📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 যাচাই-বাছাই ছাড়া কথা বলা অপবাদ

📄 যাচাই-বাছাই ছাড়া কথা বলা অপবাদ


যে কথা যাচাই-বাছাই ছাড়া বলা হবে তা সম্পূর্ণ অপবাদ। কেননা, মিথ্যা হওয়াটা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার উপর নির্ভর করে না; বরং সত্য প্রমাণিত না হওয়ার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, কোনো কথা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার কারণে সেটা মিথ্যা সাব্যস্ত হবে ব্যাপারটা এমন নয়; বরং কোনো বিষয় যদি সত্য প্রমাণিত না হয় এবং তা সত্ত্বেও তা বর্ণনা করা হয়, তবে বর্ণনাকারীর পক্ষে তা মিথ্যাই। যেহেতু সে তা নিশ্চিতভাবে জেনে শুনে বলেনি। হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ
'কোনো ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা-কিছু শোনে তাই বর্ণনা করে'।¹

টিকাঃ
¹ মুসলিম শরীফ: হাদীস নং-৬

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবতের দ্বারা প্রত্যক্ষ কষ্ট হয়

📄 গীবতের দ্বারা প্রত্যক্ষ কষ্ট হয়


হযরত থানভী রহ. বলেন, মানুষ গীবতে কি মজা পায়? ক্ষণিকের জন্য নিজের মনকে খুশি করে নেয় ঠিকই, কিন্তু যার গীবত করা হয় সে যখন জানতে পারে এবং এর ফলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন তো সারাটা জীবনই তার ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর অন্তরে যদি কিছুটাও বোধশক্তি থাকে, তবে গীবতের ফলে অন্তরে তৎক্ষণাৎ যে অন্ধকার সৃষ্টি হয়, তার কষ্ট তো ভাষায় প্রকাশ করার নয়। কেউ গলা টিপে ধরলে যেমনটা হয়।
আমাদের স্বভাব নষ্ট ও বোধ-অনুভব খতম হয়ে গেছে। তাই নিরন্তর গুনাহ করছি। কিন্তু গুনাহের অন্ধকার অনুভব করছি না। আল্লাহ তায়ালা যাদের অন্তর স্বচ্ছ ও আলোকিত করে দেন, মামুলী গুনাহেও তারা অন্তরে ঘোর অন্ধকার অনুভব করেন। তাদের কাছে ছোট্ট ছোট্ট গুনাহও এত বেশি ভারী মনে হয়- যেমন মাথার উপর পাহাড় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
بر دل سالک ہزاراں غم بود
گر ز باغ دل خلائے کم بود
মন বাগিচায় যদি একটা কণাও কম বোধ হয়, তবে মালিক (আল্লাহর পথের অভিযাত্রী)-এর অন্তরে হাজারও দুঃখ-কষ্ট ভেঙ্গে পড়ে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর ঘটনা

📄 হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ.-এর ঘটনা


হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. সম্পর্কে হযরত শায়খুল হাদীস যাকারিয়া রহ.-এর কোনো এক রচনায় পড়েছিলাম, একবার তিনি দুঃখ- ভারাক্রান্ত মনে বসে আছেন। মনে হচ্ছে তাঁর উপর বিষাদের পাহাড় ভেঙ্গে পড়েছে। কোনো এক শিষ্য কাছে গিয়ে বললো, হযরত! আপনার চেহারায় কষ্টের ছাপ চোখে পড়ছে। কোনো সমস্যা নেই তো? তিনি বললেন, হ্যাঁ, কিছুটা দুঃখ আছে। শিষ্য জিজ্ঞেস করলো, কিসের দুঃখ? তখন দারুল উলুম দেওবন্দে দস্তারবন্দি জলসা চলছিল। বললেন, আজ জলসায় কিছুটা ব্যস্ততা ছিল, যদ্দরুণ মসজিদে নামায পড়তে গিয়ে দেখি, নামায শুরু হয়ে গেছে। তাকবীরে উলা ধরতে পারিনি। অতঃপর বললেন, পঁয়ত্রিশ বছরে আজ এই প্রথম তাকবীরে উলা ছুটে গেল। ব্যাপারটা চিন্তা করে দেখুন! শুধুমাত্র তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার অর্থ তিনি কিরাত শুনেছেন, রুকু পেয়েছেন এবং প্রথম রাকআতও পেয়েছেন। এমনকি বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তাকবীরে উলাও পেয়েছেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও অপর মত অনুসারে তাকবীরে উলা ছুটে যাওয়ার কারণে তার এতটা দুঃখ ও এ পরিমাণ বেদনা।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 আমাদের উদাসীনতার অবস্থা

📄 আমাদের উদাসীনতার অবস্থা


অন্যদিকে আমাদের অবস্থাও দেখুন, জামাত ছুটে যায়। অধিকাংশ নামাযীরই রাকআত ছুটে যায় এবং সালামের পর অবশিষ্ট নামায একাকি পূর্ণ করে নেয়। কিন্তু এ জন্য কি আমাদের কোনো দুঃখ বোধ হয়? এর কারণ এটা ছাড়া আর কি যে, আমরা অনুভূতিহীন হয়ে গেছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতি রহম করুন। আমাদের এই অনুভূতিহীনতাকে দূর করে দিন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00