📄 যুক্তির জবাব
এমন যুক্তির উত্তরে হযরত থানভী রহ. বলেন, প্রথম কথা হলো, অন্যদের থেকে যে পুণ্য পাওয়া যাবে, প্রতিকারের জন্য যে তা-ই যথেষ্ট হবে, এর তো কোনো প্রমাণ নেই। এমনও হতে পারে যে, অন্যদের থেকে পাওয়া পুণ্য তোমারই থেকে যাবে এবং তোমার উপার্জিত পুণ্য হকদারদেরকে দিয়ে দেয়া হবে। ফলে তুমি আটকা পড়ে যাবে। কেননা, নাজাতের জন্য অন্যদের থেকে পাওয়া পুণ্য হয়ত যথেষ্ট হবে না। দ্বিতীয়ত: তুমি যা পাবে আর যা অন্যকে দিবে তা সমপরিমাণ হবে বলে নিশ্চিত হও কী করে? এমনও তো হতে পারে যে, তুমি পাবে কম, আর তোমার থেকে নেয়া হবে বেশি। এ অবস্থায় পুরোপুরি প্রতিকার কিভাবে সম্ভব হবে?
অর্থাৎ গীবতকারীদের থেকে যে পুন্য তোমার অর্জিত হয়েছে ঠিক তাই যে তুমি যাদের গীবত করেছ তাদের কাছে যাবে এর প্রমাণ কী? এমনও তো হতে পারে যে, তোমার নামায, তোমার রোযা, তোমার তিলাওয়াত ও যিকির ইত্যাদির পুরো সাওয়াব তুমি যাদের গীবত করেছ তাদেরকে দিয়ে দেয়া হবে। আর অন্যদের সাওয়াব তোমার কাছে চলে আসবে। তাছাড়া উভয় সাওয়াব সমান সমান হওয়ারও কোনো প্রমাণ নেই। অর্থাৎ যে পরিমাণ সাওয়াব তোমাকে দেয়া হবে, ঠিক সেই পরিমাণই যে তোমার থেকে নেয়া হবে, তার কোনো দলিল নেই।
এসব কুযুক্তি ও অপব্যাখ্যা শয়তানই যোগায়। মানুষকে পাপাচারে লিপ্ত করার জন্যই সে প্ররোচনা দেয়, এই-এই করো, তাহলে আটকা পড়বে না। আখেরাতে যখন সাওয়াব ও পুণ্যের ব্যাপারটা সামনে আসবে, আর নিজের কামাই করা পুণ্য অন্যের কাছে চলে যাবে, তখনই বুঝা যাবে যে, শয়তানের ধোঁকা কত মারাত্মক ছিল।