📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নিরানব্বইটি হত্যার পর সঠিক পথ

📄 নিরানব্বইটি হত্যার পর সঠিক পথ


সহীহ বুখারীতে হযরত আবূ সাঈদ খুদরী রাযি. থেকে বর্ণিত আছে। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
كَانَ فِي بَنِي إِسْرَائِيلَ رَجُلٌ قَتَلَ تِسْعَةً وَتِسْعِينَ إِنْسَانًا، ثُمَّ خَرَجَ يَسْأَلُ، فَأَتَى رَاهِبًا فَسَأَلَهُ فَقَالَ لَهُ: هَلْ مِنْ تَوْبَةٍ ؟ قَالَ : لا ، فَقَتَلَهُ، فَجَعَلَ يَسْأَلُ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ : ائْتِ قَرْيَةَ كَذَا وَكَذَا، فَأَدْرَكَهُ الْمَوْتُ، فَنَاءَ بِصَدْرِهِ نَحْوَهَا، فَاخْتَصَمَتْ فِيْهِ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ وَمَلَائِكَةُ الْعَذَابِ، فَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هُذِهِ أَنْ تَقَرَّبِي، وَأَوْحَى اللَّهُ إِلَى هُذِهِ أَنْ تَبَاعَدِي، وَقَالَ: قِيْسُوا مَا بَيْنَهُمَا، فَوُجِدَ إِلَى هُذِهِ أَقْرَبَ بِشِبْرٍ. فَغُفِرَ لَهُ
অর্থাৎ, বনী ইসরাঈলের মধ্যে এমন একজন ব্যক্তি ছিলো, যে নিরানব্বই জন মানুষ হত্যা করেছিলো। তারপর (তাওবার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে) বের হয়ে একজন পাদরীকে জিজ্ঞাসা করলো- আমার তাওবাহ কবুল হবে কি? পাদরী বললো, না। তখন সে তাকেও (পাদরীকে) হত্যা করলো। এরপর সে (অনবরত) লোকদেরকে জিজ্ঞেস করতে রইলো। এক ব্যক্তি তাকে বললো, তুমি অমুক গ্রামে গিয়ে অমুক ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করো। সে রওয়ানা হলো এবং পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়ে গেলো এবং মৃত্যুর সময় সে তার সিনাকে সেই গ্রামের দিকে বাড়িয়ে দিলো। এরপর রহমত ও আযাবের ফেরেশতাগন এসে তার রূহকে নিয়ে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হলেন। এমন সময় আল্লাহ পাক ঐ গ্রামকে (যে গ্রামে সে তওবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিলো) আদেশ করলেন, তুমি মৃত ব্যক্তির নিকটবর্তী হয়ে যাও। আর নিজ গ্রামকে আদেশ দিলেন, তুমি দুরে সরে যাও। তারপর ফেরেশতাদেরকে বললেন,- তোমরা এখান থেকে উভয় দিকের পথের দূরত্ব পরিমাপ করো। পরিমাপ করা হলে, মৃত ব্যক্তি সম্মুখের দিকে (তাওবার রাস্তার দিকে) এক বিঘত নিকটে পাওয়া গেলো। ফলে তাকে ক্ষমা করে দেয়া হলো। (বুখারী-৩৪৭০, ইফা.-৩২২১, মুসলিম-২৭৬৬, ইবনে মাজাহ-২৬২২, আহমাদ-১০৭৭০, ১১২৯০, জামি-২০৭৬, তারগীব-৩১৫১, বায়হাকী-১৫৮৩৬, ইবনে হিব্বান-৬১৫, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 হতাশ হওয়ার কোনই কারণ নেই

