📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 বাহ্যিক অবস্থার উপর ফায়সালা করিও না

📄 বাহ্যিক অবস্থার উপর ফায়সালা করিও না


এ কারনেই বুযুর্গানে দ্বীন বলেন, কোনো ব্যক্তির বাহ্যিক অবস্থা দেখে সে জান্নাতী না জাহান্নামী এই ফায়সালা দিয়ে বসো না। কে জানে কার কোন্ আমল আল্লাহ তায়ালার কছে পছন্দ হয়ে যায় বা কার মৃত্যু কোন্ আমলের উপর হয়, আর সে কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেন। ফলে সে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে যায়।
হযরত থানভী রহ. বলেন, আমি নগদে প্রত্যেক মুসলিমকে এবং সম্ভাব্য পর্যায়ে প্রত্যেক কাফেরকে নিজের চেয়ে উত্তম মনে করি। সম্ভাব্য পর্যায় দ্বারা বোঝাচ্ছেন, হতে পারে আল্লাহ তায়ালা তাকে ঈমানের তাওফিক দেবেন এবং তারপর সে আমাকে ছাড়িয়ে যাবে। কাজেই বাহ্যিক অবস্থার দিক থেকে যে যেমনই হোক না কেন, তাকে কখনো ঘৃণার চোখে দেখ না। হ্যাঁ, মন্দ কাজ করলে সেই কাজকে ঘৃণা করো এবং বলো, মদ্যপান একটা নিকৃষ্ট কাজ। চুরি করা একটা খারাপ কাজ ইত্যাদি। কিন্তু ব্যক্তিকে ঘৃণা কিছুতেই নয়। কেননা, এমন তো হতেই পারে যে, আল্লাহ তাকে তাওবার তাওফিক দিবেন, ফলে সে ঈমান ও আমলের পথে বহুদূর এগিয়ে যাবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সঠিকভাবে দ্বীনের উপর চলার তাওফিক দান করুন।
গীবত বৈধ অবস্থায়
হযরত থানভী রহ. বলেন, দ্বীনি প্রয়োজন দেখা দিলে গীবতও বৈধ হয়ে যায়। যেমন মুহাদ্দিসগণ হাদীস বর্ণনাকারীদের (স্তর বিন্যাস করত: কোনো কোনো বর্ণনকারীর) সমালোচনা করেছেন। যদি দ্বীনি কোনো প্রয়োজন না থাকে, বরং কেবল ইন্দ্রিয় বশত নিন্দা করা হয়ে থাকে, তবে সত্যিকারের দোষ বর্ণনাও নিষিদ্ধ গীবত সাব্যস্ত হবে। আর যাচাই ছাড়া কোনো কথা বলা হলে তা অপবাদ গণ্য হবে। মিথ্যার ভিত্তি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার উপর নয়; বরং সত্য প্রমাণিত না হওয়ার উপর।

টিকাঃ
¹ মুখতাসারু তারীখি দিমাশক, ২য় খন্ড ৪২২ পৃষ্ঠা

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00