📄 হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর ঘটনা
হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. সম্পর্কে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর কোনো এক রচনায় পড়েছিলাম, একবার তিনি দুঃখ- ভারাক্রান্ত মনে বসে আছেন। মনে হচ্ছে তাঁর উপর বিষাদের পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। কোনো এক শিষ্য কাছে গিয়ে বললো, হযরত! আপনার চেহারায় কষ্টের ছাপ চোখে পড়ছে। কোনো সমস্যা নেই তো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিছুটা দুঃখ আছে। শিষ্য জিজ্ঞেস করলো, কিসের দুঃখ? তখন দারুল উলুম দেওবন্দে দস্তারবন্দি জলসা চলছিল। বললেন, আজ জলসায় কিছুটা ব্যস্ততা ছিল, যদ্দরুণ মসজিদে নামায পড়তে গিয়ে দেখি, নামায শুরু হয়ে গেছে। তাকবীরে উলা ধরতে পারিনি। অতঃপর বললেন, পঁয়ত্রিশ বছরে আজ এই প্রথম তাকবীরে উলা ছুটে গেল। ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখুন! শুধুমাত্র তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার অর্থ তিনি কিরাত শুনেছেন, রুকু পেয়েছেন এবং প্রথম রাকআতও পেয়েছেন। এমনকি বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাকবীরে উলাও পেয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অপর মত অনুসারে তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার কারণে তার এতটা দুঃখ ও এ পরিমাণ বেদনা।
📄 আমাদের উদাসীনতার অবস্থা
অন্যদিকে আমাদের অবস্থাও দেখুন, জামাত ছুটে যায়। অধিকাংশ নামাযীরই রাকআত ছুটে যায় এবং সালামের পর অবশিষ্ট নামায একাকি পূর্ণ করে নেয়। কিন্তু এ জন্য কি আমাদের কোনো দুঃখ বোধ হয়? এর কারণ এটা ছাড়া আর কি যে, আমরা অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের এই অনুভূতিহীনতাকে দূর করে দিন।
📄 মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী রহ.-এর ঘটনা
হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব নানুতুবী রহ. বলেন, একবার সন্দেহযুক্ত একটি লোকমা খেয়ে ফেলা হয়েছিল। লোকমাটি হালাল নাকি হারাম সে ব্যাপারে সন্দেহ ছিল। সেই লোকমাটির যুলুমাত আমি একমাস পর্যন্ত অনুভব করতে থাকি। এই ছিল তাদের বোধশক্তির সক্ষমতা। আমাদের বোধশক্তি নষ্ট হয়ে গেছে। অনুভূতি ভোতা হয়ে গেছে। তাই গুনাহের কদর্যতা আমরা অনুভব করতে পারিনা। মনে করি যেন একটা মাছি নাকের ডগায় বসেছে আর আঙ্গুল দিয়ে তা উড়িয়ে দিলাম।
📄 গীবত দ্বারা কী অর্জিত হয়?
যা হোক গীবত থেকে বাঁচার জন্য চিন্তা করুন যে, গীবতের মধ্যে যে সময়টা ব্যয় করা হয় এবং এতে যে সুখ লাভ হয়, তার পরিণাম কি? এর দ্বারা আমাদের কি অর্জন হয়? বলাবাহুল্য অর্জন ও লাভ বলতে কিছুই নেই। উল্টো তার পরিণামে কঠিন গুনাহ কামাই হয় এবং আখেরাত বরবাদ হয়। দুনিয়ায়ও লোকসান ছাড়া কোনো লাভ নেই। কেননা, যার গীবত করা হয়েছে সে যদি জানতে পারে আপনি তার সম্পর্কে কি কি বলেছেন, তাতে সে মনে কষ্ট পাবে। আপনার প্রতি তার অন্তরে ঘৃণা জন্মাবে ও শত্রুতা পয়দা হবে। সেই শত্রুতার জের কোথায় গিয়ে পৌঁছায় তা আল্লাহ তায়ালা’ই ভালো জানেন।