📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নিজের ও অন্যদের জন্য একই নীতি গ্রহণ করুন

📄 নিজের ও অন্যদের জন্য একই নীতি গ্রহণ করুন


প্রত্যেকে কেবল নিজের আনন্দটাই দেখে। একথা খুব কম লোকেই চিন্তা করে যে, আমি অন্যের সাথে যে ব্যবহার করছি, অন্য ব্যক্তিও যদি আমার সাথে সেই রকম ব্যবহার করে, তখন আমার কাছে কেমন লাগবে? তখনো কি আমি আনন্দ বোধ করবো, নাকি বিষাদে আমার মন ভেঙ্গে যাবে? হাদীস শরীফে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এমনই এক ব্যবস্থা দান করেছেন, যা কেবল একজন নবীর পক্ষেই সম্ভব। অন্যদের জন্য অসম্ভব। এ ব্যবস্থাপত্র গ্রহণ করলে সমাজের যাবতীয় সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। এটাই পারস্পরিক কলহ-বিবাদ থেকে মুক্তির প্রকৃত ঔষধ। আমরা সে ঔষধ ভুলে গেছি বলেই সবরকম অন্যায়-অনাচার জন্ম নিচ্ছে। নববী জবানে সে প্রদত্ত ব্যবস্থাটি হলো-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
অর্থ: তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করবে, যা নিজের জন্য পছন্দ করে। (বুখারী-১৩, ইফা.-১২, মুসলিম-৪৫, তিরমিযী-২৫১৫, নাসাঈ-৫০১৬, ৫০১৭, ইবনে মাজাহ-৬৬, আহমাদ-১১৫৯১, ১২৩৫৪, ১২৩৭২, ১২৩৯০, ১২৭৩৪, ১২৯৯৪, দারিমী-২৭৪০, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
ব্যাখ্যা: অপর এক হাদীস দ্বারা এই হাদীসটির তাৎপর্য পরিপূর্ণভাবে অনুধাবন করা যায়। এক ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে আরজ করলো, আমি ইসলাম গ্রহণ করতে চাই, তবে ব্যভিচার ছাড়তে পারবো না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে কাছে নিয়ে বললেন, তুমি কি এটা পছন্দ করো যে, তোমার মা, তোমার বোন কিংবা তোমার মেয়ের সাথে অন্য কেউ ব্যভিচার করুক? সে সাথে সাথে জবাব দিল কষ্মিণকালেও না। যদি কেউ এরূপ করে আমি তাকে তরবারী দ্বারা দ্বি-খণ্ডিত করে ফেলবো। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে তুমি যে নারীর সঙ্গে ব্যভিচার করবে সেতো অবশ্যই কারো মা, কারো বোন কিংবা কারো মেয়ে হবে! আর তুমি যেহেতু এ কাজটি পছন্দ করো না, সুতরাং তুমি এ কাজটি করলে অন্য মুসলিম কীভাবে পছন্দ করবে?
এ কথা বলার সাথে সাথে সে অনুতপ্ত হলো এবং বললো যে, আমি তাওবাহ করছি জীবনে আর কখনো ব্যভিচার করবো না। কত চমৎকার উপদেশ! যদি মুসলিম জাতি এই একটি মাত্র উপদেশ গ্রহণ করে, তবে সমাজ থেকে ধোঁকা-প্রতারণা, চুরি-ডাকাতি, মারামারি-হানাহানি, যিনা-ব্যভিচার, ঝগড়া-বিবাদ সহ সকল অপকর্মের অবসান হয়ে যাবে, ইনশাআল্লাহ। (তোহফাতুল বারী শরহে সহীহ বুখারী-১/৯৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00