📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত থেকে কিভাবে বাঁচবেন

📄 গীবত থেকে কিভাবে বাঁচবেন


গীবত থেকে বাঁচার উপায় হলো, তার কদর্যতাকে মাথায় বসিয়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে দুআ করা যে, হে আল্লাহ! গীবত যে বড় কঠিন গুনাহ, আমি তার থেকে বেঁচে থাকতে চাচ্ছি। কিন্তু বৈঠক-মজলিসে বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনের সাথে যখন কথাবার্তা বলি, তাতে কারো না কারো গীবত হয়ে যায়। হে আল্লাহ! আমি দৃঢ় সংকল্প করেছি যে, ভবিষ্যতে আর কখনো কারো গীবত করবো না। কিন্তু আপনার তাওফিক ও সাহায্য ছাড়া এ সংকল্পে দৃঢ় ও অবিচল থাকা সম্ভব নয়। হে আল্লাহ! নিজ দয়ায় আমাকে সাহায্য করুন। আমাকে হিম্মত দিন এবং তাওফিক দিন যাতে এ সংকল্পে স্থির থাকতে পারি। এই দুআর পর আজই আমল করা শুরু করে দিন।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 গীবত পরিহারে দৃঢ় সংকল্প করুন

📄 গীবত পরিহারে দৃঢ় সংকল্প করুন


মানুষ যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো কাজ করার দৃঢ় সংকল্প না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে কাজ হয় না, হতে পারে না। অন্যদিকে শয়তানের কাজ হলো ভালো কাজে বাধা সৃষ্টি করা। মনের মধ্যে টালবাহানা সৃষ্টি করা। আজ নয় কাল শুরু করবো... এমন দোদুল্যমান চক্করে ফেলে দেয়া। ফলে ভালো কাজের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আমরা গড়িমসি করি। প্রতিদিনই বলি, ঠিক আছে কাল শুরু করবো। কালকের দিনটি যখন আসে, তখন কোনো ওযর দাঁড়িয়ে যায়। আবারও বলি আচ্ছা কাল করবো, এভাবে দিন চলে যায়, কিন্তু সে কাল আর আসে না। কাজেই কালের চক্রে না পড়ে, যে কাজ করার তা আজই করে ফেলুন। কেননা, কালকের জন্যে ফেলে রাখলে তা আর কখনই করা হবে না।

📘 গীবত ও তার ভয়াবহ ক্ষতি > 📄 নারীদের প্রতি বিশেষ নসীহত

📄 নারীদের প্রতি বিশেষ নসীহত


عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: يَا نِسَاءَ المُسْلِمَاتِ، لَا تَحْقِرَنَّ جَارَةً لِجَارَتِهَا، وَلَوْ فِرْسِنَ شَاةٍ
অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন: হে মুসলিম নারীগণ! তোমরা এক প্রতিবেশিনী অপর প্রতিবেশিনীকে তুচ্ছ (হিংসা) করবে না। এমনকি তা বকরির সামান্য খুর (গোশতযুক্ত হাঁড়) হলেও। (বুখারী-২৫৬৬, ৬০১৭, ৬০৪৭, ইফা.-২৩৯৬, মুসলিম-১০৩, ১০৩০, তিরমিযী-২১৩০, আহমাদ-৭৫৩৭, ৮০০৫, ৮০৭২, ৯২৯৭, ১০০২৯, ১০১৯৭, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)
ব্যাখ্যা: নারীরা সাধারণত হিংসুক ও কৃপণ স্বভাবের হয়ে থাকে। তাই আলোচ্য হাদীসে নারীদেরকে দু'টি ঔষধ প্রদান করা হয়েছে- (১). এক নারী অপর কোনো নারীকে হিংসা ও তুচ্ছ মনে করবে না, (২). অতি সামান্য পরিমাণ হলেও পরস্পর হাদিয়া বিনিময়ে করবে।' বেশি বেশি হাদিয়া বিনিময়ে দ্বারা পরস্পরের মাঝে মুহাব্বত পয়দা হয় এবং অন্তর থেকে হিংসা-বিদ্বেষ দূর হয়ে যায়। অপর এক হাদীসে খাছভাবে নারীদের উদ্দেশ্যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-'হে নারীজাতি! তোমরা বেশি বেশি দান-সদকা করো। কেননা, আমি জাহান্নামে নারীদের সংখ্যাই বেশি দেখেছি। সহীহ বুখারীর অপর এক বর্ণনায় উল্লেখ আছে। একদা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
أُرِيتُ النَّارَ فَإِذَا أَكْثَرُ أَهْلِهَا النِّسَاءُ، يَكْفُرْنَ قِيلَ: أَيَكْفُرْنَ بِاللَّهِ؟ قَالَ: يَكْفُرْنَ العَشِيرَ، وَيَكْفُرْنَ الإِحْسَانَ، لَوْ أَحْسَنْتَ إِلَى إِحْدَاهُنَّ الدَّهْرَ، ثُمَّ رَأَتُ مِنْكَ شَيْئًا، قَالَتْ: مَا رَأَيْتُ مِنْكَ خَيْرًا قَطُّ
অর্থাৎ, আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়। (আমি দেখি), তার অধিবাসীদের অধিকাংশই মহিলা; (এর কারণ) তারা কুফরী করে। জিজ্ঞেস করা হলো, তারা কি আল্লাহ্র সাথে কুফরী করে? তিনি বললেন: তারা স্বামীর অবাধ্য হয় এবং অনুগ্রহ অস্বীকার করে। তুমি যদি দীর্ঘকাল তাদের কারো প্রতি ইহসান করতে থাক, অতঃপর সে তোমার সামান্য ত্রুটি দেখলেই বলে, 'আমি কখনো তোমার কাছ থেকে ভালো ব্যবহার পাইনি।' (বুখারী-২৯, ৪৩১, ৭৪৮, ১০৫২, ৩২০২, ৫১৯৭, ইফা.-২৮, মুসলিম-৯০৭, আহমাদ-২৭১১, ৩০৬৪, ৩৩৭৪, হাদীসের শব্দাবলী বুখারীর)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00