📄 হতাশ হওয়ার কোনই কারণ নেই


সুতরাং হতাশার কোনো কারণ নেই। বান্দার হক নষ্ট হওয়ার পর হকদার ব্যক্তির ইন্তিকাল হয়ে গেলে একথা ভাবা ঠিক নয় যে, এখন আর ক্ষমা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টা আদৌ সে রকম নয়। প্রথমে সচেতন থাকুন যাতে কোনো বান্দার হক নষ্ট না হয়। বরং তা যথাযথভাবে আদায়ের চেষ্টা করুন। তারপরও যদি কারো কোনো হক নষ্ট হয়ে যায়, তবে দ্রুত তা মাফ করিয়ে নিন। যদি মাফ করানোর কোনো সুযোগ না থাকে, তাতেও নিরাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। এ অবস্থায়ও ক্ষমাপ্রাপ্তির সুযোগ আছে। সেই ব্যক্তির জন্য ইসতিগফার করতে থাকুন এবং দুআ করতে থাকুন- হে আল্লাহ! আমার দ্বারা যার কোনো হক নষ্ট হয়েছে, আপনি স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে আমার প্রতি রাজি-খুশি করে দিন। হে আল্লাহ! তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। দুআ করতে থাকুন, যতদিন না মন সাক্ষ্য দেয় যে, এখন তারা খুশি হয়ে গেছে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন-
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
অর্থাৎ, বলুন, 'হে আমার বান্দাগণ, যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। অবশ্যই আল্লাহ সকল পাপ ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু'। (সূরা যুমার-৫৩)
ফায়দা: গুনাহ যতো বড় ও বেশি হোক না কেন নিরাশ হওয়ার কিছুই নেই। আল্লাহ অতি মহান ও দয়ালু। তার কাছে খাঁটি দিলে তাওবাহ করতে দেরী, তিনি ক্ষমা করতে দেরী করবেন না। দুনিয়ার লাখো-কোটি পাপি বান্দকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। হাজারো খুনি, মদ্যপায়ী, ব্যভিচারীকে তিনি ওলী বানিয়ে নিয়েছেন। এমনকি রাসূলের চাচা হযরত হামযা রাযি. এর খুনি ওয়াহশীকেও তিনি সাহাবীর মর্তবা দান করেছেন।
তিনি তো আমাদের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ! ভয় পাবার কিছু নেই। হাজারো গুনাহ করেছেন? মদ্যপান করেছেন? ব্যভিচার করেছেন? খুন করেছেন? এর চেয়ে আল্লাহর রহমত অনেক বেশি। একবার শুধু চোঁখের পানি ছেড়ে বলুন, হে দয়াময় আল্লাহ! আমি অপরাধী, আমি ভুল করেছি, তুমি আমাকে মাফ করে দাও, আজ থেকে তাওবাহ করলাম, জীবনে আর কখনো এই পাপ করবো না।” ইনশাআল্লাহ, আল্লাহ অবশ্যই মাফ করে দিবেন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 কুফর ও শিরক থেকে তাওবা

📄 কুফর ও শিরক থেকে তাওবা


দেখুন! কুফর ও শিরক অপেক্ষা গুরুতর অপরাধ জগতে আর কিছুই নেই। এ অপরাধ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা হলো- আমি এই গুনাহ ক্ষমা করবো না। এ ছাড়া অন্যসব গুনাহ ক্ষমা করে দিব। কিন্তু সেই কুফর ও শিরক থেকেও তো তাওবার পথ খোলা রেখেছেন। সত্তর বছরের একজন কাফের যদি তার কুফর ও শিরক থেকে তাওবা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 শয়তানের ধোঁকা

📄 শয়তানের ধোঁকা


কাজেই বান্দার হক বিষয়টা যদিও কঠিন, কিন্তু তারপরও সে ব্যাপারে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। শয়তান মানুষের অন্তরে হতাশা সৃষ্টির চেষ্টা করে। সে এই বলে প্ররোচনা দেয় যে, দেখ, তুমি কিন্তু গুনাহ করে মারদুদ ও অভিশপ্ত হয়ে গেছ। তোমার ক্ষমার কোনো পথ বাকি নেই। এখন জাহান্নামই তোমার ঠিকানা। সুতরাং এখন শুধু শুধু চেষ্টা করে লাভ নেই? তার চেয়ে নিজ মর্জিমত চলো। ফুর্তি করো, মজা লোটো, যত ইচ্ছা গুনাহ করতে থাক। এভাবে শয়তান হতাশার ফাঁদে ফেলে আরো বেশি গুনাহে লিপ্ত করে। দেখা যাচ্ছে হতাশাও শয়তানের একটা ফাঁদ। এ কারণেই হতাশাকে মনে একদম স্থান দেয়া উচিত নয়। হতাশ হওয়া মুমিনের কাজ নয়। যত বড় গুনাহই হয়ে যাক না কেন, তা আল্লাহ তায়ালার রহমত অপেক্ষা তো বড় হতে পারে না। তাঁর রহমতে ক্ষমাপ্রাপ্তির একটা না একটা উপায় লাভ হবেই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00