📄 যে রসিকতা জায়েয নয়
সকল মানুষের মন-মেজাজ একরকম হয় না। যে কারণে কোনো কোনো বন্ধু তো রসিকতাকে সহজভাবেই নেয়। তাই তার সাথে শরীয়তের মধ্য থেকে যে কোনো রসিকতা করা চলে। অপরদিকে কিছু ক্ষ্যাপাটে প্রকৃতির লোক আছে, যারা রং- তামাশাকে সহজে নিতে পারে না। রসিকতা করলে তারা ক্ষেপে যায়। তারা এসব পছন্দ করে না। কিন্তু বন্ধু-বান্ধবেরা সে দিকে লক্ষ্য করে না, তারা মজা নেয়ার উদ্দেশ্যে তাদের সাথে আরো বেশি তামাশা করে। এটা করে তারা তো মজা পায়; কিন্তু যাকে নিয়ে মজা করে সে নিজেকে অপমানিত বোধ করে এবং সেজন্য মনে কষ্ট পায়। বন্ধুদের মনে রাখতে হবে যে, তারা যদিও সরল মনে ও রসিকতা করে তাকে সেসব কথা বলছে, কিন্তু সে যেহেতু তা গ্রহণ করতে পারছে না; বরং মনে কষ্ট পাচ্ছে, বিধায় এরকম হাসি-তামাশা করা তার সাথে জায়েয হবে না। কারণ, কোনো মুসলিমের মনে কষ্ট দেয়া জায়েয নেই।
হ্যাঁ, যার সম্পর্কে দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, সরলমনের এই রসিকতাকে খারাপ মনে করবে না, বরং সে এতে আনন্দ বোধ করবে, তার ক্ষেত্রে সামনে ও পেছনে সর্বাবস্থায় এরূপ কথা বলা জায়েয হবে। মোটকথা, বিষয়টা তিন প্রকার দেখা যাচ্ছে-
(১). মনে কষ্ট পাবে বলে নিশ্চিত থাকা। (২). মনে কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা। (৩). মনে কষ্ট পাবে না বলে নিশ্চিত থাকা।
প্রথম দুই অবস্থায় বন্ধুদের সাথে এরূপ আচরণ করা নাজায়েয এবং তৃতীয় অবস্থায় জায়েয। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে গীবত থেকে বেঁচে থাকার তাওফিক দান করুন।-আমীন
📄 গীবত থেকে বাঁচার উপায়
গীবত থেকে বাঁচার জন্য হযরত থানভী রহ. অত্যন্ত মূল্যবান এক ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। তিনি বলেন, চিন্তা-ভাবনা না করে কোনো কথা বিলকুল বলবে না। এ কথা সত্য যে, চিন্তা করার ব্যাপারটা সব সময় মনে থাকবে না। কিন্তু চিন্তা যে করতে হবে, সে দিকে লক্ষ্য রাখলে অধিকাংশ সময়ই মনে থাকবে। আর নিয়মিত চর্চা করতে থাকলে ইনশাআল্লাহ এক সময় অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। তারপর আর ভুল হবে না।
প্রশ্ন হচ্ছে, কথা বলার আগে কি চিন্তা করবো? এই চিন্তা করবে যে, আমি যে কথা বলতে যাচ্ছি তাতে গুনাহ হবে না তো? ইনশাআল্লাহ, এর মাধ্যমে অনেক কিছুরই সংশোধন হয়ে যাবে।
অর্থাৎ চিন্তা-ভাবনা ছাড়া কথা বলার অভ্যাস পরিত্যাগ করতে হবে। যা বলার চিন্তা করে বলতে হবে। চিন্তা করবে যে, আমি মুখে যে কথা উচ্চারণ করতে যাচ্ছি, তা আমাকে নাফরমানীতে লিপ্ত করবে না তো? এ কারণে আমি গুনাহে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছি না তো?