📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 হযরত থানভী রহ.-এর অভ্যাস

📄 হযরত থানভী রহ.-এর অভ্যাস


হযরত থানভী রহ. বলতেন, কেউ যখন আমাকে বলে, আমি আপনার গীবত করেছি আমাকে মাফ করে দিন। তখন আমি তাকে বলি, মাফ তো অবশ্যই করবো, কিন্তু তার আগে বলো, তুমি আমার সম্পর্কে কি কি কথা বলেছ? বলা বাহুল্য হকদারের জিজ্ঞেস করার পূর্ণ অধিকার আছে যে, 'তুমি আমার সম্পর্কে কি গীবত করেছ? তিনি বলেন, এটা জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্য হলো, কখনো কখনো গীবত সত্যও হয়ে থাকে। গীবতে যে সব ভুল কথাই হয়ে থাকবে তা জরুরী নয়। জিজ্ঞেস করে নিলে সত্য বের হয়ে আসে এবং নিজের মধ্যে দোষ থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, এর দ্বারা আপনার সম্পর্কে মানুষের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কী তাও জানা হয়ে যায়। যারা আশ-পাশে থাকে তারা তো প্রশংসাই করবে। আপনাকে সর্বদা ভালোই বলবে। কিন্তু পেছনে লোকেরা আপনার সম্পর্কে কি বলে, তারা আপনাকে কেমন মনে করে, তাও জানার দরকার আছে। এরও ফায়দা আছে। কেননা, সকলে যদি প্রশংসাই করে, তাতে অন্তরে নিজের সম্পর্কে সুধারণা সৃষ্টি হয় ও অহঙ্কার জন্ম নেয়। সকলেই আমার প্রশংসা করে। তাহলে তো আমার মধ্যে অনেক গুণ আছে এবং আমি অনেক উচ্চস্তরে পৌঁছে গেছি। তা না হলে লোকেরা আমার প্রশংসা কেন করবে? এভাবে অন্তরে অহঙ্কার পয়দা হয়ে যায়।
এই অহমিকা দূর করার জন্য পেছনে লোকেরা কি বলে তা জানা প্রয়োজন। তারা কি বলছে, কেমন ভাবছে এবং কেমন ধারণা পোষণ করছে- তা জানতে পারলে অহমিকার চিকিৎসা হয়ে যায়। তাই হযরত থানভী রহ. বলেন, আমার কাছে কেউ ক্ষমা চাইতে আসলে আমি তাকে বলি ক্ষমা তো অবশ্যই করবো, কিন্তু তার আগে বলো, কী কী গীবত করেছিলে? তা বললেই মাফ করে দিব।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 সকলের কাছে সাধারণ ক্ষমা চাওয়া উচিত

📄 সকলের কাছে সাধারণ ক্ষমা চাওয়া উচিত


প্রশ্ন হচ্ছে, ক্ষমা কার কার কাছে চাইবো? আগে তো এদিকে লক্ষ্য ছিল না। কতজনের গীবত হয়ে গেছে তার ঠিক নেই। এখন কি চিন্তা করে করে তাদের তালিকা তৈরি করবো এবং তারপর এক একজন করে প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাইবো? আমার শ্রদ্ধেয় পিতা রহ. বলতেন, ভাই জান্নাত তো এত সস্তা নয়। তা পেতে হলে যাদের হক নষ্ট করা হয়েছে তাদের কাছে মাফ চাইতে হবে। কাজেই নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আরো যত সম্পৃক্তজন আছে সকলের তালিকা তৈরি করো। অতঃপর তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 আমার শ্রদ্ধেয় পিতার ক্ষমা চাওয়া

