📄 গীবতের বিস্তারিত বিররণ দেয়া জরুরী নয়
অতঃপর হযরত থানভী রহ. বলেন, কিন্তু گীবতে কি বলা হয়েছে তা বিস্তারিত বলতে গেলে তাতে তাকে কষ্টই দেয়া হবে। উদাহরণত, তাকে যদি বলা হয়, আমি অমুক দিন আপনার গীবত করেছি এবং তাতে আপনার সম্পর্কে এই এই কথা বলেছি, আপনি আমাকে মাফ করে দিন। এতে তার কষ্ট পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিস্তারিত বলে মাফ চাওয়ার দরকার নেই; বরং সংক্ষেপে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, আমি যা বলেছি, শুনেছি সব আপনি মাফ করে দিন। চিন্তা করে দেখুন! আল্লাহ তায়ালা কত সহজ উপায় করে দিয়েছেন।
📄 আমাকে ক্ষমা করে দিন
'যা বলেছি, শুনেছি সব মাফ করে দিন' এটা আমাদের বুযুর্গদের চালু করা অত্যন্ত সারগর্ভ একটা বাক্য। বুঝ হওয়ার পর থেকে তাদের মুখে বাক্যটি শুনে আসছি। দু'চারজন লোক একত্রে কিছুদিন থাকার পর যখন পরস্পর বিদায় গ্রহণ করতেন, তখন একে অন্যকে লক্ষ্য করে বলতেন, ভাই! 'আমার বলা শোনা সব মাফ করে দিও'। দু'চারজন সফরে বা দেশে একত্রে কিছুদিন থাকলে একের দ্বারা অন্যের কিছু না কিছু হক নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বিদায় গ্রহণের আগে মাফ করিয়ে নেয়া উচিত। সে সময় মাফ না করিয়ে যদি বিদায় নেয়, তারপর কখনো মনে পড়ে যে, অমুকের অমুক হক আমার দ্বারা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তখন তাকে কোথায় খুঁজে বেড়াবে? আদৌ জানা নেই তার সাথে আর কখনো দেখা মিলবে কি না এবং মাফ চাওয়ার সুযোগ হবে কি হবে না। কাজেই দেরি না করে বিদায় বেলাই ক্ষমা করিয়ে নেয়া চাই। বাক্যটি ব্যাপক অর্থবোধক। গীবতও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর দ্বারা ক্ষমা করানো হলে গীবতও আপনা আপনিই মাফ হয়ে যাবে।
📄 হযরত থানভী রহ.-এর অভ্যাস
হযরত থানভী রহ. বলতেন, কেউ যখন আমাকে বলে, আমি আপনার গীবত করেছি আমাকে মাফ করে দিন। তখন আমি তাকে বলি, মাফ তো অবশ্যই করবো, কিন্তু তার আগে বলো, তুমি আমার সম্পর্কে কি কি কথা বলেছ? বলা বাহুল্য হকদারের জিজ্ঞেস করার পূর্ণ অধিকার আছে যে, 'তুমি আমার সম্পর্কে কি গীবত করেছ? তিনি বলেন, এটা জিজ্ঞেস করার উদ্দেশ্য হলো, কখনো কখনো গীবত সত্যও হয়ে থাকে। গীবতে যে সব ভুল কথাই হয়ে থাকবে তা জরুরী নয়। জিজ্ঞেস করে নিলে সত্য বের হয়ে আসে এবং নিজের মধ্যে দোষ থাকলে তা সংশোধন করা সম্ভব হবে।
দ্বিতীয়ত, এর দ্বারা আপনার সম্পর্কে মানুষের নিরপেক্ষ মূল্যায়ন কী তাও জানা হয়ে যায়। যারা আশ-পাশে থাকে তারা তো প্রশংসাই করবে। আপনাকে সর্বদা ভালোই বলবে। কিন্তু পেছনে লোকেরা আপনার সম্পর্কে কি বলে, তারা আপনাকে কেমন মনে করে, তাও জানার দরকার আছে। এরও ফায়দা আছে। কেননা, সকলে যদি প্রশংসাই করে, তাতে অন্তরে নিজের সম্পর্কে সুধারণা সৃষ্টি হয় ও অহঙ্কার জন্ম নেয়। সকলেই আমার প্রশংসা করে। তাহলে তো আমার মধ্যে অনেক গুণ আছে এবং আমি অনেক উচ্চস্তরে পৌঁছে গেছি। তা না হলে লোকেরা আমার প্রশংসা কেন করবে? এভাবে অন্তরে অহঙ্কার পয়দা হয়ে যায়।
এই অহমিকা দূর করার জন্য পেছনে লোকেরা কি বলে তা জানা প্রয়োজন। তারা কি বলছে, কেমন ভাবছে এবং কেমন ধারণা পোষণ করছে- তা জানতে পারলে অহমিকার চিকিৎসা হয়ে যায়। তাই হযরত থানভী রহ. বলেন, আমার কাছে কেউ ক্ষমা চাইতে আসলে আমি তাকে বলি ক্ষমা তো অবশ্যই করবো, কিন্তু তার আগে বলো, কী কী গীবত করেছিলে? তা বললেই মাফ করে দিব।
📄 সকলের কাছে সাধারণ ক্ষমা চাওয়া উচিত
প্রশ্ন হচ্ছে, ক্ষমা কার কার কাছে চাইবো? আগে তো এদিকে লক্ষ্য ছিল না। কতজনের গীবত হয়ে গেছে তার ঠিক নেই। এখন কি চিন্তা করে করে তাদের তালিকা তৈরি করবো এবং তারপর এক একজন করে প্রত্যেকের কাছে ক্ষমা চাইবো? আমার শ্রদ্ধেয় পিতা রহ. বলতেন, ভাই জান্নাত তো এত সস্তা নয়। তা পেতে হলে যাদের হক নষ্ট করা হয়েছে তাদের কাছে মাফ চাইতে হবে। কাজেই নিজের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, আরো যত সম্পৃক্তজন আছে সকলের তালিকা তৈরি করো। অতঃপর তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নাও।