📄 আগে ভাবুন পরে বলুন
কাজেই হযরত মির্যা মাজহার জানে জান রহ. যে সেই দুই শিক্ষার্থীকে বলখ ফেরত গিয়ে সেখানকার হাওয মেপে আসার শাস্তি দিলেন। এটা নিজ ইচ্ছামত দেননি। হয়তো আল্লাহ তাআলাই তাঁর অন্তরে এ ব্যবস্থা উদয় করে দিয়েছেন। একবার যখন ধাক্কা লেগে যাবে তা সারা জীবনের জন্য উপকার দেবে। উপকার ঠিকই দিয়েছিল। হযরত মির্যা সাহেব রহ. এর দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন যে, জবানের ব্যবহারে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী।
সতর্কতা কিভাবে অবলম্বন করা যাবে? হযরত থানভী রহ. সে সম্পর্কে বলেন, প্রথমে চিন্তা করবে, আমি যে কথা বলতে চাচ্ছি তা সঠিক কিনা? এতে কোনো সীমালংঘন নেই তো? কোনো রকম মিথ্যার সংমিশ্রণ বা অতিরঞ্জন কিংবা অসতর্কতা হয়ে যাচ্ছে না তো?
আমরা আজকাল এসব চিন্ত-ভাবনা ছেড়ে দিয়েছি। আর এ কারণেই যতসব ঝগড়া-বিবাদ ও অনর্থ-অশান্তির উৎপত্তি। কোনো একজন না জেনে, না শুনে চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই একটা কথা বলে ফেলে। সে ঠিক বলছে না বেঠিক, প্রকৃত ঘটনা স্মরণে রাখতে পেরেছে, নাকি ভুলে গেছে তার কোনো খবর নেই। বলে দিল আর তাই নিয়ে সকলে লেগে পড়ল। শুরু হয়ে গেল আত্মকলহ ও পরিবারে পরিবারে দ্বন্দ্ব। কাজেই প্রথমে চিন্তা করুন আসলে ব্যাপারটা কি ছিল, কী বলা হয়েছিল এবং কী পরিমাণে বলা হয়েছিল। তারপর কোথাও সেটা বলতে হলে সেই পরিমাণই বলুন যতটুকু প্রথম ব্যক্তি বলেছিল। নিজের পক্ষ থেকে একটি কথাও যেন যোগ করা না হয়।
হযরত থানভী রহ. বলেন, জবান তো সর্বক্ষণই চলছে, তা বকবক করতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। থামার কোনো নাম নেই। এ অবস্থায় সর্বক্ষণ চিন্তা করবেই বা কিভাবে? এর ভাব হচ্ছে, যে কোনো কাজ অনুশীলন দ্বারাই আয়ত্ত করা যায়। তাই অনুশীলন করতে হবে। প্রথমদিকে তো চিন্তা করার কথা খিয়ালই হবে না। কিন্তু চিন্তা করার প্রতি একটু মনোযোগ দিলে ক্রমে অভ্যাস গড়ে উঠবে। প্রথম দিকে চিন্তা করার কথা ভুলে গেলে অসুবিধা নেই। পরে যখনই মনে পড়বে চিন্তা করে নিবে। আবারও ভুলবে, আবারও মনে পড়বে। এভাবে দিন যেতে থাকবে আর অভ্যাসও গড়তে থাকবে। পরিশেষে একদিন এমন আসবে যে, ব্যাপারটা আয়ত্তে এসে যাবে। তখন চিন্তার জন্য বিশেষ যত্নের দরকার হবে না, চিন্তা আপনা-আপনিই এসে যাবে এবং তখন যে কথাই বলা হবে সঠিকই বলা হবে। গীবত, মিথ্যা কথা, অপ্রীতিকর কথা, অনর্থক কথা প্রভৃতি গুনাহ থেকে বাঁচার তাওফিক হবে।