📄 আমার শ্রদ্ধেয় পিতার ক্ষমা চাওয়া


আমার শ্রদ্ধেয় পিতা হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মাদ শফী রহ. যখন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি সেই সময়কার কথা। একবার চেতনা ফিরে এলে তিনি সর্বপ্রথম যে কথা আমাকে বলেছিলেন তা হলো-
'যত লোকের সাথে আমার সম্পর্ক আছে, তাদের সকলের কাছে আমার পক্ষ থেকে একটি চিঠি পাঠাও। লিখে দাও যে, আমার কাছে যদি কারো কোনো হক থেকে থাকে, কারো গীবত করে থাকি বা কারো কারো সাথে কোনো মন্দ আচরণ করে থকি, সে যেন তার বদলা নিয়ে নেয় অথবা আমাকে ক্ষমা করে দেয়। নির্দেশিত মোতাবেক আমি একখানা পত্র লিখে এবং 'তালাফি মা ফাতা' নামে প্রথমে 'আল বালাগ' পত্রিকায় ছেপে দেই। তারপর হ্যান্ডবিল আকারেও ছেপে তাঁর সাথে যাদের সম্পর্ক ছিল তাদের সকলের কাছে পাঠিয়ে দেই।
যা হোক বান্দার হকের প্রতিকার কেবল মৌখিক তাওবা দ্বারা হয় না; বরং হকদারের কাছ থেকেও ক্ষমা নেয়া জরুরী। গীবত করলে বান্দার হক নষ্ট করা হয়। তাই যার গীবত হয়ে গেছে, তার কাছেও ক্ষমা চাওয়া আবশ্যক।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 যার গীবত হয়েছে তার প্রশংসা করুন

📄 যার গীবত হয়েছে তার প্রশংসা করুন


হযরত থানভী রহ. বলেন, সেই সঙ্গে এটাও জরুরী যে, যাদের সামনে গীবত করা হয়েছিল, এখন তাদের সামনে সেই ব্যক্তির প্রশংসা করুন এবং আগের কথা যে ভুল ছিল তা বুঝিয়ে দিন। কেননা, আপনি তার কাছে তো ক্ষমা চাইলেন এবং আল্লাহ তায়ালার কাছে তাওবা-ইসতিগফার করে সম্পর্ক ঠিক করে নিলেন। কিন্তু গীবত দ্বারা মানুষের অন্তরে তার সম্পর্কে যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করেছিলেন, তা তো যথারীতি রয়ে গেল। তারও প্রতিকার অপরিহার্য। সে জন্য এখন তার প্রশংসা করুন এবং আগের কথা ভুল প্রমাণ করে দিন। তাদেরকে বলুন, আমি আগে তার সম্পর্কে যা বলেছিলাম, তা সঠিক ছিল না।
অতঃপর হযরত থানভী রহ. বলেন, সে কথা যদি ভুল না হয়ে সঠিক হয়ে থাকে, তবে বলে দিন ভাই! সেই কথার ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে খারাপ মনে করো না। কেননা, ওহী ছাড়া সত্য কথার উপরও পরিপূর্ণ বিশ্বাস হতে পারে না। অর্থাৎ গীবতকালে যদি কারো সত্যিকারের দোষের কথা বলা হয়, আর গীবত তো অনেক সময় সত্য কথারও হয়ে থাকে। তবে তো এখন একথা বলা যাবে না যে, সে কথা সঠিক ছিল না। কারণ তা বললে তো মিথ্যা বলা হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে বলে দিন যে, আমার সে কথার উপর বিশ্বাস রেখে তুমি অমুক সম্পর্কে কুধারণা করো না। কেননা, আমার নিজেরও এখন সে কথার উপর বিশ্বাস নেই।
কারণ, সত্যকথার উপর পরিপূর্ণ বিশ্বাস ওহী ছাড়া সম্ভব নয়। পরিপূর্ণ বিশ্বাসের জন্য চাই প্রত্যক্ষকরণ বা ওহী। এ ছাড়া শতভাগ বিশ্বাসের অন্য কোনো উপায় নেই। কাজেই এ কথা বলতে কোনো দোষ নেই যে, এখন সেই কথার উপর আমার নিজেরও বিশ্বাস ও আস্থা নেই। ইনশাআল্লাহ এর দ্বারা সেই গীবতের প্রতিকার হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00