📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 ফাসেক ও পাপী ব্যক্তির গীবত করা

📄 ফাসেক ও পাপী ব্যক্তির গীবত করা


জনসাধারণের নিকট প্রসিদ্ধ আছে যে, ফাসেক ও পাপী ব্যক্তির গীবত করা জায়েয। কিন্তু সাধারণভাবে এ কথা ঠিক নয়; বরং নেককার লোকের গীবত যেমন জায়েয নেই তেমনই বদকারের গীবতও জায়েয নেই। কেউ কোনো গুনাহ প্রকাশ্যে করলে এবং তা এমন নির্লজ্জভাবে যে, সে জন্য তাকে ভালো-মন্দ যাই বলা হোক না কেন তার কোনো পরওয়া সে করে না। নির্দিষ্ট সেই গুনাহের কথা তার অনুপস্থিতিতে বলা জায়েয। উদাহরণত, এক ব্যক্তি প্রকাশ্যে মাদক সেবন করে এবং তা সকলকে জানিয়েই করে। এখন আপনি যদি তার আড়ালে বলেন যে, অমুক ব্যক্তি মদখোর। তবে তা জায়েয হবে। কেননা, আপনার এ গীবত করাতে সে কোনো কষ্ট পাবে না। সে নিজেই তো জানিয়ে বেড়াচ্ছে যে, আমি মদ খাই। তাই এটা নিষিদ্ধ গীবতের মধ্যে পড়বে না।
কিন্তু সেই বেক্তি যে গুনাহ প্রকাশ্যে নয়; বরং গোপনে করে এবং সে এই গুনাহের সাথে যুক্ত করে তার নাম প্রচার করা হোক সেটা তার পছন্দ নয়। সে ব্যক্তি এরকম প্রচারণায় দুঃখিত হয়। তার এই গুনাহের কথা তার অগোচরে বলাবলি করলে কিছুতেই তা জায়েয হবে না। যদিও ঘটনা সত্য হোক না কেন। কেননা, এটা নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত এবং সে কারণে এটা হারাম। তাই সকলের মুখে লাগাম পরাতে হবে। অন্যথায় তা আপনাকে গীবতের গুনাহে লিপ্ত করবে। মনে রাখতে হবে, গীবত নিজে করা যেমন হারাম, তেমনি অন্যের গীবত শুনাও হারাম।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 অন্য ব্যক্তি সম্পর্কে কথা না বলাই উচিত

📄 অন্য ব্যক্তি সম্পর্কে কথা না বলাই উচিত


হযরত থানভী রহ. বলতেন, সতর্কতার বিষয় হলো এই যে, অন্যের সম্পর্কে আলোচনাই করবে না। তার ভালোটাও বলার দরকার নেই, মন্দটাও বলার দরকার নেই। কেননা, অন্যের ভালোটা নিয়ে আলোচনা করবে তো এক পর্যায়ে শয়তান তার মধ্যে কি দোষ আছে সেই দিকে তোমাকে নিয়ে যাবে। শেষে বলবে, সে লোক তো খুব ভালো, কিন্তু তার মধ্যে এই দোষও খানিকটা আছে। সবচেয়ে এটাই ভালো যে অন্যের সম্পর্কে আলোচনা না করা।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নিজের চিন্তা নিজে করুন

📄 নিজের চিন্তা নিজে করুন


অন্যের সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়োজনই বা কিসের? চিন্তা করার মত বিষয় কি নিজের মধ্যে কম আছে? সে দিকেই নজর রাখুন।
تجھ کو پرائی کیا پڑی اپنی نیٹر تو
'পরকে নিয়ে ভাবছ কেন, নিজের পরিণাম কি হয় দেখ'।
যার নিজ দোষের প্রতি নজর থাকে, তার অন্যের দোষ খোঁজার অবকাশ কোথায়? যে নিজেই অসুস্থ, যে নিজেই পেট ব্যাথায় আক্রান্ত, অন্যের রোগ নিয়ে চিন্তা করার তার সময় কখন? সুতরাং প্রয়োজন নিজের দিকে নজর দেয়া। যে ব্যক্তি নিজের দিকে নজর রাখে এবং খোঁজ করে আমার মধ্যে কি কি দোষ আছে, আমার রোগের প্রতিকার কিভাবে হবে? কি উপায়ে আমার আত্মশুদ্ধি লাভ হতে পারে? কোন্ উপায়ে আত্মিক রোগসমূহ থেকে মুক্তি পাবো? এমন ব্যক্তি দ্বারা অন্যের গীবত হওয়া সম্ভব নয়। সে কিছুতেই পরনিন্দায় লিপ্ত হতে পারে না। শেষ মুগল সম্রাট বাহাদুর শাহ অত্যন্ত চমৎকার বলেছেন-
نہ تھی حال کی جب ہمیں اپنی خبر रहे ڈھونڈتے اور وں کے عیب و ہنر پڑی اپنی برائیوں پر جو نظر تو نگاہ میں کوئی برا نہ رہا
'ছিলাম না যবে আপন হাল সম্পর্কে সচেতন, খুঁজে ফিরেছি কেবল পরের দোষ- গুণ * সহসা যখন নজর পড়ল আপন দোষের প্রতি, তখন আর এ চোখে থাকল না কোনো লোকই মন্দ'।
কেননা, যখন নিজ দোষের প্রতি নজর পড়ল আর দেখতে পেলাম কত রকমের অসদগুণ আমার মধ্যে বিদ্যমান, তখন মনে হলো আমিই পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা খারাপ লোক। আমার চেয়ে খারাপ কোনো মানুষ কোথাও নেই। আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে আমাদেরকে আপন দোষের প্রতি দৃষ্টি দেয়া ও সেগুলো সংশোধনের তাওফিক দান করুন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00