📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ইমাম আবূ দাউদ রহ.-এর ঘটনা

📄 ইমাম আবূ দাউদ রহ.-এর ঘটনা


ইমাম আবু দাউদ রহ. হাদীস শাস্ত্রের কত বড় পন্ডিত ও সমাদৃত ব্যক্তিত্ব ছিলেন। কিন্তু তাঁর পুত্র ছিল একজন যঈফ রাবী। একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, নিজ পুত্র সম্পর্কে আপনার অভিমত কি? তিনি উত্তরে বললেন,
لَا تَحِلُّ الرِّوَايَةَ عَنْهُ
'তার সূত্রে হাদীস বর্ণনা করা বৈধ নয়'।
দেখতেই পাচ্ছেন, মুহাদ্দিসগণ রাবীর দোষ-ত্রুটি বর্ণনায় সে পিতা না পুত্র নাকি নিকটতম কোনো আত্মীয় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করতেন না। কেননা, এটা ছিল দ্বীনি প্রয়োজন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের বর্ণনার বিষয়। এ ক্ষেত্রে রাবীর কোনো ত্রুটি থাকলে তা প্রকাশ করতেই হবে। সে যেই হোক না কেন। আল্লাহ তায়ালা মুহাদ্দিসগণকে সৃষ্টিই করেছিলেন এই উদ্দেশ্যে যে, তাদের মাধ্যমে হাদীসের হেফাজত হবে। তাদের দ্বারা এ সংক্রান্ত কাজ নেয়া হবে। তো হযরত থানভী রহ. বলেন, যেখানে দ্বীনের প্রয়োজন দেখা দেয়, সেখানে গীবত করা কেবল জায়েযই নয়; বরং কখনো কখনো তা জরুরী হয়ে যায়।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় গীবত হারাম

📄 কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় গীবত হারাম


যদি দ্বীনি প্রয়োজন না থাকে, বরং কেবল কুপ্রবৃত্তির তাড়নায় গীবত করা হয়, তবে সে ক্ষেত্রে বাস্তব দোষ বর্ণনাও হারাম। কাজেই খতিয়ে দেখতে হবে, আমি যে কথা বলছি তা কি কোনো দ্বীনি প্রয়োজনের ভিত্তিতে বলছি, নাকি নিজ খেয়াল-খুশির বসে, কেবল মজা পাওয়ার জন্য বলছি? বিচার করলে বোঝা যাবে আসলে বলছি মজা পাওয়ার জন্য। কিন্তু তাকে জায়েয বানানোর জন্য মন কোনো দ্বীনি প্রয়োজনের ছল গ্রহণ করছে আর যুক্তি দাঁড় করাচ্ছে যে, এটা তো ঐ দ্বীনি ফায়দার জন্য বলা হচ্ছে। যতই যুক্তি দেখাক, মনের ভেতরে ডুব মারলে দেখতে পাবে আসলে দ্বীনি প্রয়োজন একটা বাহানা মাত্র। যা বলা হচ্ছে কেবল কুপ্রবৃত্তির তাড়নাতেই বলা হচ্ছে। মজা পাওয়া ছাড়া এর আর কোনো উদ্দেশ্য নেই। সুতরাং এটা নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ গীবত। তাতে যে কথা বলা হচ্ছে তা যত সঠিকই হোক এবং অনুসন্ধানে তার সত্যতা যত নিশ্চিতভাবেই প্রমাণিত হোক, সর্বাবস্থায়ই তা হারাম ও নাজায়েয।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 যাচাই-বাছাই ছাড়া কথা বলা অপবাদ

📄 যাচাই-বাছাই ছাড়া কথা বলা অপবাদ


যে কথা যাচাই-বাছাই ছাড়া বলা হবে তা সম্পূর্ণ অপবাদ। কেননা, মিথ্যা হওয়াটা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার উপর নির্ভর করে না; বরং সত্য প্রমাণিত না হওয়ার উপর নির্ভর করে। অর্থাৎ, কোনো কথা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার কারণে সেটা মিথ্যা সাব্যস্ত হবে ব্যাপারটা এমন নয়; বরং কোনো বিষয় যদি সত্য প্রমাণিত না হয় এবং তা সত্ত্বেও তা বর্ণনা করা হয়, তবে বর্ণনাকারীর পক্ষে তা মিথ্যাই। যেহেতু সে তা নিশ্চিতভাবে জেনে শুনে বলেনি। হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
كَفَى بِالْمَرْءِ كَذِبًا أَنْ يُحَدِّثَ بِكُلِّ مَا سَمِعَ
'কোনো ব্যক্তির মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা-কিছু শোনে তাই বর্ণনা করে'।¹

টিকাঃ
¹ মুসলিম শরীফ: হাদীস নং-৬

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবতের দ্বারা প্রত্যক্ষ কষ্ট হয়

📄 গীবতের দ্বারা প্রত্যক্ষ কষ্ট হয়


হযরত থানভী রহ. বলেন, মানুষ গীবতে কি মজা পায়? ক্ষণিকের জন্য নিজের মনকে খুশি করে নেয় ঠিকই, কিন্তু যার গীবত করা হয় সে যখন জানতে পারে এবং এর ফলে শত্রুতা সৃষ্টি হয়ে যায়, তখন তো সারাটা জীবনই তার ভোগান্তি পোহাতে হয়। আর অন্তরে যদি কিছুটাও বোধশক্তি থাকে, তবে গীবতের ফলে অন্তরে তৎক্ষণাৎ যে অন্ধকার সৃষ্টি হয়, তার কষ্ট তো ভাষায় প্রকাশ করার নয়। কেউ গলা টিপে ধরলে যেমনটা হয়।
আমাদের স্বভাব নষ্ট ও বোধ-অনুভব খতম হয়ে গেছে। তাই নিরন্তর গুনাহ করছি। কিন্তু গুনাহের অন্ধকার অনুভব করছি না। আল্লাহ তায়ালা যাদের অন্তর স্বচ্ছ ও আলোকিত করে দেন, মামুলী গুনাহেও তারা অন্তরে ঘোর অন্ধকার অনুভব করেন। তাদের কাছে ছোট্ট ছোট্ট গুনাহও এত বেশি ভারী মনে হয়- যেমন মাথার উপর পাহাড় চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। মাওলানা রূমী রহ. বলেন,
بر دل سالک ہزاراں غم بود
گر ز باغ دل خلائے کم بود
মন বাগিচায় যদি একটা কণাও কম বোধ হয়, তবে মালিক (আল্লাহর পথের অভিযাত্রী)-এর অন্তরে হাজারও দুঃখ-কষ্ট ভেঙ্গে পড়ে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00