📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গোপন কথা প্রকাশ করাও কুৎসা রটানোর শামিল

📄 গোপন কথা প্রকাশ করাও কুৎসা রটানোর শামিল


ইমাম গাযালী রহ. 'ইহয়াউল উলূম' কিতাবে লিখেন, অন্যের কোনো গোপন বিষয় ফাঁস করে দেয়াও কুৎসা রটানোর অর্ন্তভুক্ত। কেউ চায়না যে, তার গোপন বিষয় ফাঁস হয়ে যাক। বিষয়টা ভালো না মন্দ তা বিবেচ্য নয়। ভালো ব্যাপারও কারো গোপন রাখার ইচ্ছা থাকতে পারে। উদাহরণত, একজন লোক বেশ সম্পদশালী। সে তার সম্পদের কথা অন্যদের কাছে গোপন রাখতে চায়। তার কী পরিমাণ সম্পদ আছে তা কেউ জেনে ফেলুক এটা তার ইচ্ছা নয়। আপনি কোনো উপায়ে জেনে ফেললেন যে, তার কাছে এত এত পরিমাণ সম্পদ আছে। এখন যদি আপনি তা অন্যদের কাছে গেয়ে বেড়ান এবং মানুষকে জানিয়ে দেন যে, সে এই পরিমাণ অর্থের মালিক। তবে আপনি তার গোপন কথা ফাঁস করে দিলেন। এই ফাঁস করে দেয়াটাও সম্পূর্ণ হারাম।
অথবা, এক ব্যক্তি তার পারিবারিক কোনো বিষয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করে রেখেছে। আপনি যে কোনো উপায়ে তার পারিবারিক পরিকল্পনার কথা জেনে ফেলেছেন। এখন যদি আপনি তা অন্যদের কাছে প্রকাশ করে দেন, তবে তা হবে কুৎসা রটানো। অনুরুপভাবে মানুষের যে কোনো গোপন বিষয় বিনা অনুমতিতে প্রকাশ করাটা কুৎসা রটানোর অর্ন্তভুক্ত হবে। সুতরাং তা অবশ্যই পরিত্যাজ্য।
এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
الْمَجَالِسُ بِالْآمَانَةِ
‘মজলিস আমানতের সাথে সম্পৃক্ত’।
অর্থাৎ, মজলিসে যে সব কথা হয় তাও আমানত। মজলিসে কোনো একজন আপনাকে গোপনীয়তা রক্ষাকারী ভেবে একটা কথা বললো। এখন আপনি যদি মজলিস থেকে বের হয়ে তা অন্যকে বলে দেন, তবে সেটা আমানতের খেয়ানত হবে। সেই সঙ্গে এটা কুৎসা রটানোর মধ্যেও পড়বে।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 যবানের দু’টি মারাত্মক গুনাহ

📄 যবানের দু’টি মারাত্মক গুনাহ


যা হোক আমরা মুখ দিয়ে যে সব গুনাহ করি তার মধ্যে গীবত ও কুৎসা রটানো সর্বাপেক্ষা মারাত্মক। আজ এ দু'টো সম্পর্কে আলোচনা করা উদ্দেশ্য ছিল। এ দু'টো যে কত গুরুতর আলোচনায় বর্ণিত হাদীস দ্বারা আপনারা তা বুঝতে পেরেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এ দু'টো যত গুরুতর, বর্তমানে আমাদের মধ্যে এর প্রতি উদাসীনতাও তত বেশি। ঘরে-বাইরে সর্বত্র সমানে এ দু'টো চলছে। জবান চলছে কাচির মত। থামার কোনো চেষ্টা নেই। আল্লাহর ওয়াস্তে জিহবায় লাগাম পরিয়ে নিন। আল্লাহ তায়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুকুম মোতাবেক তাকে চালানোর ফিকির করুন। তা না করার দরুন আজ ঘরে-ঘরে অশান্তি। পরস্পরে ঝগড়া-ফাসাদ। আপনজনদের মধ্যে শত্রুতা। আল্লাহ তায়ালাই জানেন এর ফলে কত রকমের গুনাহ ও কত প্রকারের ফাসাদ সৃষ্টি হচ্ছে। আর আখিরাতে এর জন্য যে শাস্তির ব্যবস্থা আছে, তা তো যথাস্থানে আছেই। আল্লাহ তায়ালা নিজ ফজল ও করমে আমাদেরকে এর মন্দত্ব ও কদর্যতা বোঝার তাওফিক দিন এবং আজকের আলোচনা অনুযায়ী আমল করার সাহায্য করুন।
واخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين

টিকাঃ
¹ আবূ দাউদ: ৪২২৬

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00