়ে দিলাম।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত দ্বারা কী অর্জিত হয়?

📄 গীবত দ্বারা কী অর্জিত হয়?


যা হোক গীবত থেকে বাঁচার জন্য চিন্তা করুন যে, গীবতের মধ্যে যে সময়টা ব্যয় করা হয় এবং এতে যে সুখ লাভ হয়, তার পরিণাম কি? এর দ্বারা আমাদের কি অর্জন হয়? বলাবাহুল্য অর্জন ও লাভ বলতে কিছুই নেই। উল্টো তার পরিণামে কঠিন গুনাহ কামাই হয় এবং আখেরাত বরবাদ হয়। দুনিয়ায়ও লোকসান ছাড়া কোনো লাভ নেই। কেননা, যার গীবত করা হয়েছে সে যদি জানতে পারে আপনি তার সম্পর্কে কি কি বলেছেন, তাতে সে মনে কষ্ট পাবে। আপনার প্রতি তার অন্তরে ঘৃণা জন্মাবে ও শত্রুতা পয়দা হবে। সেই শত্রুতার জের কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা আল্লাহ তায়ালা’ই ভালো জানেন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবতের পরিণামে আরো অনেক গুনাহ হয়

📄 গীবতের পরিণামে আরো অনেক গুনাহ হয়


বান্দার হক সংক্রান্ত গুনাহের ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, মানুষ যখন এ জাতীয় গুনাহ একটা করে ফেলে, তখন তা ঢাকতে আরো দশটি গুনাহে জড়াতে হয়। গীবতের কথাটাই ধরুন, যার গীবত করা হয়, সে যখন জানতে পারে আর এসে জিজ্ঞেস করে তুমি আমার সম্পর্কে এই-এই কথা বলেছ? তখন সে স্বীকার করবে কি করবে না? করলে সে অপরাধী হিসেবে ধরা পড়ে যাবে। আর যদি স্বীকার না করে তাহলে সরাসরি মিথ্যা বলবে। ঘোরপ্যাঁচের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ হবে না। যদি কথা ঘোরানোর চেষ্টা করে, আর এধার-ওধারের কথা বলে বাঁচার চেষ্টা করে, তবে সে ঠিকই ধরে ফেলবে যে, নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। আর যদি অস্বীকার করে বলে, না আমি একথা বলিনি, তবে গীবতের সাথে মিথ্যা বলার গুনাহও যোগ হলো। সেই সঙ্গে যদি সেই ব্যক্তি বুঝে ফেলে যে মিথ্যা বলা হয়েছে, তবে তার অন্তরে আরো বেশি ঘৃণা সৃষ্টি হবে এবং শত্রুতা আরো বাড়বে। সুতরাং অহেতুক এমন কাজ কেন করবো, যার পরিণামে পরস্পর বিদ্বেষ ও শত্রুতা তৈরি হয়? ফায়দা তো কিছুই হয় না। উল্টো বিভিন্ন গুনাহ হয়, অন্তরে যুলুমাত দেখা দেয় এবং পরস্পরে শত্রুতা জন্ম নেয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00