📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 মানসিক প্রতিক্রিয়া গুনাহ নয়

📄 মানসিক প্রতিক্রিয়া গুনাহ নয়


তেমনিভাবে কারো কোনো কথা বা কাজের দরুণ অন্তরে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, অর্থাৎ মনের ভেতর অবস্থার যে পরিবর্তন দেখা দেয়, তাও গুনাহ নয়। পরিভাষায় এটাকে 'ইনফিআল' বলে। ইনফিআল অর্থ অন্যের কোনো প্রভাব গ্রহণ করার ফলে অন্তরে কোনো অবস্থা সৃষ্টি হওয়া। যেমন, কেউ গালি দিলে মনে ভাবান্তর সৃষ্টি হয়, উত্তেজনা দেখা দেয়। কেনো সে আমাকে ও আমার বংশকে গালি দিল এ জন্য রাগ হয়। এই রাগ ও উত্তেজনাকে 'ইনফিআল' বলে। এটা ইচ্ছাতীত ব্যাপার। মানুষের স্বভাবের ভেতরই এটা থাকে। তাই এতে কোনো গুনাহ হবে না।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 প্রতিক্রিয়াকে কাজে পরিণত করা গুনাহ

📄 প্রতিক্রিয়াকে কাজে পরিণত করা গুনাহ


কোনো কোনো বুযুর্গ নফসকে এমনভাবে দমন করে থাকেন যে, তাদের রাগ আসেই না। কেউ ভালো-মন্দ যাই বলুক না কেন, তাতে তাদের অন্তরে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় না। তারা আল্লাহ তায়ালার খাছ বান্দা। সাধনার মাধ্যমে তারা তাদের নফসকে সম্পূর্ণ দমন করতে সক্ষম হয়েছেন।
কিন্তু এক্ষেত্রে কথা হলো সাধারণদের নিয়ে। সাধারণ একজন লোককে ভালো-মন্দ কিছু বলা হলে বা গালি দিলে তার অন্তরে प्रतिक्रिया দেখা দেবে। এ প্রতিক্রিয়ায় কোনো গুনাহ নেই। তার জন্য কোনো শান্তি দেয়া হবে না, নিন্দা করা হবে না এবং পাকড়াও করা হবে না। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখার পর যদি তার প্রকাশও ঘটে যায়, যেমন আপনাকে কেউ খবীস বললে জবাবে বলে দিলেন, তুই খবীস তোর বাপও খবীস। এভাবে অন্তরে যে রাগ দেখা দিয়েছিল তাকে কার্যে পরিণত করতে গিয়ে সীমালংঘন করলেন, এটা তো অবশ্যই দোষের। কেবল রাগ সৃষ্টি হওয়াটা দোষের ছিল না। মনে মলিনতা দেখা দেয়াটা কোনো গুনাহের কারণ ছিল না। এমনকি সেই রাগের বশবর্তীতে সমপরিমাণ বদলা নিলেও কোনো অন্যায় ছিল না। কিন্তু প্রতিশোধ নিতে গিয়ে যখন এক ইঞ্চি সামনে চলে গেলেন, তখন পাকড়াওয়ের মধ্যে পড়ে গেলেন। মানুষ রাগ অনুযায়ী কাজ করতে গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সীমা অতিক্রম করে ফেলে। এই বাড়াবাড়ি করে ফেলাটা বিপজ্জনক। কারণ, তাতে মানুষের ইচ্ছার ভূমিকা থাকে। আর ইচ্ছাধীন কাজের জন্য আখেরাতে পাকড়াও হবে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ক্ষমা করাই নিরাপদ

📄 ক্ষমা করাই নিরাপদ


উদাহরণত, কেউ যদি আপনাকে ঘুষি মারে আর আপনি বদলা নিতে চান, তবে কিভাবে নিবেন? নিতে হবে তো সমান সমান। একটুও বেশি নেয়া যাবে না। সে যেই ওজনের ঘুষি মেরে ছিল, আপনাকে ঠিক সেই ওজনেরই মারতে হবে। আপনারটা যাতে সমান ওজনের হয়, বেশি না হয়, এজন্য তো ঘুষি মাপার পাল্লা লাগবে। অন্যথায় সমান সমান করা কোনো মানুষের পক্ষে সম্ভবই নয়। এ কারণেই আল্লাহর নেক বান্দাদেরকে কেউ মারলে তারা প্রতিশোধ নিতে যান না। তারা ক্ষমা করাকেই নিরাপদ মনে করেন। কারণ, সামান্য পরিমাণও বেশি হয়ে গেলে যুলুম হবে এবং সেজন্য পাকড়াও হতে হবে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 বুযুর্গদের বিভিন্ন রং

📄 বুযুর্গদের বিভিন্ন রং


হযরত থানভী রহ. 'আরওয়াহে ছালাছা' নামক কিতাবে একটা ঘটনা লিখেছেন। এক ব্যক্তি জনৈক বুযুর্গের কাছে গিয়ে বললো, হযরত! শুনেছি বুযুর্গদের বিভিন্ন রং হয়ে থাকে। একজনের এক রং, অন্যজনের অন্য রং। সে রঙের বিভিন্নতা আমি দেখতে চাই। বুযুর্গ বললেন, ভাই কোন্ চক্করে তুমি পড়ে গেলে? রাখ এসব। কিন্তু সে লোক নাছোড় বান্দা। পীড়াপীড়ি করতে থাকল যে, তাকে তা জানাতেই হবে। শেষে বুযুর্গ বললেন, ঠিক আছে তুমি অমুক গ্রামে যাও। সেখানে মসজিদে তিনজন বুযুর্গ পাবে। তারা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল। তুমি গিয়ে পেছন থেকে প্রত্যেককে একটা করে ঘুষি মারবে। তারপর কি প্রতিক্রিয়া হয় এসে আমাকে জানাবে। কথামত লোকটি সেই গ্রামে গেল এবং এক-এক করে তিনও বুযুর্গকে তিনটি ঘুষি মারলো। ফিরে আসলে বুযুর্গ জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে বলো? সে বললো, আজব ঘটনা ঘটেছে। আমি যখন প্রথম বুযুর্গকে ঘুষি মারলাম, তিনি ফিরেও তাকালেন না। যথারীতি আপন যিকিরে মশগুল থাকলেন। যখন দ্বিতীয়জনকে ঘুষি মারলাম, তিনি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন এবং আমাকেও একটা ঘুষি মেরে দিলেন। তৃতীয়জনকে ঘুষি মারার পর দেখা গেল, অন্য আচরণ। তিনি উঠে আমার হাত টিপতে শুরু করলেন এবং বললেন, ভাই! আপনার হাতে ব্যাথা পেয়েছেন কি? ঘটনা শোনার পর বুযুর্গ বললেন, তুমি যে বুযুর্গদের রংয়ের ভিন্নতা দেখতে চাচ্ছিলে, এটাই সেই ভিন্নতা। একই আচরণের বিপরীতে তুমি তিনজন থেকে তিন ধরণের প্রতিক্রিয়া পেলে। একেই বুযুর্গদের রংয়ের পার্থক্য বলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00