📄 সহানুভূতির উপর ভিত্তি করে প্রতিশোধ
দ্বিতীয় বুযুর্গ ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এবং প্রতিশোধ নিয়ে নিয়েছেন, তার আরেক রং। আচ্ছা বলো তো তিনি কি তোমার মত সমান ঘুষি মেরেছেন? না তোমার চেয়ে জোরে? সে বললো, আমি যেমন জোরে মেরেছি তেমনই জোরে সে আমাকে মেরেছে। তিনি বললেন, এটাই তার রং। তিনি চিন্তা করেছেন, আল্লাহ তায়ালা প্রতিশোধ নিতে অনুমতি দিয়েছেন। কাজেই আমি তা নিয়ে নেই। অনেক সময় প্রতিশোধ নেয়াটাও আল্লাহওয়ালাদের পক্ষ থেকে মমতা হয়ে থাকে। কেননা, ক্ষেত্রবিশেষ তাদের সবর আঘাতকারীদের পক্ষে অশুভ পরিণাম বয়ে আনে। হাদীসে কুদসীতে আছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন,
مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ أَذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সাথে শত্রুতা রাখবে, আমি তার সাথে যুদ্ধ ঘোষণা করি। (বুখারী-৬৫০২, ইফা.-৬০৫৮, সহীহহা-১৬৪০, জামিউস সগীর-১৭৮২, মিশকাত-২২৬৬, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
অনস্বীকার্য, বান্দার প্রতিশোধ অপেক্ষা আল্লাহর শাস্তি অনেক কঠোর হয়ে থাকে। সেই কঠোর শাস্তি থেকে রক্ষার উদ্দেশ্যেই বুযুর্গগণ অনেক সময় প্রতিশোধ নিয়ে থাকেন। এটা তাদের মমতা বৈকি? এই বুযুর্গ সেই কারণেই বদলা নিয়েছেন। এটা ছিল দ্বিতীয় রং।
📄 তৃতীয় রং
তৃতীয় বুযুর্গ চিন্তা করেছেন, আমার আর কতটুকু ব্যথা লেগেছে, আমাকে ঘুষি মেরে সেও কি ব্যথা পায়নি? এ চিন্তাতেই তিনি উঠে তার হাত টিপতে শুরু করেছেন। এটা হলো তৃতীয় রং।
কথা হচ্ছিল, অন্যের দূর্ব্যবহারে রাগ উঠলে বা অন্তরে মলিনতা জন্ম নিলে তাতে দোষ নেই এবং তা কোনো গুনাহও নোই। তবে সেই রাগের বশবর্তীতে যদি প্রতিশোধ নিতে যান এবং তাতে সীমালংঘন করে ফেলেন, তাহলে অবশ্যই গুনাহ হবে এবং সেজন্য আপনাকে জবাবদিহী করতে হবে। তাই প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা ক েদেয়া উত্তম। তাতে নিজেকে ঝুঁকিতেও ফেলা হলো না, আবার সবর ও ক্ষমার জন্য সাওয়াবও পেয়ে যাবেন।
📄 মানসিক প্রতিক্রিয়াকে স্থায়ী হতে দিওনা
অন্যের আচরণে অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় তাতে কোনো দোষ নেই এবং তার জন্য পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু সে প্রতিক্রিয়াকে অন্তরে বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়া উচিত নয়। কেননা, তা অন্তরে গেড়ে বসলে এক পর্যায়ে তা গুনাহে লিপ্ত করে ছাড়ে। হাসাদ বা পরশ্রীকাতরতার ব্যাপারটাও এরকমই। উদাহরণত, আপনি একজনকে আপনার চোখের সামনে (মর্যাদায়) বড় হতে দেখেছেন। তা দেখে অন্তরে এই ভাব জাগল যে, সে তো আমাকে ছাড়িয়ে গেল। আমি যদি তাকে পেছনে ফেলতে পারতাম। আহা তার টাকা পয়সা কত বেশি হয়ে গেছে। তার বাড়িটাও আমার বাড়ির চেয়ে বড়। তার গাড়িটাও বেশি দামী। চারদিকে তার প্রশংসা। আমার চেয়ে লোকেরা তারই প্রশংসা বেশি করে। তার স্থানে আমি থাকলে কত ভালো হত। এর সাথে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ভাবনাও জাগল যে, যদি তার এ অবস্থা খতম হয়ে যেত, আর আমি এসবের মালিক হতে পারতাম! এসব হলো মানুষের হিংসা, যা সম্পূর্ণ হারাম।
📄 অন্যথায় এ ভাবনা গুনাহে লিপ্ত করে ছাড়বে
কিন্তু মনের এ ভাব যদি স্থায়িত্ব পায়, তবে এক পর্যায়ে এই ভাবনা অনুযায়ী কাজও হয়ে যায়। এমন কিছু সে করে ফেলে যা পরিষ্কার করে দেয় যে, সে তার অকল্যাণ কামনা করছে। যেমন সে হয়ত তার জন্য বদদুআ করলো যে, হে আল্লাহ! তার এ নিয়ামত যেন শেষ হয়ে যায়। অথবা তার যেন ক্ষতি হয়ে যায়। এমন কোনো ব্যবস্থা নিল বা মানুষের অন্তর থেকে যাতে তার মান-সম্মান চলে যায়। এজন্য তাদের সামনে তার কোনো বদনাম করে দিল, কিংবা মনের যন্ত্রণা মিটানোর জন্য অন্য কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করলো। এসব দ্বারা মনের হিংসাকে বাস্তবায়ন করা হয়। এই বাস্তবায়ন করাটাই হারাম। অন্যথায় মনের ভেতর এসব ভাবনা-চিন্তা দেখা দেয়াটা হারাম ছিল না। হারাম হলো তখনই, যখন অন্তরে তা দানা বাঁধল এবং সেই মোতাবেক কোন কাজ করে ফেললো।